খুঁজুন
, ,

লামার ইয়াংছার অংহ্লারী পাড়ায় খালের পানিই ভরসা ৪ শতাধিক মানুষের!

এস এম আকাশ : স্পেশাল ক্রসপেন্ডেন্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
লামার ইয়াংছার অংহ্লারী পাড়ায় খালের পানিই ভরসা ৪ শতাধিক মানুষের!

আর্সেনিকের কারণে পরিত্যক্ত একমাত্র টিউবওয়েল, নিরাপদ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ; জরুরি ভিত্তিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি পাড়াবাসীর।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বনফুর এলাকার অংহ্লারী পাড়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

প্রায় ৪ শতাধিক মানুষের এই পাড়ায় নিরাপদ পানির নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস নেই। একসময় পুরো পাড়ার ভরসা ছিল একটি টিউবওয়েল, কিন্তু আর্সেনিকের কারণে তা এখন পরিত্যক্ত। ফলে বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে পার্শ্ববর্তী খালের পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। চার শতাধিক মানুষের
ভরসা এখন খালের পানি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মাত্র টিউবওয়েলই ছিল অংহ্লারী পাড়ার ৪ শতাধিক মানুষের পানির একমাত্র উৎস। সেটি আর্সেনিকযুক্ত হওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে রান্না, গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কাজে খালের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই পানির গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। ফলে জনস্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত> ৩ নং ফাঁসিয়াখালী লামার অন্যতম বৃহৎ ইউনিয়ন হলেও ইয়াংছা-বনফুরের মতো প্রত্যন্ত জনপদগুলো এখনো নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট নয়, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকারও নিশ্চিত করা জরুরি।

“গভীর নলকূপ স্থাপনে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা”
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে পাড়াবাসী দ্রুত একটি গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এ জন্য তাঁরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, লামা উপজেলা প্রশাসন এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা ও গুণগত মান যাচাই করে দ্রুত নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি স্থাপিত উৎসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পানির মান পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নিরাপদ পানি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক অধিকার। খালের পানির ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি এবং নিরাপদ সুপেয় পানির নিশ্চয়তাই এখন অংহ্লারী পাড়াবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।

কক্সবাজারে যুক্তির আলো ছড়াতে যাত্রা শুরু জেলা ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে যুক্তির আলো ছড়াতে যাত্রা শুরু জেলা ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের

যুক্তিনির্ভর চিন্তাশক্তির বিকাশ, শুদ্ধ ও দায়িত্বশীল মতপ্রকাশের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে বিতর্কচর্চায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের (District Debate Association, Cox’s Bazar) নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

১০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এ কমিটি জেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনে গঠিত কমিটি পরবর্তী অনুমোদিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।

নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষার্থী সানজিদুল ইসলাম মাহিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কক্সবাজার সরকারি কলেজের ফাহমিদা হাসান হেভা। মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রোদসী হোসাইন হৃদি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন কক্সবাজার মহিলা কলেজের সাদিয়া আকতার সাদিয়া।

কমিটির সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের মঈন খান ইরফান এবং কক্সবাজার সরকারি কলেজের আসিফা বিনতে রিমু ও তানভীর উদ্দীন। সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এস. এম. লুৎফুর কবির। সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তাফহীম উদ্দীন মুত্তাকী এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন তানজিদুল ইসলাম আজাদ। তাঁরা দুজনই কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাস্টার্স মাদরাসার শিক্ষার্থী।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন রামু সরকারি কলেজের তুষার ইমরান আকিব ও মোর্শেদুল হক, কক্সবাজার সিটি কলেজের মোরসালিন ওসামা ও জাকিয়া খানম, কক্সবাজার মহিলা কলেজের তাসনিয়া আমিন মীম এবং বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফারহানা ইয়াসমিন মুক্তা ও তাসনিয়া বিনতে জীহাদী।

অ্যাসোসিয়েশনের মডারেটর প্যানেলে রয়েছেন সাবেক বিভাগীয় বিতার্কিক মঈন উদ্দিন রাকিব এবং সাবেক জাতীয় বিতার্কিক রাজিন সালেহ।

