খুঁজুন
, ,

কখনো মুচি কখনো ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে অপরাধের খবর খুঁজতেন সাংবাদিক আলিফ, হত্যার নেপথ্যে কী

মোহাম্মদ আবির হোসেন (এমটিভি বাংলা)
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
কখনো মুচি কখনো ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে অপরাধের খবর খুঁজতেন সাংবাদিক আলিফ, হত্যার নেপথ্যে কী

কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন সীমান্ত এলাকায়। উদ্দেশ্য ছিল মাদক কারবার, চোরাচালান ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনসহ নানা অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা। অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের এমন কর্মকাণ্ডের কথা জানিয়েছেন তার সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রগুলো। অপরাধের তথ্য প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার পর গুলিতে তার মৃত্যুর ঘটনায় এখন তার অনুসন্ধানের বিষয়গুলো ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

হত্যার আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আগামীকাল চাঞ্চল্যকর অপরাধের গডফাদারের তথ্য-প্রমাণ……’ প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আলিফ। কিন্তু সেই তথ্য আর প্রকাশ করা হয়নি। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে তার হত্যাকাণ্ডের পর প্রশ্ন উঠেছে, তিনি ঠিক কোন অপরাধের তথ্য সামনে আনতে যাচ্ছিলেন এবং সেই অনুসন্ধানের সঙ্গে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না।

মাদক, চোরাচালান ও সীমান্ত এলাকার অপরাধের পাশাপাশি কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়কে ঘিরে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়ে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনা ও আলিফ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং হত্যার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ
পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের দাবি, অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির কারণে আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারিতে দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকায় এবং নভেম্বরে সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাটে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

সহকর্মীদের ভাষ্য, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্ত অঞ্চলে মাদক কারবার, চোরাচালান এবং অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন তিনি। তথ্য সংগ্রহের জন্য কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ছদ্মবেশও ধারণ করতেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি। আগের হামলার ঘটনাগুলো তার অনুসন্ধানী কাজের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আলিফের মৃত্যুর আগে তার ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের ফেসবুক পেজেও অপরাধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত ছিল। সহকর্মীদের মতে, ওই পোস্টের সূত্র ধরে তার শেষ অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু শনাক্ত করা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন, কললিস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা, সংরক্ষিত নথি এবং অপ্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরির অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন
আলিফ হত্যার আগে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে পাঁচজন রোহিঙ্গা নাগরিকের ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের ঠিকানা হিসেবে রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নথিপত্র যাচাইয়ের সময় কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে।

এর আগে একই নির্বাচন কার্যালয়ে রোহিঙ্গা নাগরিকের এনআইডি তৈরির অভিযোগে কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল। আলিফের ফেসবুক পেজে তার মৃত্যুর আগে রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনে ভুয়া তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে অনুসন্ধানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধ বালু ব্যবসা ও পাথর উত্তোলন নিয়েও পোস্ট করেছিলেন তিনি।

জাতীয় পরিচয়পত্রের অপব্যবহার শুধু ভোটার নিবন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাংক হিসাব খোলা, মুঠোফোনের সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট তৈরি এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণেও এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে বিদেশি কোনো নাগরিক ভুয়া বাংলাদেশি পরিচয়ে এনআইডি পেলে তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ কারণে অভিযোগের তদন্তে আবেদনকারীদের পাশাপাশি নথি তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পুরোনো তথ্য
সীমান্ত অপরাধ ও রোহিঙ্গাদের পরিচয়সংক্রান্ত অভিযোগের আলোচনায় কয়েক বছর আগের একটি মাদক মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। নেত্রকোনা সদরের কে-গাতি ইউনিয়নের চুয়ারকান্দা গ্রামের ইলিয়াস কাদের বাবুলের বিরুদ্ধে অতীতে মাদকসংক্রান্ত মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।

২০২২ সালের মে মাসে ময়মনসিংহে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে বাবুল, তার রোহিঙ্গা স্ত্রী রোজিনা বেগমসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মাদক ব্যবসার সুবিধা নিতে বাবুল ওই নারীকে বিয়ে করেছিলেন। তার স্ত্রী ও আত্মীয়দের মাধ্যমে টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে ময়মনসিংহে সরবরাহ করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছিল।

বর্তমানে বাবুলকে ঘিরে যেসব অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে, তার মধ্যে রোহিঙ্গা স্ত্রী ও তার আত্মীয়দের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা এবং স্থানীয় পরিচয় ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পরিচয়পত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে আলিফ হত্যার সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত নয়।

