মাতামুহুরীতে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলা,উত্তরায় ডিউটিতে থেকেও আসামী হলেন পুলিশ সদস্য:
উত্তরায় ডিউটিতে থেকেও আসামী হলেন পুলিশ সদস্য, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি।
কক্সবাজারের নবসৃষ্ট মাতামুহুরি উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি শিক্ষার্থী পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আমির হোছেন নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তার পরিবারের সদস্য ও অনুসারীরা ইট,পাথর,লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উক্ত পরিবারের ওপর হামলা চালায় বলে জানা গেছে।এতে শিক্ষার্থী পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতর আহত হন।
ঘটনার একটি স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যেই প্রতিবেদকের হস্তগত হয়েছে, যেখানে আমির হোছেনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালাতে দেখা যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও সিট,খতিয়ান,আরএস,বিএস ও দিয়ারা জরিপসহ যাবতীয় আইনি দলিলাদি অনুযায়ী জমিটির বৈধ মালিক আসামী করা শিক্ষার্থীদের দাদা মৃত এলাহদাদ।তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আমীর হোসেন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে উক্ত জমি দখলের উদ্দেশ্যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটিয়ে আসছেন।
ঘটনার পর আহতরা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ আমীর হোসেন উল্টো চকরিয়া থানায় একটি মিথ্যা ও মনগড়া মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একই পরিবারের তিন তরুণ শিক্ষার্থীসহ আট জন সদস্যকে আসামী করা হয়,যেখানে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে চার জনের অনুপস্থিতির অকাট্য ও দাপ্তরিক প্রমাণ রয়েছে।
মামলায় আসামী করা তিন শিক্ষার্থী ভাই হলেন—
১. আবু বক্কর ছিদ্দিক: বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী যিনি বর্তমানে রাজধানীর উত্তরায় ডিউটিরত।
২. মোঃ আবু সাঈদ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স ৪র্থ বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও একটি সবজির আড়তের ম্যানেজার।
৩. আবু সায়েদ সাজ্জাদ: কক্সবাজার সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
সংগৃহীত দাপ্তরিক নথিপত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈধ প্রত্যয়নপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঘটনার দিন ও সময়ে পুলিশ সদস্য আবু বক্কর ছিদ্দিক উত্তরায় নিজ কর্মস্থলে সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ছোট ভাই আবু সায়েদ সাজ্জাদ কক্সবাজারে এবং মোঃ আবু সাঈদ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
সম্ভাবনাময় তিন তরুণ শিক্ষার্থী এবং পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্যের পরিবারের বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন এলাকা বাসী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ও মামলার বাদী আমীর হোছেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উর্ধ্বতন প্রশাসনের নিকট ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি:
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার,শিক্ষার্থী সমাজ এবং স্থানীয়রা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে নিম্নোক্ত বিচার দাবি করেছেন—
* ১. নিরপেক্ষ দাপ্তরিক তদন্ত: পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উত্তরার ডিউটি রেজিস্টার ও কলেজের প্রত্যয়নপত্র যাচাই করে তিন শিক্ষার্থী সহ নির্দোষ সদস্যদের অবিলম্বে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা।
* ২. অপরাধীদের আইনগত শাস্তি: জমি সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র ও সংসংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
* ৩. ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ:পুলিশ বাহিনীর আহত পরিবারের সঠিক বিচার ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]