পঞ্চগড়ে ওলামা দলের ভিডিও-ছবি জামায়াতের নামে প্রচার, ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা
পঞ্চগড়ের এক ওলামা দলের নেতার সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ও ছবি কুড়িগ্রামের কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মী তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা ও ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) পরিচয়ে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ছয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাগেশ্বরী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার) ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মো. এরশাদুল হক নাগেশ্বরী থানায় এ অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল লেমন, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম মিয়া, ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আরমান, জিয়া সাইবার ফোর্স কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা ছাত্রদলের মো. জাহাঙ্গীর আলম, এছাড়া মো. সাইদুল ইসলাম এবং ‘ন্যাশনালিস্ট ফাইদার’ নামের ফেসবুক পেজ পরিচালনাকারী বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীকে ঘিরে আপত্তিকর অবস্থার একটি ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির প্রকৃত ঘটনা পঞ্চগড় জেলার ওলামা দলের এক সদস্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ওই ব্যক্তিকে ঘিরেই ভিডিও ও ছবিটি ধারণ ও প্রচার করা হয়েছে কিন্তু ঘটনার প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে কতিপয় ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই ভিডিও ও ছবিকে ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার ছবি ও পরিচয় হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
ভিডিও ও ছবির প্রকৃত উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই না করে এভাবে প্রচার অব্যাহত থাকলে তা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ভাইরাল ভিডিও ও ছবির প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা প্রচার করছে—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগে নাম থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি অফিসে মানুষের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া, স্থানীয় বিচার-শালিশে অর্থের বিনিময়ে অসহায় ব্যক্তিদের প্রতি অবিচার করা এবং অবৈধভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদী বা পুকুর থেকে বালু উত্তোলনের মতো অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এসব বিষয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও অনেকে ভয় বা বিভিন্ন কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না।
অভিযোগকারী মো. এরশাদুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে ঘিরে যে ভিডিও, ছবি ছড়ানো হয়েছে তাতে অনেকেই আমাকে মিন করে বাজে কমেন্ট করেছে, দলের ভাবমুর্তী নষ্ট করেছে। আমি সামাজিক ও মানষিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছি। সরকার গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে বলছে আর এদিকে সরকারি দলের ব্যক্তিরা গুজব ছড়াচ্ছে। তাই বিষয়টি পরামর্শ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক লিংক ও অন্যান্য তথ্য সহকারে অভিযোগ দাখিল করে প্রচলিত আইনে বিচার চেয়েছি।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে ‘দ্য ডিসেন্ট’ জামায়াতের নামে প্রচারিত ভিডিওটি ফ্যাক্টচেক করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঞ্চগড়ে এক তরুণীসহ আটক ব্যক্তি মো. শহিদুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের পঞ্চগড় জেলা শাখার সদস্য এবং পঞ্চগড় সুগার মিল জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]