খুঁজুন
, ,

লক্ষ্মীপুরে সরকারি ভাতার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে উধাও প্রতারক চক্র, দিশেহারা শত শত মানুষ

মোহাম্মদ জাকির শাহ লক্ষীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে সরকারি ভাতার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে উধাও প্রতারক চক্র, দিশেহারা শত শত মানুষ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, রামগতি ও রায়পুর উপজেলাজুড়ে সরকারি বিভিন্ন ভাতা ও ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রের মূলহোতা তাহমিনা আক্তার লিমা নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তাহমিনা আক্তার লিমা বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন। তিনি দাবি করতেন, তার মাধ্যমে খুব সহজেই সরকারি ঘর, শিশু ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যাবে। তার কথায় বিশ্বাস করে স্থানীয় সহজ-সরল মানুষ জনপ্রতি হাজার হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন।
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে শিশু ভাতার জন্য ৪ হাজার টাকা, বয়স্ক ভাতার জন্য ৪ হাজার টাকা, মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য ৫ হাজার টাকা এবং টয়লেট নির্মাণের নামে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার সময় দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও কেউ কোনো সুবিধা পাননি। পরে টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নানা টালবাহানা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত লিমার ছোট ভাই মোঃ তানভীর হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছ থেকে দুই মাস সময় নেন। তিনি আশ্বাস দেন, যেভাবেই হোক দুই মাসের মধ্যে সকলের টাকা ম্যানেজ করে ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেই তিনি তার বড় ভাই তারেক হোসেনকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতারিত পরিবারগুলোর মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
এদিকে মূল অভিযুক্ত তাহমিনা আক্তার লিমা বর্তমানে ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় আসছেন না। স্থানীয়দের দাবি, এত বড় অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকার পরও তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— এত বড় একটি প্রতারণার ঘটনার পরও প্রশাসন কেন এখনো মূলহোতাকে গ্রেফতার করতে পারেনি?
এ ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নিজেদের রক্ষা করতে এবং মূল ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রতারক চক্রটি কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই মামলার কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা গ্রহণযোগ্য অগ্রগতি পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
এছাড়া যে মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এ মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাদের অনুমতি ছাড়াই সাক্ষী হিসেবে নাম ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আমরা কোনো ঘটনা জানি না, কোনো কাগজেও স্বাক্ষর করিনি। কীভাবে আমাদের নাম সাক্ষী হিসেবে গেল সেটাও জানি না।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাতের পর এখন একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিজেদের রক্ষায় নানা কৌশল অবলম্বন করছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রতারক চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
ভুক্তভোগী শাহনাজ বেগম বলেন, আমাদের অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে গেছে। এখন টাকা চাইতে গেলে কেউ খোঁজও নেয় না। উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার চাই।
এই ঘটনায় রামগতি উপজেলার পূর্ব চর সীতা গ্রামের মনির আহমেদের মেয়ে শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন (সিআর মামলা নং-১০২, তারিখ: ১৬/০৩/২০২৬ ইং)। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে মূলহোতাসহ জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনুক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। বর্তমানে প্রতারিত শত শত পরিবার তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।