খুঁজুন
, ,

নিজ ভূখণ্ডেই বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল, হারিয়ে যাচ্ছে চেনা ভোরের সুর

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
নিজ ভূখণ্ডেই বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল, হারিয়ে যাচ্ছে চেনা ভোরের সুর

অপরিকল্পিত নগরায়ন, কীটনাশকের ব্যবহার ও বৃক্ষনিধনে সংকটে দোয়েলের আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খল

একসময় ভোরের নীরবতা ভেঙে যার মিষ্টি ডাক জানান দিত নতুন দিনের আগমন, সেই জাতীয় পাখি দোয়েল আজ নিজ ভূখণ্ডেই অস্তিত্ব সংকটে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে দোয়েলের নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস।

কৃষি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে দোয়েলের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন কীটপতঙ্গের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দূষিত পোকামাকড় খাদ্য হিসেবে গ্রহণের কারণে পাখিটির স্বাভাবিক জীবনচক্র ও প্রজনন ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে আধুনিকায়নের নামে কেটে ফেলা হচ্ছে পুরনো গাছ, ধ্বংস হচ্ছে বাঁশঝাড় ও প্রাকৃতিক ঝোপঝাড়। অথচ এসব জায়গাতেই একসময় নিরাপদ আশ্রয় ও প্রজননক্ষেত্র গড়ে তুলত দোয়েল। আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় নতুন প্রজন্মের দোয়েলের স্বাভাবিক বিস্তারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

দোয়েলের সংকট শুধু একটি পাখির অস্তিত্ব হারানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য। প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে পাখিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দোয়েলের সংখ্যা কমে গেলে এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাই প্রয়োজন নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ, দেশীয় গাছ রক্ষা এবং কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো। পাশাপাশি পাখির অবাধ বিচরণ ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।

নইলে একসময় হয়তো ভোরের বাতাসে আর শোনা যাবে না দোয়েলের চেনা ডাক। জাতীয় পাখিটিকে তখন খুঁজে নিতে হবে শুধু পাঠ্যবই, স্মারক মুদ্রা কিংবা ডাকটিকিটের ফ্রেমবন্দী ছবিতে।

সাভারে জাল সাক্ষরে মন্দিরের চাল আত্মাসাৎ, হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা

মোঃ রবিউল ইসলাম সিয়াম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
সাভারে জাল সাক্ষরে মন্দিরের চাল আত্মাসাৎ, হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা

দূর্গা পূজা উপলক্ষে সরকারের দেওয়া প্রতি মন্দিরের ৬০০ কেজি চালের একাধিক মন্দির কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে সরকারি চাল উত্তোলন দেখিয়ে আত্মাসাৎ করলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা । ভুল স্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক। এছাড়াও সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার ব্যর্ত চেষ্টা।

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে স্বাক্ষর জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। একাধিক মন্দির কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে, এমন কিছু নথিপত্র ইতোমধ্যে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

এসব বিষয়ে ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সভাপতিরা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের ব্যস্ততার সুযোগে তাঁদের স্বাক্ষর ছাড়াই বরাদ্দের চাল উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা পরে জানতে পারেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

যেসব মন্দিরের নাম উঠে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আশুলিয়ার বাইপাইল বসুন্ধরা গুরুদয়াল দুর্গামন্দির এবং শিমুলিয়া নৈহাটি সরকারবাড়ি দুর্গামন্দির, জামগড়া বেড়ন মহামায়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ও নরসিংহপুর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির। গুরুদয়াল দুর্গামন্দিরের সভাপতি সম্ভু চন্দ্র সরকার এবং জামগড়া বেড়ন মহামায়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি প্রদীপ কুমার সহ আরও বেশ কয়েকজনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সভাপতি সম্ভু চন্দ্র সরকার ও প্রদীপ কুমার জানান, দুর্গাপূজা চলাকালে তাঁরা মণ্ডপের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। এ সময় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে তাঁদের বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য যোগাযোগ করা হয়।

পূজার ব্যস্ততার কারণে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে চাল উত্তোলন করতে পারবেন না জানিয়ে পূজা শেষে কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে বরাদ্দের চাল নিয়ে আসবেন বলে জানান। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

কিন্তু পূজা শেষে বরাদ্দের চাল উত্তোলনের বিষয়ে যোগাযোগ করতে গেলে কার্যালয় থেকে তাঁদের জানানো হয়, নতুন করে স্বাক্ষর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে চাল উত্তোলন করে বিক্রি করা হয়েছে।

