খুঁজুন
, ,

প্রাইভেটকারে তুলে সাংবাদিককে অপহরণ: নগদ টাকা ও বিকাশ ভেঙে লুটে নিল লক্ষাধিক টাকা

আল রোকন, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
প্রাইভেটকারে তুলে সাংবাদিককে অপহরণ: নগদ টাকা ও বিকাশ ভেঙে লুটে নিল লক্ষাধিক টাকা

কুমিল্লার চান্দিনা-মাধাইয়া সড়কে এক সাংবাদিককে কৌশলে প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে হাত বেঁধে নগদ টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন লুট করে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার) সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার-এর দাউদকান্দি-তিতাস উপজেলা প্রতিনিধি খোকন ফরাজী (আইডি নম্বর: BS11469)। এ ঘটনায় তিনি চান্দিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মদনপুর এলাকা থেকে দাউদকান্দি যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে একটি প্রাইভেটকারে ওঠেন খোকন ফরাজী। গাড়িতে আগে থেকেই যাত্রী সেজে আরও তিনজন অবস্থান করছিল। কথা ছিল তাকে দাউদকান্দি বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু গাড়িটি দাউদকান্দি না থেমে চান্দিনার দিকে দ্রুত গতিতে ছুটতে থাকে।
একপর্যায়ে চান্দিনা ও মাধাইয়ার মাঝামাঝি নির্জন স্থানে পৌঁছালে গাড়ির ভেতরেই খোকন ফরাজীকে জোরপূর্বক হাত বেঁধে ফেলে এবং চোখে কালো চশমা পরিয়ে জিম্মি করে ফেলে অপহরণকারীরা। এরপর তার সঙ্গে থাকা নগদ ৫৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। শুধু তা-ই নয়, ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে বিকাশ নম্বর (০১৭৭৩-০৬০৯০৭) থেকে ২১ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেয় দুষ্কৃতকারীরা। পরে সব তথ্য ও প্রমাণ মুছে ফেলতে মোবাইল ফোনটি ফরম্যাট করে দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী জানান।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক খোকন ফরাজী জানান, গাড়ি চলাকালীন তাদের মধ্যকার কথাবার্তা শুনে ধারণা করা যায়—চক্রটিতে যশোর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ জেলার অপরাধীরা জড়িত থাকতে পারে। তবে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই ৯৯৯-এ যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তৎক্ষণাৎ কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি; বরং নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে তিনি চান্দিনা থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তিনি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি লুটে নেওয়া অর্থ ও মোবাইল উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রাইভেটকারের গতিপথ, বিকাশ লেনদেনের ট্র্যাকিং, মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর এবং ৯৯৯-এর কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো যেতে পারে।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার বক্তব্য ও পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্য বিকৃত উপস্থাপনের অভিযোগ, এনসিপির নিন্দা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্য বিকৃত উপস্থাপনের অভিযোগ, এনসিপির নিন্দা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্য খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দলটির দফতর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে বিএনপি ও তাদের অনুসারীরা রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি।

দলটির দাবি, পাটোয়ারীর প্রকৃত বক্তব্য ছিল, ‘আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার—এই তিনটি দাবি মানলেই আর ককটেল ফুটবে না ঢাকা শহরে।’

এনসিপি বলছে, বক্তব্যটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদের স্থায়ী বিলোপ এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব তুলে ধরা।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নাশকতা দমনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে। সেই ব্যর্থতা আড়াল করতেই এনসিপি ও বিরোধী দলগুলোর ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এনসিপি জানিয়েছে, জুলাই গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং গণভোটের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার প্রতিবাদে শেরপুরে যুবদলের  মিছিল-সমাবেশ

‎জান্নাতুল বাকী জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার প্রতিবাদে শেরপুরে যুবদলের  মিছিল-সমাবেশ

পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে শেরপুরে মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল।
‎মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা যুবদলের উদ্যোগে শহরের থানা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় থানা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‎সমাবেশে শেরপুর জেলা যুবদলের সদ্য গঠিত কমিটির সভাপতি মো. আতাহারুল ইসলাম আতা, সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মবিনুজ্জামান মিল্টন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মানিক ও হাশেম আহমেদ সিদ্দিকীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট ও তাদের সহযোগীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন। তারা বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত রয়েছে

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শাহ আলম (৪৪) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে। বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ কাজ। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা মোবাইল ফোনে ওই কাজের ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারা চলে গেলে রাতেই আবার ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কাজের ত্রুটি সংশোধন (রেকটিফিকেশন) এবং গাফিলতির বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের উপস্থিতি ও তদারকির মাধ্যমে সেতুর কাজ সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু প্রকৌশল বিভাগের অনুপস্থিতিতে ঠিকাদার ও সাব-ঠিকাদার রাতের আঁধারে গোপনে ওয়াকওয়ে ও ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন। বিষয়টি তারা অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার পর তাদের পরামর্শে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঢাকা অঞ্চল থেকে প্রকৌশলীদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। ল্যাব টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির বলেন, সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম এবং সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।