কখনো অচেনা মানুষের আশ্রয়, কখনো প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগ। সবশেষে দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে পরিবারের কাছে ফিরছে ১১ বছরের শিশু আঁখি। হারিয়ে যাওয়া এই শিশুকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন। তার আন্তরিক উদ্যোগে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে দাউদকান্দি পৌরসভার স্থানীয় এক বাসিন্দা শিশুটিকে খুঁজে পান। শিশুটি জানায়, তার নানার বাড়ি পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলায়। কিন্তু নানার বাড়ি কোন গ্রামে, তা বলতে পারছিল না সে। ফলে পরিচয় ও ঠিকানা নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসেন ইউএনও মো. জাকির হোসেন। শিশুটিকে নিজের জিম্মায় রেখে তার পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান পেতে উদ্যোগ নেন তিনি।
পরে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক আইডিতে শিশুটির পরিবারের সন্ধান চেয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। স্থানীয় সাংবাদিকসহ ও মেঘনা ভোরের কাগজের সাংবাদিক এ নিয়ে ফলাও করে নিউজ করে। এ বিষয়ে আরও তৎপর হন কুমিল্লার কাগজের সাংবাদিক আলমগীর হোসেন।
পাশাপাশি দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশও শিশুটির স্বজনদের খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করে।
প্রশাসনের আন্তরিকতায় ফলে অবশেষে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।
উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের নির্দেশে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা টিপু সুলতানের তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে ঢাকার সুত্রাপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিশুটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাবার নাম গিয়াস উদ্দিন এবং মায়ের নাম রোকসানা। তাঁদের বাড়ি ঢাকার ধূপখোলা, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর এলাকায়। গিয়াস উদ্দিন পেশায় একজন ফল বিক্রেতা। চার ভাইবোনের মধ্যে আঁখি সবার ছোট। তার বড় দুই ভাই ফারুক ও রবিন এবং বড় বোন পারুল।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, “শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বর্তমানে সে পরিবারের জিম্মায় রয়েছে।
কাঁদতে কাঁদতে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা:
সন্তান হারানোর কষ্ট যে কতটা গভীর, তা কেবল একজন মা-ই অনুভব করতে পারেন। আর সেই সন্তানকে ফিরে পাওয়ার খবর যেন অন্ধকারে আশার আলো। আঁখির মা রোকসানা আক্তার জানান, আমি দাউদকান্দি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দেয়—মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ থাকলে প্রশাসনের একটি উদ্যোগও অসহায় পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটাতে পারে। ইউএনও জাকির হোসেনের উদ্যোগে আঁখির পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি সেই মানবিকতারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এ বিষয়ে সমাজকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিক তৌফিক রুবেল বলেন, ইউএনও মো. জাকির হোসেন স্যারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি হারানো শিশু তার পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছে এটা একটা ভালো বার্তা। শিশুটি ওনার কাছে না আসলে দিকভ্রান্ত হয়ে অন্য কোন খপ্পরে পড়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এসব থেকে শিশুটি নিরাপদ ছিল ; এজন্য ইউএনও স্যারকে মানবিক মানুষ হিসেবে ধন্যবাদ জানাই।
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]