খুঁজুন
, ,

ইবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৫

শিহাব উদ্দিন, ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
ইবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টের ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের মধ্যকার খেলা চলাকালে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের চার শিক্ষার্থী আলিফ রাহাত (২৪-২৫), আলিফ খান (২৪-২৫), তোফাজ্জল (২৪-২৫) ও আবু রায়হান (২৫-২৬)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ। খেলায় ইতিহাস বিভাগ ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (প্রায় এক মিনিট বাকি থাকতে) বল মাঠের বাইরে চলে যায়। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড়েরা বল কুড়াতে গেলে ইতিহাস বিভাগের দর্শকরা কটূক্তিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ নিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে দর্শকদের বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়।

একপর্যায়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিক (২১-২২) এগিয়ে এলে এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের গোলরক্ষক আক্রমণাত্মক ভূমিকায় নামলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি বেধে যায়। পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডি, আয়োজক কমিটি এবং দুই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের উদ্ধার করে ইবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, “আমি শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তর্কের একপর্যায়ে আমাকে পেছন থেকে ঘাড় ধরে ফেলে দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে আমার নাক-মুখ ফেটে যায়।”

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে জানা গেছে, ওই বিভাগেরও কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

ইবি মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. বদিউজ্জামান জানান, “শুরুতে খেলাধুলার সাধারণ আঘাত ভেবে কয়েকজন আসেন। পরে জখম ও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তসহ মোট ৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি তিনজনকে ইনজেকশন দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “খেলা শেষের দিকেই ছিল, মূলত বল আউট হওয়া কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি থেকে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়েই প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই বিভাগ বিষয়টিকে মেনে নিয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”

পঞ্চগড়ে ওলামা দলের ভিডিও-ছবি জামায়াতের নামে প্রচার, ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
পঞ্চগড়ে ওলামা দলের ভিডিও-ছবি জামায়াতের নামে প্রচার, ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

পঞ্চগড়ের এক ওলামা দলের নেতার সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ও ছবি কুড়িগ্রামের কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মী তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা ও ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) পরিচয়ে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ছয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাগেশ্বরী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার) ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মো. এরশাদুল হক নাগেশ্বরী থানায় এ অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল লেমন, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম মিয়া, ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আরমান, জিয়া সাইবার ফোর্স কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা ছাত্রদলের মো. জাহাঙ্গীর আলম, এছাড়া মো. সাইদুল ইসলাম এবং ‘ন্যাশনালিস্ট ফাইদার’ নামের ফেসবুক পেজ পরিচালনাকারী বলে জানা গেছে।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীকে ঘিরে আপত্তিকর অবস্থার একটি ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির প্রকৃত ঘটনা পঞ্চগড় জেলার ওলামা দলের এক সদস্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ওই ব্যক্তিকে ঘিরেই ভিডিও ও ছবিটি ধারণ ও প্রচার করা হয়েছে কিন্তু ঘটনার প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে কতিপয় ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই ভিডিও ও ছবিকে ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার ছবি ও পরিচয় হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

ভিডিও ও ছবির প্রকৃত উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই না করে এভাবে প্রচার অব্যাহত থাকলে তা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ভাইরাল ভিডিও ও ছবির প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা প্রচার করছে—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, অভিযোগে নাম থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি অফিসে মানুষের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া, স্থানীয় বিচার-শালিশে অর্থের বিনিময়ে অসহায় ব্যক্তিদের প্রতি অবিচার করা এবং অবৈধভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদী বা পুকুর থেকে বালু উত্তোলনের মতো অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এসব বিষয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও অনেকে ভয় বা বিভিন্ন কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না।

অভিযোগকারী মো. এরশাদুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে ঘিরে যে ভিডিও, ছবি ছড়ানো হয়েছে তাতে অনেকেই আমাকে মিন করে বাজে কমেন্ট করেছে, দলের ভাবমুর্তী নষ্ট করেছে। আমি সামাজিক ও মানষিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছি। সরকার গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে বলছে আর এদিকে সরকারি দলের ব্যক্তিরা গুজব ছড়াচ্ছে। তাই বিষয়টি পরামর্শ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক লিংক ও অন্যান্য তথ্য সহকারে অভিযোগ দাখিল করে প্রচলিত আইনে বিচার চেয়েছি।

