খুঁজুন
, ,

খুলনায় তিন মণ ঘোড়ার মাংসসহ আটক-১, তিন মাসের কারাদণ্ড

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, খুলনা।
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
খুলনায় তিন মণ ঘোড়ার মাংসসহ আটক-১, তিন মাসের কারাদণ্ড

খুলনায় বিষাক্ত ও জবাইকৃত ঘোড়ার মাংসসহ আনিসুর রহমান ওরফে পলাশ মাহমুদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে এসআরআরবি (র‍্যাব-৬)। পরবর্তীতে পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর পোড়াবাড়ি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল ফার্মে’ এ অভিযান পরিচালিত হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত পলাশ মাহমুদ কাঞ্চনপুর এলাকার মৃত লুৎফর রহমান মাহমুদের ছেলে।
পুলিশ ও অভিযান সূত্রে জানা যায়, এসআরআরবি (র‍্যাব-৬) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মোহাম্মদ জিহাদের নির্দেশনায় ও অফিসার নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে র‍্যাবের একটি অভিযানিক দল কাঞ্চনপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তিনটি জবাই করা ঘোড়ার প্রায় তিন মণ মাংস এবং একটি জীবিত ঘোড়াসহ মূলহোতা পলাশ মাহমুদকে হাতেনাতে আটক করে। তবে আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সহযোগীরা টিনের প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ২৪ অক্টোবর শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আশরাফুল কবির, এসআরআরবি (র‍্যাব-৬)-এর সঙ্গীয় ফোর্স ও ডুমুরিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাস্থলে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৯’-এর ১৬ (ক) ধারায় সাজাপ্রাপ্ত পলাশ মাহমুদকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিচার কাজ শেষে জব্দকৃত মাংস মাটির নিচে পুঁতে বিনষ্ট করা হয় এবং জীবিত ঘোড়াটিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনছুর আলী শেখের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাজাপ্রাপ্ত পলাশ মাহমুদ স্বীকার করেছে, সে ও তার চক্রটি এর আগেও অন্তত ১৬টি ঘোড়া জবাই করে অসদুপায়ে বিভিন্ন স্থানে মাংস বিক্রি করেছে।
অভিযানের বিষয়ে এসআরআরবি (র‍্যাব-৬) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মোহাম্মদ জিহাদ বলেন, “অপরাধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ঘোড়া জবাই করে অসদুপায়ে সেই মাংস গরু বা খাসির মাংস বলে বিভিন্ন স্থান ও হোটেলে বিক্রি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত একটি আভিযানিক দল পাঠাই এবং হাতেনাতে চক্রটির মূল হোতাকে আটক করতে সক্ষম হই। এ ধরনের অসাধু ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আশরাফুল কবির জানান, “জব্দকৃত মাংস গুলো ঘোড়ার মাংস। নিয়মবহির্ভূত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করা এই মাংস গুলো বিষাক্ত ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। আইন অনুযায়ী মাংস গুলো মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়েছে।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গাজী আব্দুল কুদ্দুস, খুলনা
মোবা ০১৭২২-৩১০৬২৬
তারিখ ২৪/১০/২৬।

কক্সবাজারের ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের ডাকাতি মামলার সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১৫

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারের ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের ডাকাতি মামলার সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১৫

কক্সবাজারের বহুল আলোচিত ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মো. ইমাম হোসাইন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হাসনাকাটা এলাকায় ‘হাসনাকাটা সবুজ বাংলা যুব সমাজ’ কার্যালয়ের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

এসআরবি-১৫-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নটির সদর দপ্তরের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেপ্তার ব্যক্তির গত ১৯ অক্টোবর ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালা নামক পাহাড়ি এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ব্যাটালিয়নটি। এ ঘটনায় ঈদগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মো. ইমাম হোসাইন রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের হাসনাকাটা এলাকার মৃত মোক্তার আহাম্মদের ছেলে।

পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।

সূত্র: এসআরবি-১৫-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি, ২৪ অক্টোবর ২০২৬।

মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে আপত্তি ছিল না, গার্ড অব অনার নিয়ে প্রশ্ন মাসুদ সাঈদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে আপত্তি ছিল না, গার্ড অব অনার নিয়ে প্রশ্ন মাসুদ সাঈদ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী দাবি করেছেন, মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না। আপত্তি ছিল তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, মানিক পশারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বাবা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া মানিক পশারী রোববার গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মারা যান। পরে তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মাসুদ সাঈদীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর স্থানীয় জনগণ গার্ড অব অনার প্রদানে আপত্তি জানায় এবং মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলেও পোস্টে দাবি করেন তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা

