কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে হামলা, গেট ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে এক নারীর বসতবাড়িতে হামলা ও গেট ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে হত্যার হুমকি এবং চাঁদা দাবির মতো গুরুতর অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় ৫নং যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেনের নাম প্রধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী মোছাঃ রাবিয়া (৬২), স্বামী-মৃত আঃ গনি, সাং-মনোহরপুর, কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় বসবাস করেন। তার লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
রাবিয়া তার অভিযোগে জানান, অভিযুক্ত মোঃ আলী ইখতিয়ার খান (৫০) সহ আরও ৮-৯ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের হাতে থাকা রামদা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তার বসতবাড়ির সামনে চড়াও হয়। অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা কথিত “হুকুমদাতা” মোঃ আলমগীর হোসেনের ইশারায় এ ঘটনা ঘটায়।
অভিযোগে মোঃ আলমগীর হোসেনের পরিচয় হিসেবে তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ৫নং যশোদল ইউনিয়ন, কিশোরগঞ্জ সদরের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে রাবিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তারা হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে তার বসতঘরের স্টিলের গেট কুপিয়ে ও ভাঙচুর করে। এ সময় ভুক্তভোগী রাবিয়া প্রাণভয়ে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় রাবিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে কোনো মামলা-মোকদ্দমা করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, তাদের কথামতো টাকা না দিলে ঘরের মালামাল লুট এবং বাড়ি দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর মোছাঃ রাবিয়া কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে অভিযোগে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী হিসেবে উল্লেখ করা ওই ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন এবং তার বিরুদ্ধে হামলা, চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কেন তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবেই অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অভিযোগে যাকে ৫নং যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসন যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দিনের বেলা এভাবে একটা বাড়িতে হামলা, গেট ভাঙচুর সত্যিই ভীতিকর। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্য একজন বলেন, “রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এমন ঘটনা মোটেই কাম্য নয়। প্রশাসনকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে একজন রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে দিনের বেলায় হামলা ও ভাঙচুরের যে দাবি করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মোছাঃ রাবিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এখন তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটুকু প্রমাণিত হয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]