মন্দির কমিটির সভাপতিরা বলেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা গুরুতর অনিয়ম। এ ঘটনায় তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

এসন বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেএ সময় তিনি প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দেখান। একপর্যায়ে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে একই কার্যালয়ের একজন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

ঘটনার বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে অভিযোগটি আমাদের নজরে এসেছে। আমি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনে স্বাক্ষর জালিয়াতি , তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয় প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আইনগত দায়ও তৈরি হতে পারে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং সরকারি বরাদ্দের চালের প্রকৃত হিসাব প্রকাশের দাবি উঠেছে।

এ ঘটনায় সাভার উপজেলা প্রশাসন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দাউদকান্দিতে মাদ্রাসা প্রধানের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার :
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
দাউদকান্দিতে মাদ্রাসা প্রধানের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কদমতলী মোহসীনিয়া কওমী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা মকবুল এলাহীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এ সময় হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়নের কদমতলী-বাহেরচর সড়কের মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মকবুল এলাহীর অভিযোগ, মাদ্রাসার মালিকানাধীন জমিতে ফলদ গাছের চারা রোপণ করতে গেলে স্থানীয় ইলিয়াছ মুন্সির নেতৃত্বে কয়েকজন এতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। হামলায় তাঁর নিচের ঠোঁটের বাম পাশে কেটে রক্তক্ষরণ হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার সঙ্গে জমি নিয়ে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৮ অক্টোবর রাতের আঁধারে ওই জমিতে থাকা আটটি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এর কয়েক দিন পর ৪ নভেম্বর সকালে মাদ্রাসার জমিতে ১৭টি ফলদ গাছের চারা রোপণ করতে গেলে ইলিয়াছ মুন্সি ও জহির ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে। এ সময় তাঁরা মাদ্রাসার মুহতামিমকে মারধর করে এবং রোপণ করা ১৭টি গাছের চারা উপড়ে ফেলে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জাকারিয়াকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।
এদিকে হামলার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে শুক্রবার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমিতে গাছের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিমের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী মাওলানা মকবুল এলাহী জানান, এ ঘটনায় ইলিয়াছ মুন্সিকে প্রধান অভিযুক্ত করে দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ইলিয়াছ মুন্সিসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি নিজের ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিন গেল মৌসুমের প্রথম জাহাজ

আহনাফ হামিম | বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিন গেল মৌসুমের প্রথম জাহাজ

দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে পর্যটকদের নিয়ে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে চলতি মৌসুমের প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে আট শতাধিক পর্যটক নিয়ে দ্বীপটির উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি বার আউলিয়া। এর মধ্য দিয়ে নতুন মৌসুমে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হলো।

জাহাজে ওঠার আগে পর্যটকদের ট্রাভেল পাস যাচাই করা হয়। পাশাপাশি দ্বীপ ভ্রমণের সময় পরিবেশ সংরক্ষণ ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় জাহাজের ফিটনেস, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এর আগে বুধবার কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন নৌপথে তিনটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। অনুমোদন পাওয়া জাহাজগুলো হলো—এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। তিনটি জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

গত ২৫ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটিতে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নানা জটিলতা কাটিয়ে আট শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি বার আউলিয়া সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। যাঁরা টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তাঁরাই আজ ভ্রমণে যাচ্ছেন। সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজটি বিকেল আড়াইটায় সেন্ট মার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার আরও দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে সেগুলোও চালু করা হবে। এ ছাড়া আরও ছয়টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেন্ট মার্টিনের পর্যটন নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, জাহাজ চলাচলে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রাথমিকভাবে সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে জাহাজ চলাচল বাড়লে প্রতিটি বিষয় আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, জাহাজের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শনসহ সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম বিআইডব্লিউটিএ পরীক্ষা করে থাকে। পরিদর্শনে সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী পাওয়া গেছে।

এর আগে বুধবার তিনটি জাহাজ চলাচলের ঘোষণা থাকলেও যাত্রী সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত একটি জাহাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, ইতিমধ্যে অনেক পর্যটক টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ সেন্ট মার্টিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের পদচারণায় আবারও মুখর হওয়ার অপেক্ষায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। তবে পর্যটন কার্যক্রমের পাশাপাশি দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।