খুঁজুন
, ,

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা হত্যায় মামলা, প্রধান আসামি ছাত্রদল নেতা রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা হত্যায় মামলা, প্রধান আসামি ছাত্রদল নেতা রিজভী

নিহত যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলাম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলামকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিজভীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় নিহত জহিরুল ইসলামের ভাগনে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন। গত বুধবার রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় জহিরুলকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সাবেক ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসাইনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেওয়ায় তিনি বিভিন্ন সময় হুমকি ও চাপের মুখে ছিলেন।

মামলার প্রধান আসামি রিজভী আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহতের এক স্বজন অভিযোগ করেন, মামলার এজাহার থেকে ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসাইনের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তাঁদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁরা উপযুক্ত সময়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

মামলার এজাহারে বাদী ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁর মামা ফকির জহিরুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষের কয়েকজন তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ ছাড়া তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আড়াইহাজারের পুরোনো থানা-সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ডে রিজভী ও তাঁর লোকজন জহিরুলের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় জহিরুল বাদী হয়ে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

বাদীর অভিযোগ, আগের মামলার আসামিদের পাশাপাশি অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও জহিরুলকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ কারণে তিনি গ্রামের বাড়িতে না থেকে সোনারগাঁয়ের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানে ফার্মেসির ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। এসব কারণে রিজভীসহ অন্য আসামিরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

যেভাবে হামলার শিকার হন জহিরুল

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার রাত আটটার দিকে ফার্মেসি বন্ধ করে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন জহিরুল। রাত সাড়ে আটটার দিকে চর হোগলা এলাকার কাশেমনগরে দারুস সুন্নাহ খালেদ সিদ্দিকী মডেল মাদ্রাসার কাছে একটি কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে রিজভীর নেতৃত্বে এজাহারভুক্ত ২১ জন আসামি ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, রামদা, ছুরি, দা, লোহার রড ও লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তাঁরা জহিরুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপান এবং লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাঁকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এজাহারে আরও বলা হয়, রাত পৌনে নয়টার দিকে এক পথচারী জহিরুলের মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তাঁর ভাগনে ইসমাইল হোসেনকে ফোন করে হামলার খবর দেন। পরে ইসমাইলসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত জহিরুলকে অটোরিকশায় করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথে জহিরুল হামলাকারীদের কয়েকজনের নাম ও তাঁদের আঘাতের বিবরণ জানান। হাসপাতালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশের বক্তব্য

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক প্রথম আলোকে বলেন, যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

এজাহার থেকে কারও নাম বাদ দেওয়ার জন্য নিহতের স্বজনদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, তদন্তে হত্যাকাণ্ডে যাঁদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, এজাহারে নাম না থাকলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিহত ফকির জহিরুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় থেকে সোনারগাঁয়ের চর কিশোরগঞ্জ বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন।

রায়পুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল এর উদ্যোগে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

মো ইউনুচ ,রায়পুর
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
রায়পুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল এর উদ্যোগে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রায়পুর উপজেলা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন উত্তর কেরোয়া আল আমিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ফরহাদ হাসান। তিনি স্বর্ণপদক ও নগদ ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার পান। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন রায়পুর দারুল কুরআন ইসলামিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী ওমর ফারুক। তিনি স্বর্ণপদক ও নগদ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার পান। তৃতীয় স্থান অর্জনকারীর জন্য ছিল রৌপ্যপদক ও নগদ ৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া চতুর্থ থেকে দশম স্থান অর্জনকারীদের সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।

লক্ষ্মীপুরে মাদরাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক আটক

মোহাম্মদ জাকির শাহ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে মাদরাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক আটক

