জ্বালানি সংকট: প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে জামায়াতের চার প্রস্তাব
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দেওয়া ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ দিনের মধ্যে জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় চলমান জ্বালানি সংকট ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই বিরোধীদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন মাস আগেই বিরোধী দল সরকারের কাছে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন না করে বিরোধীদের নিয়ে নানা মন্তব্য করা হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।
‘বিরোধীরা ১৭ বছর মাঠে ছিল না’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে না থাকায় জামায়াতে ইসলামীকে মাঠে দেখেননি। তিনি দাবি করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে জামায়াতের নেতাকর্মীদের জীবন গেছে এবং অনেককে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিরোধী দল সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকুক, কিন্তু জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিযোগিতা হোক স্বচ্ছভাবে।”
জ্বালানি সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। পাশাপাশি নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদনের ক্ষমতা রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলটির প্রস্তাবের মধ্যে আরও রয়েছে, রূপপুর বেজ লোড প্ল্যান্ট বা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কবে উৎপাদনে যাবে এবং এর সম্ভাব্য ট্যারিফ কত হবে, তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা। জরুরি দরপত্র মূল্যায়নে স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কোন ফাইল কোথায় এবং কত দিন ধরে আটকে আছে, সে তথ্য নিয়মিত প্রকাশের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চট্টগ্রামের মহেশখালী ও পটুয়াখালীর পায়রায় টার্মিনাল নির্মাণের কথা থাকলেও সেগুলোর বর্তমান অবস্থা জনগণ জানে না। একইভাবে খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলেও এখনো বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]