খুঁজুন
, ,

কক্সবাজার লাবণী সৈকতে পর্যটকদের জন্য চালু হলো সুপেয় পানি সরবরাহের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পর্যটন নগরী

মো:আরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার লাবণী সৈকতে পর্যটকদের জন্য চালু হলো সুপেয় পানি সরবরাহের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পর্যটন নগরী

কক্সবাজারের লাবণী সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের সুবিধার্থে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘FRF Iron & Arsenic Removal Water Treatment Plant’। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও গণস্বাস্থ্য বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অধিকাংশ অঞ্চলের পানি লবণাক্ত ও পানের অনুপযোগী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সৈকতে আগত পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানির সংকট ছিল। বিষয়টি কক্সবাজার জেলা পুলিশের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আনা হলে পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার যৌথভাবে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগের ফলে লাবণী সমুদ্রসৈকতে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটক ও সাধারণ মানুষ সহজেই নিরাপদ ও বিশুদ্ধ সুপেয় পানি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পর্যটন এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সৈকতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও এ ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হলে পর্যটকসেবা আরও উন্নত হবে।

আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৩

ঢাকার আশুলিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শগ্রামের একটি অটো গ্যারেজ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সৈয়দ আলভী (৩০), মো. মামুন (৩৪) ও জহিরুল (২৭)। তাঁদের মধ্যে আলভীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা, মামুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত দুটি ও অন্যান্য ধারায় তিনটিসহ মোট পাঁচটি মামলা এবং জহিরুলের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি ও চুরির দুটি মামলার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ডিবি-উত্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে এসআই মো. শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল অংশ নেয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, আশুলিয়া থানার আউকপাড়া আদর্শগ্রামের জাহানারা বেগমের মালিকানাধীন একটি অটো গ্যারেজে কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সেখানে অভিযান চালানো হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গ্যারেজ থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।

এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে লোহার তৈরি কাঠের বাটযুক্ত একটি বিদেশি পিস্তল এবং এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা পিস্তলটির কাঠের বাটসহ তির্যক দৈর্ঘ্য সাত ইঞ্চি। অস্ত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘TTA’ ও ‘ALY’ লেখা খোদাই করা রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চকরিয়ায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
চকরিয়ায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার

 

 

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম এবং কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান, পিপিএম-সেবা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) তাঁরা চকরিয়া থানাধীন বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল আজিজ এবং চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে তাঁরা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সম্প্রীতিময় পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে।

ইউএনও জাকির হোসেনের মহানুভবতায় হারিয়ে যাওয়া কন্যাশিশুকে ফিরে পেল পরিবার

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
ইউএনও জাকির হোসেনের মহানুভবতায় হারিয়ে যাওয়া কন্যাশিশুকে ফিরে পেল পরিবার

কখনো অচেনা মানুষের আশ্রয়, কখনো প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগ। সবশেষে দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে পরিবারের কাছে ফিরছে ১১ বছরের শিশু আঁখি। হারিয়ে যাওয়া এই শিশুকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন। তার আন্তরিক উদ্যোগে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে দাউদকান্দি পৌরসভার স্থানীয় এক বাসিন্দা শিশুটিকে খুঁজে পান। শিশুটি জানায়, তার নানার বাড়ি পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলায়। কিন্তু নানার বাড়ি কোন গ্রামে, তা বলতে পারছিল না সে। ফলে পরিচয় ও ঠিকানা নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসেন ইউএনও মো. জাকির হোসেন। শিশুটিকে নিজের জিম্মায় রেখে তার পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান পেতে উদ্যোগ নেন তিনি।

পরে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক আইডিতে শিশুটির পরিবারের সন্ধান চেয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। স্থানীয় সাংবাদিকসহ ও মেঘনা ভোরের কাগজের সাংবাদিক এ নিয়ে ফলাও করে নিউজ করে। এ বিষয়ে আরও তৎপর হন কুমিল্লার কাগজের সাংবাদিক আলমগীর হোসেন।

পাশাপাশি দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশও শিশুটির স্বজনদের খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করে।
প্রশাসনের আন্তরিকতায় ফলে অবশেষে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।

উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের নির্দেশে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা টিপু সুলতানের তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে ঢাকার সুত্রাপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিশুটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাবার নাম গিয়াস উদ্দিন এবং মায়ের নাম রোকসানা। তাঁদের বাড়ি ঢাকার ধূপখোলা, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর এলাকায়। গিয়াস উদ্দিন পেশায় একজন ফল বিক্রেতা। চার ভাইবোনের মধ্যে আঁখি সবার ছোট। তার বড় দুই ভাই ফারুক ও রবিন এবং বড় বোন পারুল।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, “শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বর্তমানে সে পরিবারের জিম্মায় রয়েছে।

কাঁদতে কাঁদতে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা:
সন্তান হারানোর কষ্ট যে কতটা গভীর, তা কেবল একজন মা-ই অনুভব করতে পারেন। আর সেই সন্তানকে ফিরে পাওয়ার খবর যেন অন্ধকারে আশার আলো। আঁখির মা রোকসানা আক্তার জানান, আমি দাউদকান্দি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দেয়—মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ থাকলে প্রশাসনের একটি উদ্যোগও অসহায় পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটাতে পারে। ইউএনও জাকির হোসেনের উদ্যোগে আঁখির পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি সেই মানবিকতারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এ বিষয়ে সমাজকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিক তৌফিক রুবেল বলেন, ইউএনও মো. জাকির হোসেন স্যারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি হারানো শিশু তার পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছে এটা একটা ভালো বার্তা। শিশুটি ওনার কাছে না আসলে দিকভ্রান্ত হয়ে অন্য কোন খপ্পরে পড়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এসব থেকে শিশুটি নিরাপদ ছিল ; এজন্য ইউএনও স্যারকে মানবিক মানুষ হিসেবে ধন্যবাদ জানাই।