খুঁজুন
, ,

তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর খুলল শ্রমবাজার, ১-২ মাসের মধ্যে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর আশা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর খুলল শ্রমবাজার, ১-২ মাসের মধ্যে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর আশা

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সরকারের আশা, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা দূর হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। একই সঙ্গে সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার, যাতে কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়।

তবে শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, জনশক্তি রফতানির পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আবারও এ বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০৮ সালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেশটি। পরে ২০১৬ সালে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলেও ২০১৮ সালে একই ধরনের অভিযোগে আবারও কর্মী নিয়োগ স্থগিত করা হয়। এরপর ২০২২ সালের আগস্টে নতুন করে কর্মী পাঠানো শুরু হলেও ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়।

সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে সেই জটিলতার সমাধান হয়েছে এবং এর ফলে আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে।

এদিকে, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও শেষ মুহূর্তে আটকে পড়া ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে। মন্ত্রী জানান, এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। বাকি কর্মীদের পাঠানোর বিষয়ে সরকার দ্রুত পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন, শুধু মালয়েশিয়া নয়, অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য, জাপান ও মরিশাসের শ্রমবাজার নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির খবর আসতে পারে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সরকার নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বিদ্যমান বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়ার ঘোষণায় বিদেশে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা হাজারো বাংলাদেশির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে এই সুযোগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিমুক্ত কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই হবে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

‘শিক্ষাই গড়বে সোনার বাংলা’ স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ‘স্বপ্নছোঁয়া মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নোয়াগাঁও স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলার নোয়াগাঁও ক্যামব্রিয়ান স্কুলে এ আয়োজন করা হয়।

স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. বাবুল খন্দকার।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিয়ে তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার এবং ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকেরা বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা বিকাশ, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ। শুধু শিক্ষা উপকরণ বিতরণ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখানো, তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করা এবং একটি শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবক মো. জাকির হোসেন, আলমগীর হোসেন, মো. শাকিল চৌধুরী, মো. আল আমিন, মো. রেজাউল করিম , মো. মাজহারুল ইসলাম প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল এনাম রনি।

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পিকআপ জব্দ

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পিকআপ জব্দ

ঢাকার আশুলিয়ায় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-উত্তর) বিশেষ অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ মো. জামাল মিয়া ওরফে সেলিম (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ জব্দ করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সাভারে ঢাকা জেলা ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম খান।

তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানাধীন কবিরপুর রেডিও কলোনী জামে মসজিদের সামনে সড়কে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে একটি পিকআপে গাঁজা নিয়ে চন্দ্রা থেকে বাইপাইলের দিকে আসা হচ্ছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে কবিরপুর রেডিও কলোনী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় পিকআপ থেকে ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া জব্দ করা নীল রঙের নম্বরপ্লেটবিহীন ফোটন পিকআপটির আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকা।

গ্রেপ্তার জামাল মিয়া ওরফে সেলিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার বনগজ এলাকার বাসিন্দা। ডিবি পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে তিনটি মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলা ও একটি চুরির মামলা রয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা ডিবি-উত্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই শেখ মফিজুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

ঢাকার আশুলিয়ায় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানকে পথরোধ করে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় জামাল হোসেন মুকুলের স্ত্রী মোছা. আলো বেগম (৪০) ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।তিনি দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় কর্মরত আছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে আশুলিয়ার বাইপাইল শান্তিনগর এলাকায় সিদ্দিকের বাড়ির সামনে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের দাবি, ওই সময় এলাকাটি নির্জন ছিল এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি বুঝে তিনি সিদ্দিকের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং চিৎকার করলে বাড়ি থেকে লোকজন বেরিয়ে আসেন। পরে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যান। এ সময় অন্ধকারে আরও কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি তাঁর। তাঁদের নেতৃত্বে কাউছার নামে এক ব্যক্তি ছিলেন বলেও জানান তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের অভিযোগ, জামাল হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে অতীতে প্রতারণার অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল। ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর সন্দেহ।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন ওই সাংবাদিক।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলী বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।