খুঁজুন
, ,

মাদকমুক্ত আমিনবাজার ও পুলিশ সদস্য হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

মোঃ রবিউল ইসলাম সিয়াম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত আমিনবাজার ও পুলিশ সদস্য হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে মাদকবিরোধী মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্য মোঃ আলতাফ হোসেন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর আমিনবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মানুষ অংশ নেন। এ সময় মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানের পাশাপাশি আলতাফ হোসেন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আমিনবাজার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী রিয়াজ উদ্দিন ফালান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আমিনবাজার ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সদস্য মো. সাইফুদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাজী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী, আমিনবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হোসেন আলী, আবিদ হোসেন, চেয়ারম্যান, গ্রিন আমিনবাজার সমাজসেবা সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই আমিনবাজারকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।

তারা আরও বলেন, পুলিশ সদস্য মো. আলতাফ হোসেন হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় জড়িত কেউ যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা আমিনবাজারে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। পাশাপাশি এলাকার শান্তি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ আমিনবাজার গড়তে তারা ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্য আলতাফ হোসেন হত্যার সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

মানববন্ধন শেষে মাদক নির্মূল, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং পুলিশ সদস্য মো. আলতাফ হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।

তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম, প্রস্তাব নেয়নি: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম, প্রস্তাব নেয়নি: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে চৌকিদার ও ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হয়। দেশের যেখানেই অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই তারা কথা বলবেন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত টাঙ্গাইল জেলার দায়িত্বশীলদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েও সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংসদের ভেতরে বারবার কথা বলেও কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার কুরআনের আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে এমন আইন পাস করেছে, যা সুস্পষ্টভাবে কুরআনবিরোধী। এই সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল, তারা অনির্বাচিত কাউকে ক্ষমতায় বসাবে না। কিন্তু এখন তারা এর উল্টোটা করছে।”

‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’ এমন কথা বলে জামায়াতকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ

দেশের অতীতের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, “১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় অনেক মানুষ না খেয়ে মারা গেছেন। তখন রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে থাকত। সেই ধরনের একটি পরিস্থিতি পার করে এসেছে এই দেশ।”

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষের সময় বিএনপি বা জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় ছিল না; শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার তখন ক্ষমতায় ছিল। ওই সময় দুর্ভিক্ষ ও সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ঠেকাতে ব্যর্থতার পাশাপাশি রাজনৈতিক গুম, খুন ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

২৮ অক্টোবরের ঘটনা স্মরণ

আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নির্মমতার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল থেকেই সমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। বেলা ১১টার দিকে লগি-বৈঠা ও অস্ত্রধারীরা জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালায় বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিজয়নগর, তোপখানা রোড ও মুক্তাঙ্গন থেকে পল্টন মোড় হয়ে সমাবেশস্থলে আসে। পরে পল্টনের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হামলায় জামায়াত ও শিবিরের একের পর এক নেতা-কর্মী আহত হন। কয়েকজনকে লগি-বৈঠা দিয়ে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় এবং লাশের ওপর উল্লাস করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জ্বালানি সংকটে শিল্প খাত নিয়ে উদ্বেগ

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প খাতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াত আমীর।

তিনি বলেন, “জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন আরও কমতে থাকলে মালিকদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

প্রয়োজনে অন্য খাত থেকে কাটছাঁট করে শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

‘চাঁদাবাজি-সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ।”

চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “দুর্নীতিতে লাগাম টানা না গেলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “জনগণ আমাদের কাছে বলে, আপনাদের (সরকারের কাছে) কাছেও নিশ্চয় বলে, দুর্নীতির মাত্রা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা যদি আমরা লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে যত পরিকল্পনাই আমরা নিই, কোনো পরিকল্পনাই আসলে সফলতার মুখ দেখবে না।”

গণঅভ্যুত্থানের পর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, ওই সময়ের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এমনকি গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেশে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাতে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে।

‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব’

জনগণের দাবি আদায়ে লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, “দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব। আমরা জনগণের দাবি আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। একদিন জনগণের দাবি পূরণ হবেই।”

জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, ইফসুর সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সেক্রেটারি শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া এনসিপির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের কারণেই আওয়ামী লীগ মিছিল করার সাহস পাচ্ছে: রাশেদ খাঁন

এইচ এম রাহুল, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
জামায়াতের কারণেই আওয়ামী লীগ মিছিল করার সাহস পাচ্ছে: রাশেদ খাঁন

গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল করার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়া এবং সচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের কারণেই আওয়ামী লীগ আবারও মাঠে নামার সাহস পাচ্ছে। ১৯৯৬ সালেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে জামায়াত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের কারণেই আওয়ামী লীগ আবারও মাঠে নামার সাহস পাচ্ছে। ১৯৯৬ সালেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে জামায়াত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের কারণেই আওয়ামী লীগ আবারও মাঠে নামার সাহস পাচ্ছে। ১৯৯৬ সালেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে জামায়াত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গুলশানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের পেছনে জামায়াতের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। জামায়াতের কারণে তারা আন্দোলন করার সাহস পাচ্ছে।

রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরলে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর মেনে নেবে না।

এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালিতে অংশ নেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎সুন্দরবনে বনরক্ষীদের অভিযানে হরিণ শিকারের বিশাল ফাঁদ ও ট্রলার জব্দ

‎ ‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
‎সুন্দরবনে বনরক্ষীদের অভিযানে হরিণ শিকারের বিশাল ফাঁদ ও ট্রলার জব্দ

পূর্ব সুন্দরবনের নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলারসহ চার বস্তা হরিণ শিকারের মালা ফাঁদ জব্দ করেছে বনরক্ষীরা। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা শিকারীরা সুন্দরবনের গভীরে

‎শুক্রবার ভোরে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় বনরক্ষীদের নিয়মিত টহল দলের তৎপরতায় একটি বড় ধরনের হরিণ শিকারের অপচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বনরক্ষীরা একটি সন্দেহভাজন ট্রলারকে থামার নির্দেশ দিলে ৬ থেকে ৭ জন শিকারী ট্রলারটি বনের পাড়ে ভিড়িয়ে সুন্দরবনের ভেতর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তী সময়ে তল্লাশি চালিয়ে ওই ট্রলার থেকে চার বস্তা ভর্তি বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের মালা ফাঁদ জব্দ করা হয়। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং শিকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বনের ভেতরে প্রবেশ করে অবৈধভাবে হরিণ শিকার করা। পালিয়ে যাওয়া শিকারীরা সংখ্যায় ৬ থেকে ৭ জন ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের আটকের জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

‎অভিযানের সময় ট্রলারটি সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে বনরক্ষীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেটিকে টেনে শেলারচরে নিয়ে আসে এবং তল্লাশি চালিয়ে বস্তাভর্তি মালা ফাঁদগুলো উদ্ধার করে। শেলারচর টহল ফাঁড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিকারী চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে ককশিটের বাক্স ভর্তি বরফ এবং শিকারের অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে সমুদ্রপথ ব্যবহার করে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল। ট্রলারটি সাগরে কিছুটা ডুবে যাওয়ায় বরফসহ কিছু লজিস্টিক সাপোর্ট ভেসে গেলেও মূল হাতিয়ার তথা চার বস্তা মালা ফাঁদ বনরক্ষীদের হাতে চলে আসে। এই ফাঁদগুলোর উপস্থিতি স্পষ্ট করে যে, চক্রটি বড় কোনো প্রস্তুতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিল এবং তাদের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট কোনো চরে ফাঁদ পেতে নির্বিচারে হরিণ হত্যা করা। দীর্ঘ দিন ধরে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পেছনে এই ধরনের সংঘবদ্ধ শিকারী চক্রগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের এই অপতৎপরতা রোধে বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নিয়মিত টহল ও কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

‎ঘটনার পর সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাতপরিচয় শিকারীদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে বন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। শরণখোলা রেঞ্জের এসিএফ মো. শরীফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, বনের প্রাণিসম্পদ রক্ষায় বনরক্ষীরা সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো অবস্থাতেই চোরা শিকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরনের সফল অভিযਾਨের মাধ্যমে শিকারী চক্রগুলোর মনোবল ভেঙে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে কেবল ফাঁদ বা ট্রলার জব্দ করাই যথেষ্ট নয়, বরং এই চক্রের সাথে জড়িত স্থানীয় বা বাহ্যিক কুশীলবদের শেকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে সুন্দরবনের স্পর্শকাতর এলাকায় হরিণ শিকারের এই অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে দমন করা সম্ভব হবে।

‎সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বিশ্ব ঐতিহ্য এই বনের বন্যপ্রাণী সুরক্ষার ক্ষেত্রে হরিণ শিকারীদের এই ধরণের তৎপরতা একটি দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এবং দুর্গম এলাকা হওয়ায় নারিকেলবাড়িয়া ও শেলারচর অঞ্চলগুলো প্রায়শই শিকারী চক্রের টার্গেটে থাকে, যা বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে তোলে। বর্তমান ঘটনায় ট্রলার ও ফাঁদ জব্দ হলেও শিকারীদের পলায়ন প্রমাণ করে যে, এই অপরাধ চক্রগুলোর সাথে জড়িতদের ধরতে আরও নিবিড় ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। পরিবেশবাদীরা মনে করেন, সুন্দরবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেবল বন বিভাগের অভিযানই নয়, বরং স্থানীয় জেলের বেশে ঘুরে বেড়ানো অসাধু চক্রগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী শিকারের দুঃসাহস না দেখায়।