হাসিনার প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত দিল্লির সঙ্গে সব বড় বৈঠক স্থগিতের পথে ঢাকা!
শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফর করবেন না তারেক রহমান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত না হলে ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা—এমনটিই আভাস পাওয়া যাচ্ছে কূটনৈতিক মহলে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের দাবি, গত কয়েকদিনের কূটনৈতিক আলাপচারিতায় বাংলাদেশ তার এই কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে ভারতকে জানিয়ে দিয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছিল যে, আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এবার জানা যাচ্ছে, কেবল সম্মেলন নয়, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎও এখন শেখ হাসিনার অবস্থান ইস্যুর ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার চায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় ঢাকার পক্ষ থেকে ‘কঠোর কূটনৈতিক বার্তা’ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, কিন্তু আমাদের অভ্যন্তরীণ ন্যায়বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এখন একটি প্রধান ইস্যু। যতক্ষণ না এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বড় কোনো দ্বিপাক্ষিক সফরে আগ্রহ দেখাচ্ছে না সরকার।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে পটপরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও ভারত সরকার তা এখনো আইনি ও কূটনৈতিক পর্যালোচনার দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]