খুঁজুন
, ,

জামায়াতের আকিদা নিয়ে প্রশ্ন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট নিয়ে আলেমদের নীরবতা কেন: রফিকুল ইসলাম মাদানী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
জামায়াতের আকিদা নিয়ে প্রশ্ন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট নিয়ে আলেমদের নীরবতা কেন: রফিকুল ইসলাম মাদানী

জামায়াতে ইসলামীর আকিদা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে আলেমদের একাংশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব প্রশ্ন তোলেন। বক্তব্যে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট, গণতন্ত্রের ধর্মীয় মূল্যায়ন এবং আলেমদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, জামায়াতের আকিদা নিয়ে যাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তাঁদের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের বিষয়েও একইভাবে প্রশ্ন তোলা উচিত। রাজনৈতিক জোটের ক্ষেত্রে একেক দলের জন্য ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হলে তার যৌক্তিকতা স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণতান্ত্রিক রাজনীতি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আপত্তিকর হলে এ বিষয়ে আলেমদের প্রকাশ্যে সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। গণতন্ত্রের রাজনীতি ফরজ, ওয়াজিব নাকি হারাম, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আলেমদের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন

বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, মামুন সাহেব জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকায় তরুণ আলেমদের একটি অংশ জামায়াতকে সঠিক মনে করতে পারে, এমন আশঙ্কা যাঁরা প্রকাশ করছেন, তাঁদের বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের জোটের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি ইসলামী দল নয় বলে তার সঙ্গে জোটের কারণে সাধারণ আলেমদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা না থাকলে জামায়াতের সঙ্গে জোটের ক্ষেত্রে ভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে কেন।

তরুণদের মধ্যে জামায়াতের প্রতি আগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে শুধু কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক জোটের বিরোধিতা না করে মাদ্রাসা ও খানকাগুলোতে গণতান্ত্রিক রাজনীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী জোট দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা

রফিকুল ইসলাম মাদানীর আশঙ্কা, মামুন সাহেবকে জামায়াতের জোট থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে বিরোধী রাজনৈতিক জোট দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে দেশে আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, এ বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আলেমদের গ্রেপ্তার ও বন্দিত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

আলেমদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা

বক্তব্যের শেষাংশে আলেমদের একটি অংশের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তাঁর মতে, আকাবির-আসলাফের আদর্শের কথা বলা হলে শাসকদের অন্যায়ের বিরোধিতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সেই আদর্শের প্রতিফলন থাকা উচিত।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আকিদার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা বলা হলেও গণতন্ত্র ও সেক্যুলার রাজনীতির বিষয়ে একই ধরনের অবস্থান দেখা যায় না কেন।

রফিকুল ইসলাম মাদানীর এ বক্তব্যে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট, গণতন্ত্রের ধর্মীয় মূল্যায়ন এবং আলেমদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। তবে তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

গাইবান্ধায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে জামায়াত নেতার পদত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
গাইবান্ধায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে জামায়াত নেতার পদত্যাগ

সুন্দরগঞ্জে জামায়াত নেতার পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি চাঁদ মিয়া

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগ করা ওই নেতার নাম মো. রাশেদুল ইসলাম বাবু। তিনি উপজেলার বামনডাঙা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর পদত্যাগের পর ইউনিয়ন শাখার ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে চাঁদ মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাশেদুল ইসলামের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শহিদুল ইসলাম মঞ্জু।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে উপজেলা আমির বরাবর লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন রাশেদুল ইসলাম বাবু। আবেদনে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।

পদত্যাগপত্রে রাশেদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাঁর ওপর অর্পিত সাংগঠনিক দায়িত্ব নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে আসছেন। তবে বর্তমানে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাঁর পক্ষে যথাযথভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদন জমা দেন।

এদিকে, বামনডাঙা ইউনিয়ন জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে চাঁদ মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বামনডাঙা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, বিষয়টি জানার পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী একজনকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শহিদুল ইসলাম মঞ্জু।

ফুলবাড়ী বিএনপির কমিটিতে ৬ সরকারি চাকরিজীবী, আহ্বায়ক-সদস্য সচিব দুজনই প্রধান শিক্ষক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
ফুলবাড়ী বিএনপির কমিটিতে ৬ সরকারি চাকরিজীবী, আহ্বায়ক-সদস্য সচিব দুজনই প্রধান শিক্ষক

