খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

মুসলিম পারিবারিক আইনের অধীনে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়—এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমোদন নির্ভর করবে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ওপর, স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্মতির ওপর নয়।

দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও আইনি চর্চায় এমন ধারণা প্রচলিত ছিল যে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কোনো পুরুষ দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না। তবে আদালতের মতে, মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন কোনো বিধান নেই, যেখানে স্ত্রীর অনুমতিকে শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইনি প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে আদালত উল্লেখ করেন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, ১৯৬১ সালে প্রণীত মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই কাঠামো পরিবর্তন করা হয়। ওই আইনে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য আরবিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তবে হাইকোর্টের এই ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিটকারীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং নারীর অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে সমান আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল রিটের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্থিক সক্ষমতা কিংবা সামাজিক-মানসিক প্রলোভনের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বহুবিবাহ অপব্যবহারের শিকার হতে পারে। এতে পারিবারিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তারা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে এই রায় চ্যালেঞ্জ হলে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে এবং মুসলিম পারিবারিক আইনের ভবিষ্যৎ ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তিন দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর ইবি ছাত্রদলের স্মারকলিপি

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
তিন দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর ইবি ছাত্রদলের স্মারকলিপি

শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য স্মারকলিপি দিয়েছে শাখা ছাত্রদল।

সোমবার (১১ মে) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বরাবর স্মারকলিপি দেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সাব্বির হোসেন, রাফিজ আহমেদ, নুর উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামিক স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ কোর্স বাধ্যতামূলক করার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০% কোটা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে এনালগ পদ্ধতির কারণে ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে শিক্ষার্থীদের মূল ও সাময়িক সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং সেমিস্টার/বার্ষিক নম্বরপত্র উত্তোলনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “নন-ক্রেডিট কোর্স হিসেবে ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ এমনভাবে রাখা হয়েছে, যাতে সকল শিক্ষার্থী এটি পড়তে পারে। কোর্সটি এমনভাবে ডিজাইন করা হবে, যা ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাকেও অন্তর্ভুক্ত করবে এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অমুসলিম শিক্ষার্থীরাও যেন কোর্সটি সহজে সম্পন্ন করতে পারে, সেদিকটিও বিবেচনায় রাখা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন কোটাপদ্ধতি বাতিলের বিষয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবারের ভর্তি কার্যক্রমে ‘ওয়ান স্টপ পেমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে।”

২ লক্ষ টাকা ঘুষ না দেয়ায় বিপক্ষে রায়; রংপুর জোনাল অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
২ লক্ষ টাকা ঘুষ না দেয়ায় বিপক্ষে রায়; রংপুর জোনাল অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঘুষ না পেয়ে ব্যাকডেটে রায় প্রদান, নোটিশ গোপন, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ উঠেছে রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা, নাজির তোফাজ্জল হোসেন, পেশকার মোঃ শামীম হোসেন এবং ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার লতিফুর রহমান।

এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসিন্দা লুৎফর রহমান গত ৬ মে মহাপরিচালক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির ডকেট নম্বর-০৬০০৭। একই ধরনের অভিযোগ ৭ মে দায়ের করেন ইনছার আলী নামে এক গ্রাম পুলিশ সদস্য। উভয়ের জমি চর-ভূরুঙ্গামারী মৌজার জে.এল নং-৫০ এলাকায় অবস্থিত।

অভিযোগে বলা হয়, ৯৩/২৩ নম্বর মিসকেসে বিবাদীপক্ষ ১৯৭০ সালের একটি কথিত আমোক্তানামা দলিল উপস্থাপন করলেও বাদীপক্ষ দাবি করেছে, তাদের পূর্বসূরিরা ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালের বৈধ দলিলের মাধ্যমে মোট ২ দশমিক ৫০ একর জমি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ওই জমি সাব-কবলা দলিলমূলে ক্রয় করেন লুৎফর রহমান গং। পরে নামজারি, খাজনা পরিশোধ ও রেকর্ড সংশোধনসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নামে ডি.আর.এ রেকর্ড ও ডি.পি খতিয়ান প্রস্তুত হয়।

অপরদিকে, ৩১ ধারার শুনানিকালে ২০২০ সালে ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে উভয় পক্ষ হাজির হয়ে কাগজপত্র দাখিল করলেও অভিযোগ রয়েছে, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ লতিফুর রহমান ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২১ সালের ৭ মার্চ লুৎফর রহমানকে গরহাজির দেখিয়ে তার রেকর্ডীয় ১ দশমিক ৬২ একর জমি থেকে ১ দশমিক ৪২ একর কর্তন করে বিবাদীপক্ষের অনুকূলে রায় দেওয়া হয়।