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে ‘দ্য ডিসেন্ট’ জামায়াতের নামে প্রচারিত ভিডিওটি ফ্যাক্টচেক করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঞ্চগড়ে এক তরুণীসহ আটক ব্যক্তি মো. শহিদুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের পঞ্চগড় জেলা শাখার সদস্য এবং পঞ্চগড় সুগার মিল জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ট্রেনে যারা আগুন দিয়েছে, তারা জামায়াতের লোক: রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ
ট্রেনে যারা আগুন দিয়েছে, তারা জামায়াতের লোক: রিজভী

ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে দাবি করে জামায়াতের আমিরের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মধ্য বাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তার উত্তর দিতে হবে।

তিনি বলেন, একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতের আমিরের কাছে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান রিজভী।

এক দফার আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘আপনাদের এক দফার কথা শুনে আমরা কি গলি দিয়ে পালাবো, না প্রাচীরের ওই পারে আমরা লাফ দেব?’

তিনি বলেন, যে দলের সম্পর্ক রাজপথের ইট, কাঠ, ধুলা ও বালুর সঙ্গে, সেই দল বিএনপি। ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন করেছে। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনও দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগ জনগণের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সবশেষে রিজভী বলেন, ‘বিএনপির খুঁটি কোনো বাঁশের খুঁটি নয়, বিএনপির খুঁটি জনগণের খুঁটি।’ তাঁর দাবি, জনগণের সেই শক্তির ওপরই বিএনপি দাঁড়িয়ে আছে।

সমাবেশে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান ও কামরুজ্জামান রতনসহ অনেকে।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে পুনরায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

নিজ ভূখণ্ডেই বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল, হারিয়ে যাচ্ছে চেনা ভোরের সুর

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
নিজ ভূখণ্ডেই বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল, হারিয়ে যাচ্ছে চেনা ভোরের সুর

অপরিকল্পিত নগরায়ন, কীটনাশকের ব্যবহার ও বৃক্ষনিধনে সংকটে দোয়েলের আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খল

একসময় ভোরের নীরবতা ভেঙে যার মিষ্টি ডাক জানান দিত নতুন দিনের আগমন, সেই জাতীয় পাখি দোয়েল আজ নিজ ভূখণ্ডেই অস্তিত্ব সংকটে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে দোয়েলের নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস।

কৃষি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে দোয়েলের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন কীটপতঙ্গের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দূষিত পোকামাকড় খাদ্য হিসেবে গ্রহণের কারণে পাখিটির স্বাভাবিক জীবনচক্র ও প্রজনন ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে আধুনিকায়নের নামে কেটে ফেলা হচ্ছে পুরনো গাছ, ধ্বংস হচ্ছে বাঁশঝাড় ও প্রাকৃতিক ঝোপঝাড়। অথচ এসব জায়গাতেই একসময় নিরাপদ আশ্রয় ও প্রজননক্ষেত্র গড়ে তুলত দোয়েল। আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় নতুন প্রজন্মের দোয়েলের স্বাভাবিক বিস্তারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

দোয়েলের সংকট শুধু একটি পাখির অস্তিত্ব হারানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য। প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে পাখিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দোয়েলের সংখ্যা কমে গেলে এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাই প্রয়োজন নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ, দেশীয় গাছ রক্ষা এবং কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো। পাশাপাশি পাখির অবাধ বিচরণ ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।

নইলে একসময় হয়তো ভোরের বাতাসে আর শোনা যাবে না দোয়েলের চেনা ডাক। জাতীয় পাখিটিকে তখন খুঁজে নিতে হবে শুধু পাঠ্যবই, স্মারক মুদ্রা কিংবা ডাকটিকিটের ফ্রেমবন্দী ছবিতে।