১১ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনে নতুন কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক এম. এম. সিরাজুল ইসলাম; কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজাউল করিম মোহাম্মদ তারেক; শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমির পরিচালক জসিম উদ্দিন বকুল; সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন; কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. এমডি শাহীন আব্দুর রহমান চৌধুরী; কক্সবাজার সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মিঠুন চক্রবর্তী; জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (NAEM) প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী মোজাফফর আহম্মেদ; কক্সবাজার সিটি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক জেবুননেসা; কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তামান্না নওরিন আজিম; ইউনিয়ন হাসপাতাল, কক্সবাজারের চেয়ারম্যান হাসনা হুরাইন চৌধুরী এবং কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদরাসার ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ হাসান আলী।

নতুন এ কমিটির মাধ্যমে কক্সবাজারে বিতর্কচর্চাকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী মনন, বিশ্লেষণী দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং দায়িত্বশীল মতপ্রকাশের সক্ষমতা বিকাশে কাজ করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে জেলায় একটি ইতিবাচক ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কসংস্কৃতি গড়ে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।

সংবাদ প্রকাশের পর যুবদল থেকে আশিক মাদবরকে অব্যাহতি

রবিউল মোল্লা শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর যুবদল থেকে আশিক মাদবরকে অব্যাহতি

এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক আশিক মাদবর জিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের তথ্য গোপন করে জেলা যুবদলের কমিটিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্য গোপন করে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের কমিটিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগে আশিক মাদবর জিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটিতে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে আশিক মাদবর জিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। তার নাম কমিটিতে আসার পর থেকেই স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

তাদের অভিযোগ, আশিক মাদবর জিয়া ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ এসব তথ্য গোপন করে তিনি যুবদলের জেলা কমিটিতে পদ পেয়েছেন।

পরে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে এশিয়া পোস্টে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, আশিক মাদবর জিয়া ২০২২ সালে গঠিত ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা শাখার কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি সংগঠনটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এ ছাড়া ২০২৪ সেশনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং ২০২৫ সেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুল ও কলেজ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৬ সেশনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরপর তথ্য গোপন করে জেলা কমিটিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তাকে দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবির বলেন, আশিক মাদবর তথ্য গোপন করেছিল বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। পরে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানোর পর তারা তাকে তথ্য গোপন করার কারণে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে।

লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে একজন গ্রেপ্তার

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে একজন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহতকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তি সুমন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। প্রায় এক মাস আগে বসতঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান তিনি। সূত্রের দাবি, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন।

সুমনকে শনাক্ত করার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বোন, বোনের স্বামী ও খালাশাশুড়িকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুমনের একটি রিল ছড়িয়ে পড়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে তাজমিনের চলাচলের চিত্র

বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যায়। অটোরিকশাটির মালিক জানিয়েছেন, সেটির চালক সুমন। গাড়িটির নিবন্ধনও রয়েছে।

পুলিশ তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফেরা আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে তাজমিন।

এরপর তাকে হোটেলের পাশের খাবারের দোকান এবং পশ্চিম পাশের কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যেতে দেখা যায়। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে। এ সময় দোকানিকে তাজমিনকে কিছু দেখাতে বা কোনো দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়।

ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে দোকানের সামনে কিছু দেখার পর সেখান থেকে অন্য পাশে চলে যায় তাজমিন। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর বাড়ি ফেরার জন্য সে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে।

বাবাকে পাঠিয়েছিল লাইভ লোকেশন

নিহত তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার ধানমন্ডিপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় তার একমাত্র মেয়ে। শহরে এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হলেও পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায় তাজমিন। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় সে।

বুধবার রাতে মেয়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন আবদুল আলীম। কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

আবদুল আলীম বলেন, বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে তার মেয়ে মোবাইল ফোনে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠায়। বার্তায় তাকে গিয়ে নিয়ে আসতে বলে তাজমিন।

তিনি বলেন, “তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।”

মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তাজমিনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তা নিশ্চিত করা হয়।

ওসি জানান, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই বলে জানা গেছে।

তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।