এরপর প্রতিকার চেয়ে লুৎফর রহমান ৪২(ক) ধারায় আবেদন করলে তা ৯৩/২৩ নম্বর মিসকেস হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলাটি চলমান থাকায় একবার নথিজাত করা হলেও পুনরায় আবেদনের পর মামলাটি সচল করা হয়। সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার নাজমুল হুদা জানান, বিবাদীপক্ষের ১৮৭৩৮/৭০ নম্বর আমোক্তানামা দলিলের সত্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। পরে ১৪ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে পরপর দুটি চিঠি দিয়ে দলিলের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।

অভিযোগকারী দাবি করেন, এসব অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় জোনাল অফিসারের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি তাকে জানান, “জোনাল স্যারকে দুই লাখ টাকা দিলে আপনার পক্ষে রায় হবে।” এরপর তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে আর যোগাযোগ না করে অফিসে পেশকার শামীম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আদেশ হয়েছে জানতে পেরে রায়ের কপি তুলে দেখেন, তার বিপক্ষে ও ব্যাকডেটে রায় দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দলিল সংক্রান্ত চিঠিপত্র পাঠানো হলেও রায়ে ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার নামে বৈধ দলিল, নামজারি, খারিজ ও খাজনা থাকলেও রায়ে দলিলের ধারাবাহিকতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের নামে খারিজ না থাকলেও তাদের নামে খারিজ রয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রায়ের তথ্য গোপন রেখে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “এখন আর যোগাযোগ করে লাভ হবে না। বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিয়ে দেখেন, আপনার বিপক্ষে রায় দিয়েছে। যারা টাকা দিয়েছে তাদের পক্ষে রায় হয়েছে, আর যারা টাকা দেয়নি তাদের বিপক্ষে রায় গেছে।”

লুৎফর রহমান বলেন, “আমার সি.এস, এস.এ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দলিল, নামজারি ও খাজনার কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দুই লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় বিবাদীপক্ষের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে আমার বিপক্ষে ও ব্যাকডেট দিয়ে রায় দেওয়া হয়েছে। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, রায়ের পর জোনাল অফিসারের সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, “যা রায় দিয়েছি, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। রায়ে অসন্তুষ্ট হলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে যান। এছাড়া সরকারের দপ্তর খোলা আছে। আমি যদি সব রায় সঠিকভাবে দিই, তাহলে আদালত বা অন্য দপ্তর কী করবে?”

এদিকে, ইনছার আলীও অভিযোগ করেছেন, ঘুষ না দেওয়ায় যথাযথ নোটিশ ছাড়াই তার জমি সংক্রান্ত মামলার নথিজাত ও আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীরা মহাপরিচালকের কাছে মিসকেস নং-৯৩/২৩ ও সংশ্লিষ্ট আপিল কেসের রায় বাতিল, ডি.পি খতিয়ান বহাল এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রংপুর জোনাল সেটেলমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ৫৮টি উপজেলায় ৬ হাজার ৭১০টি মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মৌজা থেকেই লাখ টাকা ঘুষের দুটি অভিযোগ দাখিল হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, আমি সাংবাদিকবান্ধব মানুষ। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছি।

এছাড়া আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি অস্বীকার করেন।

গাজীপুরে অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য আটক গাছা এলাকায় পুলিশের অভিযানে উদ্ধার একাধিক দেশীয় অস্ত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য আটক গাছা এলাকায় পুলিশের অভিযানে উদ্ধার একাধিক দেশীয় অস্ত্র

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছিনতাই, মারামারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আটককৃতরা হলেন— মোঃ শাহাপরান (২০), মোঃ মাহিম শাহারিয়ার মোরসালিন (১৯), ওমর ফারুক (১৮) এবং মোঃ সজিব মিয়া (২০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাছা থানা পুলিশ শরীফপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, আটক শাহাপরানের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার সাংসা জয়ানগর বাজার এলাকায়। মাহিম শাহারিয়ার মোরসালিনের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামে। ওমর ফারুক নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার চাড়িয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং সজিব মিয়ার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার পঞ্চনানমপুর গ্রামে। বর্তমানে তারা গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন শরীফপুর এলাকায় বিভিন্ন ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আটক ব্যক্তিরা এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে পুলিশের এমন অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওহিদুজ্জামান বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।