খুঁজুন
, ,

নির্বাচন কি তাহলে হচ্ছেই? (জোট, ভোট ও নোটের রাজনীতি; পর্ব–৯) ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
নির্বাচন কি তাহলে হচ্ছেই? (জোট, ভোট ও নোটের রাজনীতি; পর্ব–৯) ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। তবে এই নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে— তা শতভাগ নিশ্চিত করে বলার কোনো সুযোগ নেই। ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বিএনপির ২৭ জন, জামায়াতের ০৯ জন, এনসিপির ০২ জন এবং গণধিকার পরিষদের ২৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে আপিলের পর কতজনের মনোনয়ন বহাল রাখা হয়, সেটা একটা বিষয়। পরবর্তীতে যাদের মনোনয়ন স্থায়ীভাবে বাতিল হবে, তাদের পক্ষ থেকে যদি কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, নির্বাচনের পথে সেটি একটি প্রতিবন্ধকতা বলেই গণ্য হবে।
প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ছাড়া প্রায় অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দই সুষ্ঠু নির্বাচন আদৌ হবে কিনা— সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। তাদের সকলেরই দাবি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না— এ কথাটি কেউ বলছেন না। সেজন্যই আমরা বলতে পারি, নির্বাচন ১২ই ফেব্রুয়ারি হবে— তা শতভাগ নিশ্চিত বলার কোনো সুযোগ নেই।
এটা হলো দেশের ভেতরের রাজনৈতিক চাল-চক্রান্তের কথা। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব সময়ই বিদেশিদের প্রচ্ছন্ন হস্তক্ষেপ থাকে; ৫ই আগস্টের পর থেকে যা প্রকট রূপ ধারণ করেছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৫ বছর; কিন্তু কখনোই এ দেশের নির্বাচন ও রাজনীতি বিদেশিদের প্রভাবমুক্ত ছিল না। কারণ বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্যভুক্ত একটি দেশ। যে কারণে সব সময়ই ব্রিটেনের ডিপ স্টেট বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। আমার অনুমান যদি ভুল না হয়, তাহলে এ বছরও বাংলাদেশে রাজনৈতিক আবহাওয়ার গতি পরিবর্তনে তাদের হস্তক্ষেপ বিদ্যমান ছিল— তা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত।
পাশাপাশি পৃথিবীর স্বঘোষিত মোড়ল রাষ্ট্রটি তো তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রের রাজনীতিতেই হস্তক্ষেপ করে থাকে। আর তাদের যেকোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পেছনে থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য— দরকষাকষি এবং তাদের পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষা করার এক অলিখিত নীতিমালা। যদি দেখা যায়, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সেটেল গভর্নমেন্ট রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে গিয়েছে, তখন বিদেশিদের— বিশেষ করে পশ্চিমাদের— অবৈধ, অনৈতিক ও দেশবিরোধী চুক্তি এবং স্বার্থ হাসিল করা অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হবে। সেজন্য তাদের পক্ষ থেকেও নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন না হোক— সে ধরনের প্রচেষ্টা থাকতে পারে।
এ জাতির জন্য এটা সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এ দেশের অধিকাংশ রাজনীতিবিদই রাজনীতির ক্ষেত্রে অপসংস্কৃতির চর্চা করে এসেছেন। রাজনীতির ময়দানে তারাই এগিয়ে থাকেন, যাদের কাছে Money, Muscle, Media, Mandate— এই চারটি শক্তি বিদ্যমান থাকে। তারাই রাজনৈতিক জোরে এগিয়ে থাকেন। পাশাপাশি রয়েছে দেশের রাজনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার জন্য অসাধু ব্যবসায়ী মহল— যাদের মধ্যে কিছু অলিগার ব্যবসায়ী আছে, যারা সবসময়ই রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের চেষ্টা করে থাকেন।
মোদ্দাকথা, বাংলাদেশের রাজনীতি কোনো আদর্শের ওপর গড়ে ওঠেনি; বরং তা গড়ে উঠেছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও দলকেন্দ্রিক রাজনীতির ওপর। যেখানে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ জাতির প্রত্যাশা থাকার পরেও রাজনীতিবিদরা তা উপহার দিতে পারেননি। সহস্রাধিক মানুষের আত্মোৎসর্গের মাধ্যমে সফল অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা গিয়েছে; কিন্তু রাজনৈতিক জঞ্জালগুলো পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি।
অতএব, নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও যারা ক্ষমতায় বসবেন, তাদের পক্ষে এ জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা কতটুকু সম্ভব হবে— সে এক বিরাট প্রশ্ন।
যতদিন পর্যন্ত রাজনীতিবিদদের মধ্যে সততা, স্বচ্ছতা এবং সৎ সাহস না থাকবে, ততদিন পর্যন্ত তাদের পক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দেশের পক্ষে, জাতির পক্ষে কাজ করা আদৌ সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে এখন চলছে ট্যাগিংয়ের রাজনীতি। একদল আরেকদলকে নির্দ্বিধায় ট্যাগিং করছে যে, এ দলটি ভারতের সঙ্গে আঁতাত করেছে। আবার কোনো দল কোনো দলকে বলছে, এ দলটি পিন্ডির সঙ্গে আঁতাত করেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য— এ দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে কেউ দিল্লির বিরোধিতা করে, কেউ পিন্ডির বিরোধিতা করে; কিন্তু সবকিছুর নেপথ্যে যে দেশটির কালো হাত এ দেশের অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অরাজকতার জন্য দায়ী— সে দেশটির (ওয়াশিংটনের) বিরোধিতা কেউ করে না।
অবশ্যই আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রটি আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। কিন্তু জাতীয় রাজনীতি ও বিশ্ব রাজনীতিতে যাদের পড়াশোনা আছে, তারা জানেন— আটলান্টিকের ওপারের কথিত পরাশক্তি দেশটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে কখনো পিন্ডিকে ব্যবহার করে, কখনো দিল্লিকে ব্যবহার করে।
পিন্ডি বাংলাদেশে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না, আর দিল্লি কখনোই সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সাহস বা ক্ষমতা কোনোটাই রাখে না। মূলত তারা বিগতকালে এ দেশে যত ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে— সবই আটলান্টিকের ওপারের সে দেশটির সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়ে কাজ করেছে। আর দ্বিতীয়ত, উগ্রবাদী পৌত্তলিকদের হাতে যে দেশটির নিয়ন্ত্রণ, সে দেশের সরকার ও প্রশাসন দ্বিতীয় বৃহত্তম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ বাংলাদেশের বিরোধিতা করবে— এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কারণ তারা মুসলমানকে তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করে থাকে।
আমার মনে হয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এ দেশের কোনো সরকারই অনুসরণ করেনি; ভবিষ্যতেও করতে পারবে কিনা— সেটারও কোনো গ্যারান্টি নেই। বরং সম্ভাবনাও আছে বলে আমরা মনে করি না। শুধুমাত্র এ দেশে বিশ্বাসী, সৎ ও চরিত্রবান রাজনীতিবিদগণ যদি ইসলামের সুমহান আদর্শকে রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, তখনই সম্ভব হবে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা— যে দেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বাধীন এবং যে দেশের সরকার দিল্লি, পিন্ডি, ওয়াশিংটন কিংবা লন্ডন— কোনো দেশেরই তোয়াক্কা করবে না; বরং স্বাধীনভাবে দেশের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের যোগ্যতা ও সাহস অর্জন করবে।
এ কথাগুলো শোনার মতো ধৈর্য আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের এখন নেই। কারণ প্রত্যেকেই পাওয়ার পলিটিক্সে ব্যস্ত। প্রত্যেকেই আসন ভাগাভাগি এবং নিজ নিজ আসনে কীভাবে বিজয়ী হওয়া যায়— এ বিষয়ে নির্ঘুম কাজ করে যাচ্ছেন। স্থায়ীভাবে বাংলাদেশের সমস্যার সমাধানে খুব কম রাজনীতিবিদই চিন্তা করে থাকেন।
আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দান করুন এবং সকল প্রকার দেশি-বিদেশি চক্রান্ত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করুন। আমীন।

দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

‘শিক্ষাই গড়বে সোনার বাংলা’ স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ‘স্বপ্নছোঁয়া মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নোয়াগাঁও স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলার নোয়াগাঁও ক্যামব্রিয়ান স্কুলে এ আয়োজন করা হয়।

স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. বাবুল খন্দকার।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিয়ে তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার এবং ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকেরা বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা বিকাশ, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ। শুধু শিক্ষা উপকরণ বিতরণ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখানো, তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করা এবং একটি শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবক মো. জাকির হোসেন, আলমগীর হোসেন, মো. শাকিল চৌধুরী, মো. আল আমিন, মো. রেজাউল করিম , মো. মাজহারুল ইসলাম প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল এনাম রনি।

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পিকআপ জব্দ

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পিকআপ জব্দ

ঢাকার আশুলিয়ায় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-উত্তর) বিশেষ অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ মো. জামাল মিয়া ওরফে সেলিম (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ জব্দ করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সাভারে ঢাকা জেলা ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম খান।

তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানাধীন কবিরপুর রেডিও কলোনী জামে মসজিদের সামনে সড়কে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে একটি পিকআপে গাঁজা নিয়ে চন্দ্রা থেকে বাইপাইলের দিকে আসা হচ্ছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে কবিরপুর রেডিও কলোনী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় পিকআপ থেকে ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া জব্দ করা নীল রঙের নম্বরপ্লেটবিহীন ফোটন পিকআপটির আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকা।

গ্রেপ্তার জামাল মিয়া ওরফে সেলিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার বনগজ এলাকার বাসিন্দা। ডিবি পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে তিনটি মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলা ও একটি চুরির মামলা রয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা ডিবি-উত্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই শেখ মফিজুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

ঢাকার আশুলিয়ায় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানকে পথরোধ করে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় জামাল হোসেন মুকুলের স্ত্রী মোছা. আলো বেগম (৪০) ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।তিনি দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় কর্মরত আছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে আশুলিয়ার বাইপাইল শান্তিনগর এলাকায় সিদ্দিকের বাড়ির সামনে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের দাবি, ওই সময় এলাকাটি নির্জন ছিল এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি বুঝে তিনি সিদ্দিকের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং চিৎকার করলে বাড়ি থেকে লোকজন বেরিয়ে আসেন। পরে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যান। এ সময় অন্ধকারে আরও কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি তাঁর। তাঁদের নেতৃত্বে কাউছার নামে এক ব্যক্তি ছিলেন বলেও জানান তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের অভিযোগ, জামাল হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে অতীতে প্রতারণার অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল। ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর সন্দেহ।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন ওই সাংবাদিক।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলী বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।