খুঁজুন
, ,

সাভারের পাকিজা মোড়ের ইউটার্ন এখন গলার কাঁটা, দ্রুত বন্ধের দাবি

মোঃ রবিউল ইসলাম সিয়াম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
সাভারের পাকিজা মোড়ের ইউটার্ন এখন গলার কাঁটা, দ্রুত বন্ধের দাবি

সাভারের ব্যস্ততম পাকিজা মোড়ের ইউটার্ন এখন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও পরিবহন শ্রমিকদের জন্য যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানজট কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হলেও বাস্তবে এই ইউটার্নকে ঘিরে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউটার্নটি ব্যবহারের সময় যানবাহনগুলো এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে পড়ায় দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে পাকিজা মোড় এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। ইউটার্ন দিয়ে একসঙ্গে অনেক যানবাহন ঘুরতে গিয়ে সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির বেপরোয়া চলাচল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। অনেক সময় যানজট আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।

পথচারী রাকিব হাসান বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। পাকিজা মোড়ের কাছে এলেই ভয় হয়—কতক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হবে বলা যায় না। ইউটার্নটি যদি যানজটের কারণ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

আরেক পথচারী সুমাইয়া আক্তার বলেন, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষদের জন্য এই যানজট খুবই কষ্টকর। বিশেষ করে সকালে সময়মতো স্কুল-কলেজ বা কর্মস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ইউটার্নের কারণে যদি যানজট বাড়ে, তাহলে এটি বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থা করা দরকার।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যানজটের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। গাড়ির সারি আর মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। শুধু ইউটার্ন বন্ধ করলেই হবে না, এর পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং ও রাস্তার ওপর যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানোও বন্ধ করতে হবে।

একজন অটোরিকশাচালক জানান, ইউটার্নের আশপাশে যানবাহনের সংখ্যা বেশি থাকায় অনেক সময় চালকদের বাধ্য হয়েই রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলতে হয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। তবে তিনি মনে করেন, ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট লেন ব্যবস্থাপনা থাকলে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্থানীয়দের দাবি, পাকিজা মোড়ের ইউটার্নটি যানজট কমানোর পরিবর্তে যদি যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এর কার্যকারিতা পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজনে ইউটার্নটি বন্ধ করে বিকল্প ইউটার্ন, ট্রাফিক সিগন্যাল বা অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের মতে, শুধু ইউটার্ন বন্ধ করাই স্থায়ী সমাধান নয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

সাভারবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পাকিজা মোড়ের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন পথচারী ও পরিবহন ব্যবহারকারীরা এবং স্বাভাবিক হবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের যান চলাচল।

২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নদীতে নামার প্রস্তুতি জেলেদের

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নদীতে নামার প্রস্তুতি জেলেদের

উপকূলজুড়ে মাছঘাটে ব্যস্ততা, জাল-নৌকা মেরামতে সময় পার করছেন জেলেরা; বাগেরহাটেও ইলিশ আহরণ ঘিরে প্রত্যাশা

মা ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরপরই নদীতে মাছ ধরতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উপকূলীয় এলাকার জেলেরা। জাল মেরামত, নৌকা প্রস্তুত করা এবং মাছ ধরার সরঞ্জাম ঠিকঠাক করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল, শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জসহ উপকূলীয় জনপদে ইলিশ আহরণকে ঘিরে জেলেদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

মৎস্য খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি জেলেদের জীবিকা ও উপকূলীয় অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।

অভিযানের পর নদীতে ফেরার অপেক্ষা

নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় উপকূলের অনেক জেলে পরিবারকে সীমিত আয় ও সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এ সময়ে নৌকা ও জাল মেরামত করে পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতি নিয়েছেন তাঁরা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে নেমে মাছ আহরণের পরিকল্পনা করছেন জেলেরা।

বাগেরহাটের মোংলা ও আশপাশের এলাকার জেলেদের জীবিকার সঙ্গে পশুর, মোংলা ও সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর মৎস্যসম্পদ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ইলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত আড়তদার, ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও এ সময়ের ওপর নির্ভরশীল।

তবে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা, আবহাওয়া, জ্বালানি ব্যয় এবং মাছ ধরার সরঞ্জামের খরচের ওপর জেলেদের আয় অনেকাংশে নির্ভর করবে।

সুন্দরবনসংলগ্ন নদীতেও সতর্কতা জরুরি

বাগেরহাটের উপকূলীয় অঞ্চলে ইলিশ আহরণের পাশাপাশি সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর সামগ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও অন্যান্য প্রচলিত মৎস্য আইন, নির্দিষ্ট এলাকায় মাছ ধরার বিধিনিষেধ এবং জালের ব্যবহারসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা এবং ছোট ইলিশ বা জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে মাছের উৎপাদন ও জেলেদের আয়—দুই ক্ষেত্রেই সুফল পাওয়া সম্ভব। এ জন্য নিষেধাজ্ঞার সময় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

