খুঁজুন
, ,

জামায়াত রাজনীতি করতে পারলে আওয়ামী লীগ কেন পারবে না, প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী নুরের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
জামায়াত রাজনীতি করতে পারলে আওয়ামী লীগ কেন পারবে না, প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী নুরের

একাত্তরে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করতে পারলে আওয়ামী লীগ কেন পারবে না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বাংলা একাডেমিতে ছাত্র অধিকার পরিষদ প্রকাশিত ‘মুক্তি’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

বক্তব্যে নুরুল হক নুর বলেন, জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও নেতাকর্মীদের বক্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, জামায়াত একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতি করতে পারলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার প্রশ্নও সামনে আসবে।

তিনি বলেন, “জামায়াতের যেই আস্ফালন, এই আস্ফালনের কারণে আওয়ামী লীগকে এ দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা হবে। কারণ আওয়ামী লীগকে কী দিয়ে ঠেকাবেন আপনি? জামায়াত যদি একাত্তরে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও লুটপাট করে মানবতাবিরোধী অপরাধের চরম অপকর্ম করেও বাংলাদেশের বিরোধী দল হতে পারে, রাজনীতি করতে পারে, তাহলে আওয়ামী লীগ কেন পারবে না?”

এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়েও সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, সংগঠনটিতে থাকা অনেকেই জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলনের নামে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের বড় একটি অংশেও জামায়াত-শিবিরের লোকজন রয়েছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, দলটির পরিণতি একসময় ফ্রিডম পার্টির মতো হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক সুবিধা ও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষায় বিতর্কিত ব্যক্তিরা এনসিপিতে জড়ো হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা নিজেদের নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সময়ের ব্যবধানে তাঁদের কেউ কেউ ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। এনসিপির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের জন্য ভবিষ্যতে তাঁদের আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নুরুল হক নুরের এসব বক্তব্যে জামায়াত, আওয়ামী লীগ, ইনকিলাব মঞ্চ ও এনসিপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তাঁর অবস্থান উঠে আসে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দল ও সংগঠনের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, হামলার শিকার সাংবাদিক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, হামলার শিকার সাংবাদিক

মাগুরার শালিখা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৬টার দিকে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, শতখালী নতুন বাজার এলাকায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এবং যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী ওয়াদুদ বিশ্বাসের মধ্যে দলীয় বিরোধের জেরে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

জসীম উদ্দীনের অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে মোস্তাক ও তাঁর সমর্থকেরা তাঁর ওপর হামলা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শালিখায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. গোলাম জাহিদ হোসেন জানান, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক আগের কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। তবে বর্তমান কমিটিতে তিনি নেই। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নেসা জানান, আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, সাংবাদিক জসীম উদ্দীনের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারির কামড়ে আহত দুই পুলিশ, আটক ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : রায়হান আহমেদ সোহান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারির কামড়ে আহত দুই পুলিশ, আটক ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাদক কারবারি হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে আটক করতে গিয়ে তার কামড়ে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

আটক শাকিব মিয়া (৩০) পানিশ্বর ইউনিয়নের লায়রহাটি দেওবাড়িয়া এলাকার আনু মিয়ার ছেলে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন সরাইল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমান উল্লাহ ও কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাকিবকে আটকের চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি পুলিশ সদস্যদের কামড়ে আহত করেন। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। আহত দুই পুলিশ সদস্য সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুরে আসামি ছিনিয়ে নিতে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, আহত ২ পুলিশ সদস্য

শেখ মোরশেদ আলম জিসান-গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে আসামি ছিনিয়ে নিতে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, আহত ২ পুলিশ সদস্য

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়াবাসহ এক নারী ও এক পুরুষকে আটকের পর তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে একদল ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন টিএসআই নুরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আশিক। ঘটনার পর তাদের গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের দক্ষিণ পাশে মাদক বিক্রির গোপন তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। স্টেশনে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীরা অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করেন। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, আটকদের ছাড়িয়ে নিতে তাদের সহযোগীরা রামদা, হাসুয়াসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফাঁড়িতে হামলা চালান। একপর্যায়ে ফাঁড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আটক দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে ধারালো অস্ত্র হাতে একদল ব্যক্তিকে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে জড়ো হয়ে হামলা চালাতে দেখা গেছে। ভিডিওগুলোতে ফাঁড়ি ভাঙচুর এবং আশপাশের কয়েকটি স্থাপনায় হামলার দৃশ্যও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার সব দিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, মাদকসহ দুজনকে আটকের পর তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালান। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা এবং মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।