খুঁজুন
, ,

কাপাসিয়ায় পিএনজি-ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫

গাজীপুর কাপাসিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
কাপাসিয়ায় পিএনজি-ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫

গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের হানঘড়া ব্রীজের কাছাকাছি পিএনজি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শামীম নামে এক সিএনজি চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর কাপাসিয়া উপজেলার টোক তদন্ত কেন্দ্রের আওতাধীন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবার নাম সিদ্দিক।
আহতদের মধ্যে শরিফা খাতুন, স্বামী আবদুল্লাহ এবং লিজা আক্তার, পিতা আবদুল্লাহ—উভয়েই নেত্রকোনার কেন্দুয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আহত অপর তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিএনজি ড্রাম ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টোক তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রাশেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সিএনজিটি জব্দ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ এবং দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে

শ্রমিক তৌফিকের স্মরণে দোয়া, বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

গাজীপুর প্রতিনিধি: শেখ মোরশেদ আলম জিসান
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
শ্রমিক তৌফিকের স্মরণে দোয়া, বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জেলার প্রায় ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। তবে উৎপাদনের চাপ থাকায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কারখানায় সীমিত পরিসরে কাজ চলেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের কোথাও নতুন করে শ্রমিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ ছিল। তবে কাজের চাপ থাকায় কিছু কারখানায় অতিরিক্ত সময়ের ভিত্তিতে উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, শনিবার (৭ নভেম্বর) বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিজিএমইএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোশাক কারখানা বন্ধ থাকবে। এ সময়ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

*নিহত শ্রমিক তৌফিকের স্মরণে দোয়া মাহফিল*

এদিকে শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আন্দোলনের সময় নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা এবং এবি পার্টির নেতারা এতে অংশ নেন। আয়োজকদের অভিযোগ, পুলিশি বাধার কারণে চৌরাস্তায় দাঁড়িয়েই তাঁদের কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে।

দোয়া মাহফিল শেষে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির বিষয়ে সরকারকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নিহত শ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সড়কের নাম তৌফিকের নামে নামকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় আগামী তিন দিনের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় নতুন করে আন্দোলন শুরু হতে পারে।

*যেভাবে শুরু হয় শ্রমিক অসন্তোষ*

উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন।

আন্দোলনের মধ্যে বাংলাবাজার এলাকায় বিক্ষোভের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

তবে কয়েক দিনের অস্থিরতার পর শুক্রবার নতুন কোনো সহিংসতার ঘটনা না ঘটায় শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরেছে। শ্রমিক, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

সাভারে জাল সাক্ষরে মন্দিরের চাল আত্মাসাৎ, হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা

মোঃ রবিউল ইসলাম সিয়াম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
সাভারে জাল সাক্ষরে মন্দিরের চাল আত্মাসাৎ, হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা

দূর্গা পূজা উপলক্ষে সরকারের দেওয়া প্রতি মন্দিরের ৬০০ কেজি চালের একাধিক মন্দির কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে সরকারি চাল উত্তোলন দেখিয়ে আত্মাসাৎ করলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা । ভুল স্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক। এছাড়াও সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার ব্যর্ত চেষ্টা।

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে স্বাক্ষর জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। একাধিক মন্দির কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে, এমন কিছু নথিপত্র ইতোমধ্যে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

এসব বিষয়ে ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সভাপতিরা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের ব্যস্ততার সুযোগে তাঁদের স্বাক্ষর ছাড়াই বরাদ্দের চাল উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা পরে জানতে পারেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

যেসব মন্দিরের নাম উঠে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আশুলিয়ার বাইপাইল বসুন্ধরা গুরুদয়াল দুর্গামন্দির এবং শিমুলিয়া নৈহাটি সরকারবাড়ি দুর্গামন্দির, জামগড়া বেড়ন মহামায়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ও নরসিংহপুর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির। গুরুদয়াল দুর্গামন্দিরের সভাপতি সম্ভু চন্দ্র সরকার এবং জামগড়া বেড়ন মহামায়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি প্রদীপ কুমার সহ আরও বেশ কয়েকজনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সভাপতি সম্ভু চন্দ্র সরকার ও প্রদীপ কুমার জানান, দুর্গাপূজা চলাকালে তাঁরা মণ্ডপের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। এ সময় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে তাঁদের বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য যোগাযোগ করা হয়।

পূজার ব্যস্ততার কারণে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে চাল উত্তোলন করতে পারবেন না জানিয়ে পূজা শেষে কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে বরাদ্দের চাল নিয়ে আসবেন বলে জানান। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

কিন্তু পূজা শেষে বরাদ্দের চাল উত্তোলনের বিষয়ে যোগাযোগ করতে গেলে কার্যালয় থেকে তাঁদের জানানো হয়, নতুন করে স্বাক্ষর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে চাল উত্তোলন করে বিক্রি করা হয়েছে।

মন্দির কমিটির সভাপতিরা বলেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা গুরুতর অনিয়ম। এ ঘটনায় তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

এসন বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেএ সময় তিনি প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দেখান। একপর্যায়ে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে একই কার্যালয়ের একজন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

ঘটনার বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে অভিযোগটি আমাদের নজরে এসেছে। আমি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনে স্বাক্ষর জালিয়াতি , তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয় প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আইনগত দায়ও তৈরি হতে পারে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং সরকারি বরাদ্দের চালের প্রকৃত হিসাব প্রকাশের দাবি উঠেছে।

এ ঘটনায় সাভার উপজেলা প্রশাসন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দাউদকান্দিতে মাদ্রাসা প্রধানের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার :
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
দাউদকান্দিতে মাদ্রাসা প্রধানের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কদমতলী মোহসীনিয়া কওমী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা মকবুল এলাহীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এ সময় হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়নের কদমতলী-বাহেরচর সড়কের মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মকবুল এলাহীর অভিযোগ, মাদ্রাসার মালিকানাধীন জমিতে ফলদ গাছের চারা রোপণ করতে গেলে স্থানীয় ইলিয়াছ মুন্সির নেতৃত্বে কয়েকজন এতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। হামলায় তাঁর নিচের ঠোঁটের বাম পাশে কেটে রক্তক্ষরণ হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার সঙ্গে জমি নিয়ে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৮ অক্টোবর রাতের আঁধারে ওই জমিতে থাকা আটটি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এর কয়েক দিন পর ৪ নভেম্বর সকালে মাদ্রাসার জমিতে ১৭টি ফলদ গাছের চারা রোপণ করতে গেলে ইলিয়াছ মুন্সি ও জহির ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে। এ সময় তাঁরা মাদ্রাসার মুহতামিমকে মারধর করে এবং রোপণ করা ১৭টি গাছের চারা উপড়ে ফেলে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জাকারিয়াকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।
এদিকে হামলার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে শুক্রবার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমিতে গাছের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিমের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী মাওলানা মকবুল এলাহী জানান, এ ঘটনায় ইলিয়াছ মুন্সিকে প্রধান অভিযুক্ত করে দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ইলিয়াছ মুন্সিসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি নিজের ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।