সহায়তা ও নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি

উপকূলীয় জেলেদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাবে এবং দীর্ঘ বিরতির পর তাঁরা পরিবারের জীবিকা নির্বাহের মতো আয় করতে পারবেন। তবে মাছের উৎপাদন বাড়ার সুফল পেতে হলে নদীর পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ জাল বন্ধ এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মাছঘাটগুলো আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় মৎস্য খাতসংশ্লিষ্টদের। এখন জেলেদের অপেক্ষা নদীতে নামার এবং জালভরা ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফেরার।

বেতন ও বকেয়া পরিশোধে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
বেতন ও বকেয়া পরিশোধে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বাড়ছে ব্যয়ের চাপ, রাজস্ব ঘাটতিতে বাড়ছে ব্যাংকঋণ নির্ভরতা

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবর মাসের বেতন ও আগের তিন মাসের বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যাংক খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম আহ্বান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ নভেম্বর বেতন ও বকেয়া অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের ২৭ তারিখ পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। নতুন নিলামের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলে চলতি মাসে মোট ঋণ উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাসে এটিই হবে সর্বোচ্চ ঋণ উত্তোলন।

কেন বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম

সরকারের স্বল্পমেয়াদি অর্থের চাহিদা মেটাতে সাধারণত ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিল ইস্যু করা হয়। তবে রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিলে ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে জানান, আগামী রোববার (১ নভেম্বর) নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হবে। এ জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম আহ্বান করা হয়েছে।

এর আগে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে ব্যাংক খাত থেকে ৫৬ হাজার কোটি টাকা, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরে সাড়ে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার।

তবে এসব ঋণের বড় অংশ আগের ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে অর্থ পরিশোধ কিংবা পুনঃঅর্থায়নে ব্যয় হয়েছে। ফলে নিলামের মাধ্যমে মোট ঋণ উত্তোলনের পরিমাণ এবং সরকারের প্রকৃত বা নিট ঋণের হিসাব এক নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। বাকি অর্থের জোগান দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাড়ছে ট্রেজারি বিলের সুদহার

সরকারের ঋণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেজারি বিলের সুদহারও বাড়ছে। গত ৫ অক্টোবর ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২৬ অক্টোবর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে।

অথচ গত আগস্টের শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আয় না হওয়ায় সরকারকে ব্যাংক খাত থেকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে। সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থের জোগান দেওয়াই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব।

তিনি জানান, ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের ঋণনির্ভরতা কমাতে চলতি অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার শরিয়াহভিত্তিক সুকুক ইস্যুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট ঘাটতি ও রাজস্ব আদায়ে চাপ

চলতি অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই রাজস্ব আদায়ে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দেয়। পরবর্তী মাসগুলোতেও প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে।

নতুন বেতনকাঠামোয় ব্যয় বাড়বে

নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এ ছাড়া পেনশনভোগীর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেতন, ভাতা ও পেনশনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা।

নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়বে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

ঋণনির্ভরতা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে বিশেষ ট্রেজারি বিল ইস্যুর বিষয়টিকে অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

তিনি বলেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে নতুন বেতনকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ানো হলে সরকারের ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাত আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হওয়ায় সরকারকে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিতে হচ্ছে। এমনকি মেয়াদপূর্তির ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও নতুন ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিকল্প নেই।

সূত্র: বণিক বার্তা

গাজীপুরের নিজের জমিতে ঘর করতে গিয়ে চাচাতো ভাইদের হামলার শিকার ভুক্তভোগী পরিবার আহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
গাজীপুরের নিজের জমিতে ঘর করতে গিয়ে চাচাতো ভাইদের হামলার শিকার ভুক্তভোগী পরিবার আহত ৩

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন দৌলতপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. ইউসুফ আলী বাদী হয়ে গাছা থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাদী মো. ইউসুফ আলী ও তাঁর পরিবারের লোকজন পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দুপুরের দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় নির্মাণাধীন টিনের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।
প্রতিবাদ করতে গেলে হামলাকারীরা বাদীপক্ষের লোকজনের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে আমির হোসেন, রহিমা বেগম, ইমান আলী ও নাতনি ইশিতা আক্তার গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় মো. ফজল, মো. আলম, মো. সোহেল, মো. রউফ ও মোসা. রেণুজাসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। “তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”