পোস্টে মাসুদ সাঈদী লেখেন, জনগণকে শান্ত রাখতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁরা চেষ্টা করেছেন। অতীতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যেসব অন্যায়ের অভিযোগ রয়েছে, সেসবের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে জনগণকে বোঝানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এবং পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও দলীয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুদ সাঈদী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জনগণের ক্ষোভ সামাল দেওয়া কঠিন ছিল।

ট্রাইব্যুনালে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ

নিজের পোস্টে মাসুদ সাঈদী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানিক পশারীর জবানবন্দি ও জেরার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ট্রাইব্যুনালে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মানিক পশারী বলেছিলেন, তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেননি, তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন।

মাসুদ সাঈদীর পোস্টে উদ্ধৃত বক্তব্য অনুযায়ী, মানিক পশারী আরও বলেছিলেন, তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। তবে ওই চিঠি কখন দেওয়া হয়েছিল, তা তাঁর মনে নেই বলে উদ্ধৃত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

এই বক্তব্যের ভিত্তিতে মাসুদ সাঈদী অভিযোগ করেন, মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম কাজ করেছে।

চার দফা দাবি মাসুদ সাঈদীর

ফেসবুক পোস্টে মাসুদ সাঈদী চারটি দাবি ও প্রশ্ন তুলে ধরেন।

প্রথমত, মানিক পশারীকে কারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করেছেন এবং কীভাবে তিনি সরকারি ভাতা পেয়েছেন, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি।

দ্বিতীয়ত, তাঁকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সরকারি ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন, তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তৃতীয়ত, সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তিনি।

চতুর্থত, মানিক পশারীর নাম মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল এবং তাঁকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা বন্ধ করার দাবি জানান মাসুদ সাঈদী।

জড়িতদের বিচারের দাবি

পোস্টের শেষাংশে মাসুদ সাঈদী অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও দেশের স্বাধীনতার সম্মান রক্ষায় এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

তবে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তি, তাঁর গেজেটের বৈধতা এবং এ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা হত্যায় মামলা, প্রধান আসামি ছাত্রদল নেতা রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা হত্যায় মামলা, প্রধান আসামি ছাত্রদল নেতা রিজভী

নিহত যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলাম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলামকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিজভীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় নিহত জহিরুল ইসলামের ভাগনে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন। গত বুধবার রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় জহিরুলকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সাবেক ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসাইনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেওয়ায় তিনি বিভিন্ন সময় হুমকি ও চাপের মুখে ছিলেন।

মামলার প্রধান আসামি রিজভী আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহতের এক স্বজন অভিযোগ করেন, মামলার এজাহার থেকে ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসাইনের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তাঁদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁরা উপযুক্ত সময়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

মামলার এজাহারে বাদী ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁর মামা ফকির জহিরুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষের কয়েকজন তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ ছাড়া তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আড়াইহাজারের পুরোনো থানা-সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ডে রিজভী ও তাঁর লোকজন জহিরুলের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় জহিরুল বাদী হয়ে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

বাদীর অভিযোগ, আগের মামলার আসামিদের পাশাপাশি অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও জহিরুলকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ কারণে তিনি গ্রামের বাড়িতে না থেকে সোনারগাঁয়ের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানে ফার্মেসির ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। এসব কারণে রিজভীসহ অন্য আসামিরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

যেভাবে হামলার শিকার হন জহিরুল

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার রাত আটটার দিকে ফার্মেসি বন্ধ করে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন জহিরুল। রাত সাড়ে আটটার দিকে চর হোগলা এলাকার কাশেমনগরে দারুস সুন্নাহ খালেদ সিদ্দিকী মডেল মাদ্রাসার কাছে একটি কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে রিজভীর নেতৃত্বে এজাহারভুক্ত ২১ জন আসামি ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, রামদা, ছুরি, দা, লোহার রড ও লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তাঁরা জহিরুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপান এবং লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাঁকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এজাহারে আরও বলা হয়, রাত পৌনে নয়টার দিকে এক পথচারী জহিরুলের মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তাঁর ভাগনে ইসমাইল হোসেনকে ফোন করে হামলার খবর দেন। পরে ইসমাইলসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত জহিরুলকে অটোরিকশায় করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথে জহিরুল হামলাকারীদের কয়েকজনের নাম ও তাঁদের আঘাতের বিবরণ জানান। হাসপাতালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশের বক্তব্য

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক প্রথম আলোকে বলেন, যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

এজাহার থেকে কারও নাম বাদ দেওয়ার জন্য নিহতের স্বজনদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, তদন্তে হত্যাকাণ্ডে যাঁদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, এজাহারে নাম না থাকলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিহত ফকির জহিরুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় থেকে সোনারগাঁয়ের চর কিশোরগঞ্জ বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন।