কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: অবকাঠামো এগোলেও বিদেশি ফ্লাইট নিয়ে অনিশ্চয়তা
কক্সবাজার দেশের পর্যটন শিল্পের প্রাণকেন্দ্র কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শত শত কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে সম্প্রসারণ, আধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে উন্নয়ন কাজ যতই এগোক, বিদেশি কোনো এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট চালুর ঘোষণা এখনো না আসায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক রূপ পেলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা সরাসরি কক্সবাজারে আসতে পারবেন। এতে পর্যটন শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সফলতা কেবল অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। নিয়মিত বিদেশি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর বাণিজ্যিক আগ্রহই একটি বিমানবন্দরের প্রকৃত আন্তর্জাতিক পরিচয় নিশ্চিত করে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স কক্সবাজারে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও বিদেশি ফ্লাইট ছাড়া বিমানবন্দরটি কতটা কার্যকরভাবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি এয়ারলাইন্সকে আকৃষ্ট করতে শুধু আধুনিক অবকাঠামোই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটের চাহিদা, যাত্রীসংখ্যা, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি এবং কার্যকর বিপণন কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দর মূলত অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সমঝোতা ও বাণিজ্যিক চুক্তি না হলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সুবিধা কাজে লাগানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সরকারের আশা, চলমান উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো কক্সবাজারে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী হবে। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
এখন কক্সবাজারবাসী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, কবে সরাসরি বিদেশি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ অবতরণ করবে কক্সবাজারে, আর কবে প্রকৃত অর্থেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু করবে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই বিমানবন্দর?


আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]