খুঁজুন
, ,

জকসুতেও ছাত্রদলের ভরাডুবি: কীভাবে হজম করবেন তারেক রহমান?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:২২ পূর্বাহ্ণ
জকসুতেও ছাত্রদলের ভরাডুবি: কীভাবে হজম করবেন তারেক রহমান?

✍️ লেখক মহসীন কবির

স্টাফ রিপোর্টার ,বাংলা ট্রিবিউন

জকসুতেও ছাত্রদলের ভরাডুবি: কীভাবে হজম করবেন তারেক রহমান?শেষ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ জয় পেলো জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। ভিপি, জিএস ও এজিএস-সহ বেশিরভাগ পদেই তাক লাগানো ফল পেয়েছে তারা।

তিনটি সমীকরণে ধারণা করা হচ্ছিলো গেলো ৪টি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ডাকসু, চাকসু, জাকসু ও রাকসুতে ভরাডুবি থেকে জকসুতে জয়ী হয়ে ঘুরে দাঁড়াবে ছাত্রদল।

এর মধ্যে তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন, তাই ছাত্রদল উজ্জীবিত, আর অবিসংবাদিত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজার কারণে এক ধরনের সহানুভূতি ও পুরাণ ঢাকার ওই এলাকাটি বিএনপির ঘাঁটি সব মিলিয়ে ছাত্রদল ভালো করার কথা ছিলো।

কিন্তু এবারও তারা হতাশ করেছে। জানি না দেশে আসার পর নিজ দলের ছাত্র সংগঠনটির এমন পরাজয়কে তারেক রহমান কীভাবে হজম করবেন। তবে আমি মনে করি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এটি বিএনপির জন্য একটি অশনিসংকেত।

অনেকেই বলছেন ছাত্র সংসদ নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। তাই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। আওয়ামী লীগের পর বিএনপি বড় দল এটা অস্বীকার করার কোনও জো নেই।

তবে অতীতের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়েছে, তার পরবর্তী নির্বাচনে সেই সংগঠন সমর্থিত দল কিন্তু ভালো করেছে। যেমন ৯০ এর নির্বাচনে ডাকসুতে ভিপি হয়েছিলেন ছাত্রদল প্যানেলের আমান উল্লাহ আমান ও জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন একই প্যানেলের খায়রুল কবির খোকন।

পরবর্তীতে ৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছিলো বিএনপি। ঠিক প্রতিযোগিতামূলক ২০০১ সালে বিএনপিসহ চার দলীয় জোট ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিজয়ের নেপথ্যে তারুণ্যের গণজোয়ার ছিলো।

তাই একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ছাত্রদলের হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ডের কপালে কিছুটা হলেও চিন্তার ভাজ ফেলতে পারে বলে আমার ধারণা।

কারণ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থীরা যদি এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারা বা অন্য তরুণরা যে নতুন কিছু ঘটাতে পারবে না সেটাও উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

তাই আগামীতে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখা বিএনপির হাইকমান্ডকে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। বিশেষ করে ছাত্র দলের নেতৃত্বকে ঢেলে সাজানো জরুরি।

 

কারণ বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বছরের পর সংগঠনটির কার্যক্রম চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। অনেকের নেই ছাত্রত্ব। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুই তিন জনের বাপ। একেক নেতার বয়স ৩৮-৪০। এক জনে ৫-১০ বছর সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদ আঁকড়ে আছেন। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। তাই তরুণ-তরুণীরা ছাত্রদল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

অথচ এর বিপরীতে শিবির প্রতি বছরই নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনছে। দেখা গেলো ছাত্রদলের এক সভাপতি ৫ বছর এক জায়গায়।

আর শিবিরের এরই মধ্যে ৫ জন সভাপতি বিদায় নিয়ে হয় কেন্দ্রীয় পর্যায়ে, না হয় লেখা পড়া শেষ করে সংসার ও কর্মজীবন শুরু করছেন।

এ বিষয়গুলো কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা দারুণভাবে পর্যবেক্ষণ করে। কোনও আদু ভাইকে ছাত্রনেতা হিসেবে দেখতে চান না তারা। এটা বারবার প্রমাণিত। তাই ছাত্রদলকে ঢেলে সাজাতে তারেক রহমানকেই উদ্যোগ নিতে হবে। না হয় এর খেসারত আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও দিতে হতে পারে বিএনপিকে।

দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

‘শিক্ষাই গড়বে সোনার বাংলা’ স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ‘স্বপ্নছোঁয়া মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নোয়াগাঁও স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলার নোয়াগাঁও ক্যামব্রিয়ান স্কুলে এ আয়োজন করা হয়।

স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. বাবুল খন্দকার।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিয়ে তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার এবং ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকেরা বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা বিকাশ, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ। শুধু শিক্ষা উপকরণ বিতরণ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখানো, তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করা এবং একটি শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবক মো. জাকির হোসেন, আলমগীর হোসেন, মো. শাকিল চৌধুরী, মো. আল আমিন, মো. রেজাউল করিম , মো. মাজহারুল ইসলাম প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল এনাম রনি।

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পিকআপ জব্দ

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পিকআপ জব্দ

ঢাকার আশুলিয়ায় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-উত্তর) বিশেষ অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ মো. জামাল মিয়া ওরফে সেলিম (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ জব্দ করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সাভারে ঢাকা জেলা ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম খান।

তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানাধীন কবিরপুর রেডিও কলোনী জামে মসজিদের সামনে সড়কে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে একটি পিকআপে গাঁজা নিয়ে চন্দ্রা থেকে বাইপাইলের দিকে আসা হচ্ছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে কবিরপুর রেডিও কলোনী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় পিকআপ থেকে ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া জব্দ করা নীল রঙের নম্বরপ্লেটবিহীন ফোটন পিকআপটির আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকা।

গ্রেপ্তার জামাল মিয়া ওরফে সেলিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার বনগজ এলাকার বাসিন্দা। ডিবি পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে তিনটি মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলা ও একটি চুরির মামলা রয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা ডিবি-উত্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই শেখ মফিজুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

ঢাকার আশুলিয়ায় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানকে পথরোধ করে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় জামাল হোসেন মুকুলের স্ত্রী মোছা. আলো বেগম (৪০) ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।তিনি দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় কর্মরত আছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে আশুলিয়ার বাইপাইল শান্তিনগর এলাকায় সিদ্দিকের বাড়ির সামনে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের দাবি, ওই সময় এলাকাটি নির্জন ছিল এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি বুঝে তিনি সিদ্দিকের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং চিৎকার করলে বাড়ি থেকে লোকজন বেরিয়ে আসেন। পরে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যান। এ সময় অন্ধকারে আরও কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি তাঁর। তাঁদের নেতৃত্বে কাউছার নামে এক ব্যক্তি ছিলেন বলেও জানান তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের অভিযোগ, জামাল হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে অতীতে প্রতারণার অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল। ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর সন্দেহ।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন ওই সাংবাদিক।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলী বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।