খুঁজুন
, ,

গণঅধিকার পরিষদ সরে গেলে বিএনপির ভিত নড়ে যাবে: ফরহাদ হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
গণঅধিকার পরিষদ সরে গেলে বিএনপির ভিত নড়ে যাবে: ফরহাদ হোসেন

গণঅধিকার পরিষদ বিএনপির পাশ থেকে সরে গেলে দলটির ভিত নড়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ফরিদপুর জেলা সভাপতি ফরহাদ হোসেন। একই সঙ্গে জোটসঙ্গী হিসেবে ন্যায্য অধিকার না পেলে বিএনপিকে পাল্টা ফাঁদে ফেলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কেক কাটা ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় বক্তারা বিএনপির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মাঠে ছিলেন এবং গণঅভ্যুত্থান সফল করতে ভূমিকা রেখেছেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও জোটসঙ্গী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

বক্তব্যে ফরহাদ হোসেন বলেন, বিএনপি তাদের সঙ্গে যে আচরণ করছে, তা আওয়ামী লীগ আমলে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে করা আচরণের কথা মনে করিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণঅধিকার পরিষদ কথা বলেছে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ফরহাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালতে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগেরও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে।

বিএনপিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে যদি বিএনপির পাশ থেকে গণঅধিকার পরিষদ সরে যায়, তাহলে বিএনপির ভিত নড়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিও গণঅধিকার পরিষদকে বিএনপি থেকে দূরে সরাতে চায় বলে তাদের ধারণা। তবে গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্ব এ ধরনের কোনো ফাঁদে পা দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, সারাদেশে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তাতে বিএনপিকে পাল্টা ফাঁদে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চান না; বরং জোটসঙ্গী হিসেবে নিজেদের ন্যায্য অধিকার চান।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ রুবেল, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফিরোজ শেখ, সহসভাপতি মনির চৌধুরী, জিয়া খান, আলীমুজ্জামান লাবলু ও আলমগীর শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জাহিদ হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ হোসেন বিপুল এবং শ্রমিক অধিকার পরিষদের সহসভাপতি সোহেল খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

আলোচনা সভা শেষে কেক কেটে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

গাজীপুরের নিজের জমিতে ঘর করতে গিয়ে চাচাতো ভাইদের হামলার শিকার ভুক্তভোগী পরিবার আহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
গাজীপুরের নিজের জমিতে ঘর করতে গিয়ে চাচাতো ভাইদের হামলার শিকার ভুক্তভোগী পরিবার আহত ৩

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন দৌলতপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. ইউসুফ আলী বাদী হয়ে গাছা থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাদী মো. ইউসুফ আলী ও তাঁর পরিবারের লোকজন পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দুপুরের দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় নির্মাণাধীন টিনের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।
প্রতিবাদ করতে গেলে হামলাকারীরা বাদীপক্ষের লোকজনের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে আমির হোসেন, রহিমা বেগম, ইমান আলী ও নাতনি ইশিতা আক্তার গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় মো. ফজল, মো. আলম, মো. সোহেল, মো. রউফ ও মোসা. রেণুজাসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। “তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

২ হাজার ইয়াবাসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
২ হাজার ইয়াবাসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রনি পাঠান (২৫) ও তাঁর সহযোগী নয়ন মিয়া (২৫)। রনি শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি এলাকার বাসিন্দা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসমত উল্লাহ।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসমত উল্লাহ জানান, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গৌরনদীতে আ.লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
গৌরনদীতে আ.লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী আটক

বরিশালের গৌরনদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। পরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বাড়ি থেকে তাঁদের আটক করে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন সৈকত গুহ পিকলুর ছোট ভাই সলিল গুহ পিন্টু, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগ মনোনীত সাবেক জিএস মহিবুল আলম খোকন, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ওয়াজ করনী আকন, বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মিঠুন হালদার, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম সরদার, মাহিলাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার এবং পৌর ছাত্রলীগের সদস্য সজিব সরদার।

সৈকত গুহ পিকলু জানান, তাঁদের বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠান চলছিল। এ উপলক্ষে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তাঁদের বাড়িতে এসে দাওয়াতে আসা ছয়জন ও তাঁর ছোট ভাই পিন্টু গুহকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনে একটি নিয়মিত মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার সাতজন ছাড়াও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কয়েকজন সক্রিয় নেতাকর্মী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, আগামী ডিসেম্বর মাসে দলীয় প্রধানের দেশে প্রত্যাবর্তন সফল করা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করার উদ্দেশ্যে গৌরনদীর বিল্লগ্রাম এলাকার একটি বসতঘরে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন, এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়।

এজাহার অনুযায়ী, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সাতজনকে আটক করা হয়। এ সময় অন্য অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

তবে সৈকত গুহ পিকলুর বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন ও দাওয়াতের অনুষ্ঠান চলছিল। ঘটনাটি নিয়ে তাঁর বক্তব্য এবং মামলার এজাহারে পুলিশের উল্লেখ করা অভিযোগের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।