দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট
মুসলিম পারিবারিক আইনের অধীনে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়—এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমোদন নির্ভর করবে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ওপর, স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্মতির ওপর নয়।
দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও আইনি চর্চায় এমন ধারণা প্রচলিত ছিল যে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কোনো পুরুষ দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না। তবে আদালতের মতে, মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন কোনো বিধান নেই, যেখানে স্ত্রীর অনুমতিকে শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনি প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে আদালত উল্লেখ করেন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, ১৯৬১ সালে প্রণীত মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই কাঠামো পরিবর্তন করা হয়। ওই আইনে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য আরবিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে হাইকোর্টের এই ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিটকারীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং নারীর অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে সমান আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল রিটের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্থিক সক্ষমতা কিংবা সামাজিক-মানসিক প্রলোভনের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বহুবিবাহ অপব্যবহারের শিকার হতে পারে। এতে পারিবারিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তারা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে এই রায় চ্যালেঞ্জ হলে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে এবং মুসলিম পারিবারিক আইনের ভবিষ্যৎ ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]