ইবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টের ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের মধ্যকার খেলা চলাকালে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের চার শিক্ষার্থী আলিফ রাহাত (২৪-২৫), আলিফ খান (২৪-২৫), তোফাজ্জল (২৪-২৫) ও আবু রায়হান (২৫-২৬)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ। খেলায় ইতিহাস বিভাগ ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (প্রায় এক মিনিট বাকি থাকতে) বল মাঠের বাইরে চলে যায়। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড়েরা বল কুড়াতে গেলে ইতিহাস বিভাগের দর্শকরা কটূক্তিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ নিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে দর্শকদের বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিক (২১-২২) এগিয়ে এলে এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের গোলরক্ষক আক্রমণাত্মক ভূমিকায় নামলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি বেধে যায়। পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডি, আয়োজক কমিটি এবং দুই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের উদ্ধার করে ইবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।
আহত শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, “আমি শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তর্কের একপর্যায়ে আমাকে পেছন থেকে ঘাড় ধরে ফেলে দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে আমার নাক-মুখ ফেটে যায়।”
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে জানা গেছে, ওই বিভাগেরও কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইবি মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. বদিউজ্জামান জানান, “শুরুতে খেলাধুলার সাধারণ আঘাত ভেবে কয়েকজন আসেন। পরে জখম ও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তসহ মোট ৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি তিনজনকে ইনজেকশন দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “খেলা শেষের দিকেই ছিল, মূলত বল আউট হওয়া কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি থেকে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়েই প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই বিভাগ বিষয়টিকে মেনে নিয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]