খুঁজুন
, ,

থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন জুলাই বিপ্লবে আহত চাঁদপুরের নাবিল : ছেলের সুস্থতার অপেক্ষায় বাবা সিদ্দিকুর রহমান

মোঃ কাউছার পাটোয়ারী বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন জুলাই বিপ্লবে আহত চাঁদপুরের নাবিল : ছেলের সুস্থতার অপেক্ষায় বাবা সিদ্দিকুর রহমান

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমানের একমাত্র সন্তান নাবিল আহমেদ। আজ দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নাবিলের চিকিৎসার লড়াই শেষ হয়নি। ছেলের সুস্থতার আশায় এখনো থাইল্যান্ডের ভেজথানি হাসপাতালে নির্ঘুম রাত কাটছে এই হতভাগা পিতার।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে এক সাক্ষাৎকারে এমটিভি বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক কাউছার পাটোয়ারীকে দেওয়া আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় সিদ্দিকুর রহমান নিজের এবং পরিবারের দুঃসহ স্মৃতির কথা তুলে ধরেন।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমার ছেলের রক্তের বিনিময়ে কেনা আজকের বাংলাদেশ। অথচ আমার সন্তান আজও হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছে। ২০২৪ সালের ১৯ ও ২০ জুলাই ঢাকা শহরের কোনো হাসপাতাল আমার ছেলেকে ভর্তি নিতে চায়নি। মুমূর্ষু অবস্থায় ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালের পেছনের দরজা দিয়ে কাঁধে করে ছেলেকে ভর্তি করাই। তার আগে এক দিন এক রাত আমরা অ্যাম্বুলেন্সেই ছিলাম।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “হাসপাতালে ভর্তির এক ঘণ্টা পরই ডিবি পুলিশের এএসপি নিপাত বিশ্বাসের নেতৃত্বে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ১৫ দিন ডিবির হেফাজতে আমাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এমনকি ছেলের অপারেশন না করিয়ে আমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। আমি সেদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের পায়ে ধরে ছেলের অপারেশন করিয়েছিলাম। সেই দিনের কথা মনে পড়লে আজও আমার কলিজা কেঁপে ওঠে।”

আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যারা পরিবার নিয়ে নিরাপদে ছিল, আজ তারাই বড় নেতা।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলেসহ হাজারো মায়ের সন্তান কি এসব অপকর্মের জন্যই জীবন দিয়েছিল? হাজার হাজার মানুষ আজ পঙ্গু। পঙ্গু হাসপাতাল কিংবা থাইল্যান্ডের হাসপাতালে গেলেই দেখা মিলবে কত মা-বাবা সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে চোখের পানি ফেলছেন।”

নিজের সন্তানের চিকিৎসা এবং সমাজের চলমান অস্থিরতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানান সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আজকের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন, এই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ান। একই সঙ্গে চাঁদপুর-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টি কামনা করছি যাতে এলাকায় চলমান দখলদারিত্ব ও অপকর্মের লাগাম টেনে ধরা হয়।”
নাবিল আহমেদের সুস্থতা এবং জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত সুফল পেতে সমাজের বিবেকবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন এই পিতা।

গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ও কারখানায় হামলা-ভাঙচুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ও কারখানায় হামলা-ভাঙচুর

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বেশ কয়েকটি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে আশপাশের কয়েকটি চালু কারখানায়ও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল আনসার রোড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কে চলাচলরত বেশ কয়েকটি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে আশপাশের উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকা কয়েকটি কারখানায়ও হামলার ঘটনা ঘটে।

হঠাৎ এ হামলার ঘটনায় কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করে।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা সেখান থেকে সরে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

টেকনাফে এসআরবি-১৫-এর বড় অভিযান: ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও ৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
টেকনাফে এসআরবি-১৫-এর বড় অভিযান: ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও ৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও পাঁচটি দেশীয় তৈরি অস্ত্রসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার গ্রামের আঠারো ঘরপাড়া এলাকায় সীমান্তসংলগ্ন একটি ধানক্ষেতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসআরবি-১৫-এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি চক্র সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার এলাকায় অবস্থান করছে। পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের নাইখংখালী এলাকার সলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আবছার উদ্দীন (১৯) এবং মৌলভীবাজার এলাকার ছলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আদিল (২৬)।

এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের মাধ্যমে বড় বড় ইয়াবার চালান দেশে প্রবেশ করছে। এসব মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এসআরবি-১৫-এর ৫৫টি অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা, ৪৮ কেজি গাঁজা, একটি একনলা বন্দুক, দুটি ওয়ান শুটারগান, ১৭ রাউন্ড গুলি ও ২৭ রাউন্ড গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতজন অপহৃত ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং মোট ৮৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অধিনায়ক বলেন, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নির্মূলে এসআরবি-১৫-এর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে পর্যায়েরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে বাহিনী বদ্ধপরিকর।

গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

শৈলকূপাতে দুই নারী ছিনতাইকারী আটক

এইচ এম রাহুল ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
শৈলকূপাতে দুই নারী ছিনতাইকারী আটক

 

ঝিনাইদহের শৈলকূপা বাজারে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে চক্রের দুই নারী সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ছিনতাইকারী দুইজন জামালপুর জেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তাকতাপাড়া গ্রামের ফরিদা বেগম (২১) এবং একই গ্রামের নিপা আক্তার (২৬) । তারা উভয়েই বেদে সম্প্রদায়ের ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসহাক হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শৈলকূপা বাজারের পূবালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে আসেন। ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা উত্তোলন শেষে বের হয়ে পুরাতন সোনালী ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্য তাকে ঘিরে ধরে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বৃদ্ধ ইসহাকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে চক্রের দুই সদস্য পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা দুই নারী সদস্যকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, জনতার হাতে আটক দুই নারীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।