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির ২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে সরকারি স্কুল-কলেজ ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ছয় চাকরিজীবীর থাকার অভিযোগ উঠেছে। কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব, দুই শীর্ষ পদেই রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সরকারি চাকরিবিধিতে রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ গ্রহণ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ থাকায় এ কমিটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ যৌথ স্বাক্ষরে ২০ সদস্যের এ কমিটির অনুমোদন দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাসু। আর সদস্যসচিব করা হয়েছে পূর্ব কুরুষা ফিরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুলকে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁরা এ পদ পেয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কবির মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন, যতীন্দ্র নারায়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সরকারি সাইফুর রহমান কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক শাহীনুর রহমান এবং অগ্রণী ব্যাংকের ফুলবাড়ী শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা তহিদুল হক।

কমিটি নিয়ে পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ

কমিটি ঘোষণার পর ফুলবাড়ীতে পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে জেলা নেতাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, “এ কমিটিকে কোনোভাবেই দলীয় কমিটি বলা যাবে না। এটি মূলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কমিটি। জেলা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব সম্পূর্ণ অনিয়ম করে তাঁদের কমিটিতে বসিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ড ও কেন্দ্রীয় নেতাদের লিখিতভাবে জানানো হবে।

চাকরিবিধি নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ বিধির আলোকে সরকারি চাকরিতে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে পদ গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসু বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে এবং সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ কারণে তাঁরা দুজনই চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

কমিটির সদস্য ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেনের চাকরির মেয়াদ আর এক বছর রয়েছে বলেও জানান হাসু।

তিনি বলেন, “আমাদের বিপক্ষ পার্টি এসব করছে। আমি ছাত্রদলের সভাপতি ছিলাম, যুবদলের সভাপতি ছিলাম। আওয়ামী লীগ-বিএনপি, কারও আমলে আমার চাকরি যায়নি।”

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, চাকরিবিধি অনুযায়ী সরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া, পদ গ্রহণ, দলীয় সভা-মিছিল কিংবা নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়গুলো বিধিমালার আওতাভুক্ত।

তিনি আরও বলেন, ফুলবাড়ীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের রাজনৈতিক দল বা কমিটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কমিটি নিয়ে বক্তব্য জানতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

সরকারি চাকরিতে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ।

নওগাঁর পোরশায় চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে সিজার, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ডায়াগনস্টিক হাসপাতালের মালিক গ্রেফতার

মিনহাজুল ইসলাম (জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ )
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নওগাঁর পোরশায় চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে সিজার, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ডায়াগনস্টিক হাসপাতালের মালিক গ্রেফতার

চিকিৎসকের পরিবর্তে অজ্ঞাত ব্যক্তি দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন এবং চিকিৎসার চরম অবহেলার কারণে এক সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকায় “আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতাল” এর মালিক মোঃ আহসান হাবিব (৪০)কে গ্রেফতার করেছে পোরশা থানা পুলিশ। গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেলে মোঃ আমিন (৩৮), পিতা-আঃ রাকিব, সাং-বিষ্ণুপুর, থানা- পোরশা, জেলা-নওগাঁ তার প্রসববেদনায় আক্রান্ত স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে নিরাপদ চিকিৎসার প্রত্যাশায় নওগাঁর “আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতাল”-এ ভর্তি করেন।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোসাঃ শারমিন আক্তার রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যালোচনা করে সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের যোগ্যতা ও সুনামের ওপর আস্থা রেখে বাদী অপারেশনের সম্মতি দেন এবং হাসপাতালের যাবতীয় খরচ পরিশোধ করেন। কিন্তু ল্যাব এন্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর পরিবারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এক চরম প্রতারণার আশ্রয় নেন। তারা ডাঃ শারমিন আক্তারের পরিবর্তে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে দিয়ে ভিকটিমের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করান।

অপারেশনের পর থেকেই মা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রকৃত ঘটনা গোপন করে সময়ক্ষেপণ করে এবং পরবর্তীতে শিশুটিকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়। সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বাদী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নবজাতককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালেও শেষ রক্ষা হয়নি।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। এই মর্মান্তিক ও প্রতারণামূলক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী পরিবারের আদালতে মামলার প্রেক্ষিতে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার, জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুততার সাথে গ্রেফতারের জন্য অফিসার ইনচার্জ পোরশা থানা, নওগাঁকে নির্দেশ প্রদান করেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও সম্পৃক্ততা পেয়ে পোরশা থানা পুলিশের একটি টিম এজাহারনামীয় আসামী (আল মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতাল মালিক) মোঃ আহসান হাবিব (৩১), পিতা-মৃত আনিছুর রহমান, মাতা-রাবেয়া বেগম, সাং-শহরন্দ, থানা-পোরশা, জেলা-নওগাঁকে সরাইগাছী এলাকা থেকে আজ ১৪ই অক্টোবর গ্রেফতার করে।

ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।