ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক শিক্ষার্থী ও দোকানদারের মধ্যে ১০ টাকার সিগারেট কেনার টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পকেট গেটে অবস্থিত ‘ইবি মার্ট’-এ এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিব (২৩-২৪) দোকানির কাছ থেকে ১০ টাকার সিগারেট কিনেন। পরে নগদ টাকা না থাকায় বিকাশে টাকা পরিশোধের কথা জানান দোকানিকে। তখন টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় তর্কে জড়ায় দোকানি। এসময় ওই শিক্ষার্থী পাশের দোকান (ইবি মার্ট) থেকে টাকা ধার নিতে যায়। পরক্ষণেই দোকানি এসে পুনরায় তর্কে জড়িয়ে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এসংক্রান্ত একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদার (ইবি মার্ট) জানান, শিক্ষার্থী ওই দোকানদারকে টাকা দেওয়ার জন্য ক্যাশ আউট করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এরপর শিক্ষার্থী ইবি মার্টে এসে ১০ টাকা চান। তিনি টাকা দেওয়ার পর শিক্ষার্থী ওই দোকানদারকে টাকা পরিশোধ করেন। এরপর দোকানদার তাকে ‘এদিকে আয়’ বলে ডাকেন এবং কাছে গেলে তার কলার ধরে ও থাপ্পড় মারেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি দোকানের বাইরে গিয়ে মীমাংসা করার জন্য তারা উভয়কে বাইরে যেতে বলেন। পরে বাইরে গিয়েও কিছু সময় তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। একপর্যায়ে দোকানদার নিজ দোকানে ফিরে যান।
ঘটনার বিষয়ে ওই শিক্ষার্থী রাজিবের দাবি, তিনি দোকান থেকে একটি ক্যামেল (সিগারেট) কেনার পর টাকা পরিশোধ করতে গেলে তার কাছে নগদ টাকা ছিল না। তিনি দোকানদারকে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার কথা বললেও দোকানদার জানান, ‘তার কাছে এসব মাধ্যম নাই’। পরে টাকা ক্যাশ আউট করে দেওয়ার জন্য তিনি ইবি মার্টের দিকে আসেন এবং দোকানদারও তার পিছু নেন।
রাজিব আরও বলেন, ইবি মার্টে এসে তিনি ১০ টাকা নিয়ে দোকানদারকে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পরিশোধ করেন। টাকা দেওয়ার পরও দোকানদার তাকে ‘এদিকে আয়’ বলে ডাকেন। কাছে গেলে তার শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে তার গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে দোকানদারের বলেন, ওই শিক্ষার্থী প্রথমে সিগারেট চান এবং সিগারেট নেওয়ার পর দোকানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ সেটি সেবন করেন। পরে টাকা না দিয়ে দোকান থেকে চলে যাওয়ার সময় তিনি বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার কথা বলেন। দোকানদার দাবি করেন, শিক্ষার্থী টাকা পরিশোধ না করেই চলে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি শিক্ষার্থীর পিছু নেন। দোকানদারের ভাষ্য, বরিশাল হোটেলের (ক্যাম্পাস সংলগ্ন) সামনে যাওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী দৌঁড়ে ইবি মার্টের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি টাকা না দিয়ে দৌঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে শিক্ষার্থী প্রথমে তার কলার ধরে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করেন দোকানদার। পরে দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের ভেতরে চলে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান। পরে ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী সেখানে আসেন বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি থামিয়ে তাদের চলে যেতে বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি শান্ত করে অফিসে আলোচনা করার জন্য উভয়পক্ষকে বলা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]