নিজ ভূখণ্ডেই বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল, হারিয়ে যাচ্ছে চেনা ভোরের সুর
অপরিকল্পিত নগরায়ন, কীটনাশকের ব্যবহার ও বৃক্ষনিধনে সংকটে দোয়েলের আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খল
একসময় ভোরের নীরবতা ভেঙে যার মিষ্টি ডাক জানান দিত নতুন দিনের আগমন, সেই জাতীয় পাখি দোয়েল আজ নিজ ভূখণ্ডেই অস্তিত্ব সংকটে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে দোয়েলের নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস।
কৃষি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে দোয়েলের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন কীটপতঙ্গের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দূষিত পোকামাকড় খাদ্য হিসেবে গ্রহণের কারণে পাখিটির স্বাভাবিক জীবনচক্র ও প্রজনন ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে আধুনিকায়নের নামে কেটে ফেলা হচ্ছে পুরনো গাছ, ধ্বংস হচ্ছে বাঁশঝাড় ও প্রাকৃতিক ঝোপঝাড়। অথচ এসব জায়গাতেই একসময় নিরাপদ আশ্রয় ও প্রজননক্ষেত্র গড়ে তুলত দোয়েল। আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় নতুন প্রজন্মের দোয়েলের স্বাভাবিক বিস্তারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দোয়েলের সংকট শুধু একটি পাখির অস্তিত্ব হারানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য। প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে পাখিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দোয়েলের সংখ্যা কমে গেলে এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাই প্রয়োজন নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ, দেশীয় গাছ রক্ষা এবং কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো। পাশাপাশি পাখির অবাধ বিচরণ ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
নইলে একসময় হয়তো ভোরের বাতাসে আর শোনা যাবে না দোয়েলের চেনা ডাক। জাতীয় পাখিটিকে তখন খুঁজে নিতে হবে শুধু পাঠ্যবই, স্মারক মুদ্রা কিংবা ডাকটিকিটের ফ্রেমবন্দী ছবিতে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]