জামায়াতের আকিদা নিয়ে প্রশ্ন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট নিয়ে আলেমদের নীরবতা কেন: রফিকুল ইসলাম মাদানী
জামায়াতে ইসলামীর আকিদা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে আলেমদের একাংশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব প্রশ্ন তোলেন। বক্তব্যে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট, গণতন্ত্রের ধর্মীয় মূল্যায়ন এবং আলেমদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, জামায়াতের আকিদা নিয়ে যাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তাঁদের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের বিষয়েও একইভাবে প্রশ্ন তোলা উচিত। রাজনৈতিক জোটের ক্ষেত্রে একেক দলের জন্য ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হলে তার যৌক্তিকতা স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক রাজনীতি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আপত্তিকর হলে এ বিষয়ে আলেমদের প্রকাশ্যে সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। গণতন্ত্রের রাজনীতি ফরজ, ওয়াজিব নাকি হারাম, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আলেমদের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন
বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, মামুন সাহেব জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকায় তরুণ আলেমদের একটি অংশ জামায়াতকে সঠিক মনে করতে পারে, এমন আশঙ্কা যাঁরা প্রকাশ করছেন, তাঁদের বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের জোটের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি ইসলামী দল নয় বলে তার সঙ্গে জোটের কারণে সাধারণ আলেমদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা না থাকলে জামায়াতের সঙ্গে জোটের ক্ষেত্রে ভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে কেন।
তরুণদের মধ্যে জামায়াতের প্রতি আগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে শুধু কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক জোটের বিরোধিতা না করে মাদ্রাসা ও খানকাগুলোতে গণতান্ত্রিক রাজনীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী জোট দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা
রফিকুল ইসলাম মাদানীর আশঙ্কা, মামুন সাহেবকে জামায়াতের জোট থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে বিরোধী রাজনৈতিক জোট দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে দেশে আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, এ বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আলেমদের গ্রেপ্তার ও বন্দিত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
আলেমদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা
বক্তব্যের শেষাংশে আলেমদের একটি অংশের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তাঁর মতে, আকাবির-আসলাফের আদর্শের কথা বলা হলে শাসকদের অন্যায়ের বিরোধিতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সেই আদর্শের প্রতিফলন থাকা উচিত।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আকিদার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা বলা হলেও গণতন্ত্র ও সেক্যুলার রাজনীতির বিষয়ে একই ধরনের অবস্থান দেখা যায় না কেন।
রফিকুল ইসলাম মাদানীর এ বক্তব্যে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট, গণতন্ত্রের ধর্মীয় মূল্যায়ন এবং আলেমদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। তবে তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]