খুঁজুন
, ,

মেঘনার সাবেক ইউএনও সামছুল হকের বিরুদ্ধে দুদকে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনে তদন্তের আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
মেঘনার সাবেক ইউএনও সামছুল হকের বিরুদ্ধে দুদকে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনে তদন্তের আবেদন

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শামছুল হকের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, সরকারি খাসজমি ও জলাশয় দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থে বেসরকারি প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে।
দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে মেঘনা উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের সোনারচর মৌজায় ‘শ্যামলিমা সমবায় সমিতি’ নামে গড়ে ওঠা বৃহৎ প্রকল্পটির জমি ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য, জমির মালিকদের অভিযোগ এবং প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান স্থাপনা ও অবকাঠামোর ভিত্তিতে প্রকল্পটির জমি ও সম্পদের পরিমাণ এবং এসব সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় শত বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা প্রকল্পটির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক এক হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটির চেয়ারম্যান হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার নাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মেঘনার সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ শামছুল হকের নাম স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত ভূমিকা নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মোহাম্মদ শামছুল হক ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে লুটেরচর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে জমি ক্রয়, দখল কিংবা দখলের চেষ্টা করেছেন বলে একাধিক ভূমিমালকের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি খাসজমি, নদী ও জলাশয় ভরাট এবং সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
আবেদনে লুটেরচর ইউনিয়নের মিজানুর রহমানের প্রায় সাড়ে ২০ শতক জমি দখলের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার স্বত্ব-মালিকানাধীন জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন ও চাষাবাদ শুরু করার পর কয়েক দফায় সাইনবোর্ড ও সীমানার খুঁটি ফেলে দেওয়া হয় এবং চারাগাছ কেটে ফেলা হয়।
এ ছাড়া নজুর মাস্টারের ছেলে কামাল হাউদের প্রায় ৩২ শতক, বাদশা মিয়ার ছেলে আহাম্মদ মিয়ার প্রায় ৮ শতক, খালেক মিয়ার ছেলে আলী হোসেনসহ আরও কয়েকজনের মোট প্রায় ১১৪ শতক জমি যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগের কথাও আবেদনে বলা হয়েছে। এসব জমির প্রকৃত মালিকানা, রেকর্ড, দলিল, নামজারি, দখল ও হস্তান্তরের ইতিহাস যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
‘শ্যামলিমা’ প্রকল্পের জমির মধ্যে সরকারি খাসজমি, নদী বা জলাশয় রয়েছে কি না এবং নদী বা জলাশয় ভরাট করে প্রকল্পের জমি বাড়ানো হয়েছে কি না—তা ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ, স্যাটেলাইট চিত্র ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্প এলাকায় প্রশস্ত সড়ক, গাইডওয়াল, ফলদ গাছসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। এসব অবকাঠামোর বেশিরভাগ অংশ সরকারি অর্থে নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা যায় , তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাবমার্সিবল টিউবওয়েল স্থাপনের কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ, প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার ও অর্থ ছাড়ের নথি যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও
মোহাম্মদ শামছুল হকের বিরুদ্ধে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে। আবেদনে ঢাকার শান্তিনগরে শত কোটি টাকা মূল্যের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে সম্পদ ও বিপুল পরিমাণ জমি থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তার আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতাধীন কয়েকটি জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলার নথি সংগ্রহ করে প্রকল্পের জমি ক্রয়, অধিগ্রহণ, দখল ও হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী বলেছেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্থানীয় অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না গিয়ে দুদকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
আবেদনে ‘শ্যামলিমা সমবায় সমিতি’র প্রকৃত মালিকানা, জমির পরিমাণ ও সম্পদ অর্জনের উৎস অনুসন্ধান, সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের অভিযোগ যাচাই, সরকারি অর্থে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের সত্যতা পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জ্ঞাত আয় ও সম্পদের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন অভিযোগকারী।

কুমিল্লায় বোন-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা, মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার-৩

এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় বোন-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা, মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার-৩

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন- আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম এবং তার পালিত মেয়ে ইতি।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরনে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিহত খালেদা আক্তারের সঙ্গে তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার জায়গা-জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই সূত্র ধরে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালান আবু মিয়া। হামলার একপর্যায়ে তিনি ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে দুজনকে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার পরপরই অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে প্রথমে আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত মেয়ে ইতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় চলন্ত একটি ট্রেন থেকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদের মুখেই বাতিল হলো ফরিদপুরের সিভিল সার্জনের পদায়ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদের মুখেই বাতিল হলো ফরিদপুরের সিভিল সার্জনের পদায়ন

ফরিদপুরের নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহীর পদায়ন আদেশ বাতিল করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ৮ সেপ্টেম্বরের আদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (মহাখালী, ঢাকা) থেকে ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহীকে (৪০৩৭৭) ফরিদপুরের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছিল। জনস্বার্থে সেই আদেশের প্রয়োজনীয় অংশটুকু বাতিল করা হয়েছে এবং এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহীর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মূল ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে ‘সচেতন ছাত্র সমাজ’-এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা দ্রুত ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রতিবাদ জানান। আন্দোলনকারীদের এই প্রতিবাদের পরদিনই মন্ত্রণালয় থেকে তার পদায়ন বাতিলের এই সিদ্ধান্ত এলো।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরা দুই শিক্ষার্থী

​শিহাব উদ্দিন, ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরা দুই শিক্ষার্থী

​ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গাঁজা সেবনকালে দুই শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সেল। আটককৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুফিয়ান ও একই বিভাগের নাহিদুজ্জামান।

​সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠের পশ্চিম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

​জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠ সংলগ্ন অন্ধকার স্থানে বসে গাঁজা প্রস্তুত করছিল। একপর্যায়ে নিরাপত্তা সেলের এক কর্মী তাদেরকে গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরেন। পরে তাদেরকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানের অবগতির ভিত্তিতে আজ (মঙ্গলবার) প্রক্টর অফিসে বৈঠক ডাকা হয়েছে।

​সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রক্টরিয়াল বডির জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই শিক্ষার্থী বলেন, আমরা অন্যায় করেছি, তবে নিয়মিত সেবন করি না। এ সময় গাঁজা সরবরাহের সাথে জড়িত কয়েকজনের নামও প্রকাশ করে তারা।

​প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যার কাছেই মাদক পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রক্টরিয়াল বডিসহ আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা সারারাত সজাগ থাকেন; কেউ অপরাধ করার সুযোগ পাবে না। ওই শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতিকে অবহিত করা হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

শিহাব উদ্দিন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
০১৭৩৯২০১৫০৫