হত্যার পরিকল্পনায় কারা, তদন্তে সেই প্রশ্ন
আলিফ হত্যার ঘটনায় মাঠপর্যায়ের হামলাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। সহকর্মীদের মতে, শুধু সরাসরি হামলাকারীকে শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; হত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা, অর্থের জোগান এবং ঘটনার আগে-পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পুলিশ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত টার্গেট কিলিং হিসেবে দেখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলিফের সহকর্মীরা বলছেন, তার শেষ অনুসন্ধান, আগে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা এবং হত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা দরকার।

তাদের মতে, আলিফ কোন তথ্য প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন, তার অনুসন্ধানের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, আগের হামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না এবং রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরির অভিযোগ, মাদক সরবরাহ ও সীমান্ত অপরাধের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। এ জন্য তার ডিজিটাল ডিভাইস, ব্যক্তিগত নোট, প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত প্রতিবেদন এবং মৃত্যুর আগের কয়েক দিনের যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন সহকর্মীরা।

গ্রেপ্তার আসামির এক দিনের রিমান্ড

এদিকে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বর এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আলিফ। পরে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরে ছয়টি গুলির আঘাত ছিল।

ঘটনার পর শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকার পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে সাজিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমশের আলীর ছেলে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুর্গাপুরে পুলিশের উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ বলেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

আলিফের মৃত্যুর পর তার পরিবার দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অন্যদিকে সহকর্মীরা অপেক্ষা করছেন, তার শেষ অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু এবং হত্যার পেছনের কারণ তদন্তে স্পষ্ট হবে। তাদের প্রত্যাশা, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি এর নেপথ্যে কোনো অপরাধচক্র বা পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও উদ্‌ঘাটন করা হবে

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে জনসমুদ্র, দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জনে উৎসবমুখর পরিবেশ

মো:আরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে জনসমুদ্র, দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জনে উৎসবমুখর পরিবেশ

দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ পর্বে প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আবেগ, আনন্দ ও উৎসবের আমেজ।

প্রতিবছর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। সমুদ্রসৈকতে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদেরও সমাগম ঘটে।

প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রতিমা বিসর্জন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

উল্লেখ্য, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

বাঞ্ছারামপুরে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে ধামাচাপার চেষ্টার দাবি পরিবারের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
বাঞ্ছারামপুরে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে ধামাচাপার চেষ্টার দাবি পরিবারের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দৌরিয়াদৌলত গ্রামের উত্তরপাড়ায় মাত্র ১০০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছরের এক মাদ্রাসার ছাত্রী ইসরাতকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার দাদার আপন ভাই জলিল মিয়ার বিরুদ্ধে।জানাযায় সৌদি প্রবাসী রোবেল সরকারের মেয়ে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।রোববার (১৮ অক্টোবর) পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। পূজা দেখতে গিয়ে সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটের দিকে বাড়ির পাশের হিন্দুপাড়ায় তার সঙ্গে অভিযুক্তের দেখা হয় বলে পরিবারের দাবি। পরে ১০০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।পরিবারের দাবি,আজ ২০ অক্টোবর সন্ধা সময় সালিশ বসার কথা,কিন্তু জলিল মিয়া বিচারে আসেনি, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে ধামাচাপা দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছিল। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার এতে সম্মত হয়নি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইন অনুযায়ী বিচার দাবি করছে।পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, শিশুটির বাবা ও চাচা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। দাদা-দাদিও চিকিৎসার প্রয়োজনে গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে গ্রামের বাইরে অবস্থান করছেন। এ সময় বাড়িতে শিশুটির মা ও চাচি ছিলেন বলে জানা গেছে।অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জলিল মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যও এ প্রতিবেদন তৈরির পর বিস্তারিত জানা যাবে।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দোষীর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা, শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১, হাসপাতালে ১

মো:আরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১, হাসপাতালে ১

কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। অপর একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি সৈকতের গুপ্ত খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাঁচ বন্ধু চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে পাঁচ বন্ধু সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। এ সময় প্রবল ঢেউ ও স্রোতের টানে পাঁচজনই পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও সৈকতের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। অপর একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে পঞ্চম বন্ধুর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পর্যটকের নাম রাকিব। নিহত তিন পর্যটক হলেন—আকাশ, হারুন ও সানি।

এ ঘটনায় সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।