স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল, যুবদল নেতা বহিষ্কার
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে স্থানীয় এক যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম শফিকুল ইসলাম সজল (৪২)। তিনি গৌরীপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, নৈতিক স্খলন এবং অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শফিকুল ইসলাম সজলকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় যুবদল নেতা সজলকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি মো. হান্নান মিয়াকে (৩৫) গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে সজল ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি গোপন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন এবং সেই মুহূর্তটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার কুপ্রস্তাব ও ধর্ষণ করা হয়। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরিবার আইনের আশ্রয় নেয়।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, মামলার পর পরই প্রধান আসামিকে ধরতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামiniকে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]