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার মান্দারী ইউনিয়নের গন্ধব্যপুর এহ্ইয়াউল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাওলানা ইব্রাহিম নামে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের ছেলে মোহাম্মদকে আটক করা যায়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলে ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসা থেকে মাওলানা ইব্রাহিমকে আটক করে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী মো. (ছদ্মনাম) (৯) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পালাক্রমে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে।
শিক্ষার্থীর মা বলেন, ছেলেকে কোরআনে হাফেজ করার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসাটির আবাসিক বিভাগে ভর্তি করেছিলেন। ইতোমধ্যে তার ছেলে পবিত্র কোরআনের চার পারা হিফজ করেছে। কিন্তু দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছেলেকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব বলেন অভিযোগের ভিত্তিতে মাওলানা ইব্রাহিমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।

ভূরুঙ্গামারীতে ভিক্ষুক পুনর্বাসনে ১১টি গরু বিতরণের তালিকা ও বরাদ্দ তথ্য দিতে নারাজ; তদন্তের দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
ভূরুঙ্গামারীতে ভিক্ষুক পুনর্বাসনে ১১টি গরু বিতরণের তালিকা ও বরাদ্দ তথ্য দিতে নারাজ; তদন্তের দাবি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারি কর্মসূচির আওতায় ১১টি গরু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গরু কেনার জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কারা উপকারভোগী এবং তাঁদের নাম-ঠিকানা কী—এসব তথ্য জানতে চেয়েও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য দিতে অনীহার ঘটনায় কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে। কেউ কেউ সরকারি বরাদ্দ ও বিতরণ কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শামছুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরসহ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, উপজেলার ১১ জন ভিক্ষুকের মধ্যে ১১টি গরু বিতরণের পরিকল্পনা ছিল। তবে উপকারভোগীদের তালিকা, গরু কেনার ব্যয় ও সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শামছুজ্জামান তথ্য দিতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, শুধু ১১টি গরু বিতরণের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদন করতে। উপকারভোগীদের নামের তালিকা ও সরকারি বরাদ্দের তথ্য কেন প্রয়োজন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য থাকা প্রয়োজন জানালে তিনি বলেন, ১১ জনের মধ্যে তিনজন উপস্থিত হননি এবং তালিকায় ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। পরদিন স্বাক্ষর নিয়ে দিবেন বলেন তিনি। তবে সরকারি বরাদ্দের তথ্য কোনভাবেই দিতে রাজি না।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, ১১ জন ভিক্ষুকের মধ্যে ১১টি গরু বিতরণের কথা ছিল। একজন উপস্থিত না হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ১০ জনের মধ্যে গরু বিতরণ করা হয়েছে। বাকি একজন উপস্থিত হলে তাঁকেও গরু দেওয়া হবে। তবে তিনিও উপকারভোগীদের তালিকা ও সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলেও জানাননি।

এখানে বিতরণসংক্রান্ত বক্তব্যে সংখ্যাগত অসংগতি রয়েছে। সমাজসেবা কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনজন উপস্থিত হননি। অন্যদিকে ইউএনও জানিয়েছেন, একজন অনুপস্থিত থাকায় ১০ জনের মধ্যে গরু বিতরণ করা হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকার ২০১০ সালের আগস্টে এ কর্মসূচি শুরু করে। পরবর্তী সময়ে কর্মসূচিটি সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯ সালে ‘ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান বাস্তবায়ন নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এই অর্থ জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির বরাদ্দ; ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ১১টি গরু বিতরণের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা এ তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে বিষয়টি তাকে হোয়াটসঅ্যাপে জানানো হয়।

এ বিষয়ে উপস্থিত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারি বরাদ্দের যথাযথ বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাংবাদিকেরা এসব তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেই সাধারণ মানুষ সরকারের বরাদ্ধ এবং কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে তা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া এ ধরনের উদ্যোগে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন, গরু কেনার ব্যয়, বিতরণের তালিকা এবং বরাদ্দের হিসাব স্বচ্ছ রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ভূরুঙ্গামারীতে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কী দামে গরু কেনা হয়েছে, কারা গরু পেয়েছেন এবং বিতরণসংক্রান্ত নথিতে কী তথ্য রয়েছে—এসব বিষয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি উঠেছে।