খুঁজুন
, ,

দাউদকান্দিতে দ্বিতীয় দিনে রাতের মোবাইল কোর্ট অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে ৫ জনের কারাদণ্ড

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
দাউদকান্দিতে দ্বিতীয় দিনে রাতের মোবাইল কোর্ট অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে ৫ জনের কারাদণ্ড

 

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজার এলাকায় রাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের দায়ে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে পরিচালিত এ অভিযানে চারজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অপর একজনকে দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় পাঁচজনকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন চান্দিনা উপজেলার জামিড়া পাড়ার মাইনউদ্দিন (৪৩), একই উপজেলার অমলপুরের ইকরাম হোসেন(২০), কুটুম্বপুরের ইসমাইল (২০), এছাড়াও দাউদকান্দি উপজেলার মালিখিল এলাকার মাসুদ আলম(৩০)।
অপরদিকে দাউদকান্দি উপজেলার ভাজরা গ্রামের ইমন(১৯) ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও বিনাশ্রম ২ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

অভিযানে দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. খলিলুর রহমান, দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ, গৌরীপুর তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক সেবন ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধ দমনে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।”
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, “মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। মাদক নির্মূলে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে। মাদক সেবন ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে আইনানুগ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত এ উদ্যোগকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুবলার চরের শুঁটকি অর্থনীতি ও পর্যটন: সম্ভাবনার আড়ালে অব্যবস্থাপনা

ম.ম.রবি ডাকুয়া :
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
দুবলার চরের শুঁটকি অর্থনীতি ও পর্যটন: সম্ভাবনার আড়ালে অব্যবস্থাপনা

কোটি টাকার রাজস্ব, হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান—তবু বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ সুরক্ষায় ঘাটতি; অপরিকল্পিত পর্যটনেও বাড়ছে ঝুঁকি

সুন্দরবনের দক্ষিণ উপকূলে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা দুবলার চর। প্রতি বছর শুঁটকি উৎপাদন, হাজারো জেলের কর্মসংস্থান এবং ঐতিহ্যবাহী রাসমেলাকে ঘিরে এই বিচ্ছিন্ন জনপদ হয়ে ওঠে অর্থনৈতিক ও পর্যটন কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অথচ বিপুল রাজস্ব ও কর্মসংস্থানের বিপরীতে সেখানে কর্মরত মানুষের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষা রয়ে গেছে নানা সীমাবদ্ধতায়। ফলে শুঁটকি অর্থনীতি ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনার পাশাপাশি দুবলার চরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অব্যবস্থাপনার সংকট।

শুঁটকি উৎপাদনে অর্থনীতির বড় অবদান

সুন্দরবনের দক্ষিণ উপকূলের এই মৌসুমি জনপদে সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে শুঁটকি উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ। মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের এই চরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জেলে, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা এসে অস্থায়ী বসতি গড়েন। মাছ আহরণ, বাছাই, শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন—সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুবলার চরে প্রায় ৫ হাজার ১০০ টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়। এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এই পরিসংখ্যান চরটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে। একই সঙ্গে শুঁটকি উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার বিষয়টিও সামনে আনে।

তবে এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে। ফলে মাছ আহরণ, অস্থায়ী বসতি স্থাপন ও উৎপাদন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বন বিভাগের অনুমতি, লাইসেন্স এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধ গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করাই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ।

মৌলিক সুবিধার সংকটে শ্রমজীবী মানুষ

শুঁটকি উৎপাদনের মৌসুমে আলোরকোল, মেহেরআলীর খাল ও নারিকেলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে। মাসের পর মাস এসব এলাকায় অবস্থান করলেও জেলে ও শ্রমিকদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ জ্বালানি ও জরুরি যোগাযোগের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শব্দদূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হয়। বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনার সময় ভোগান্তি বাড়ায়।

জেলেদের অভিযোগ, তাঁরা বছরের একটি উল্লেখযোগ্য সময় এই চরে অবস্থান করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখলেও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। টেলিটক ছাড়া অন্য মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমিত প্রাপ্যতার অভিযোগও রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থার এই সীমাবদ্ধতা ঝড়, দুর্ঘটনা কিংবা অসুস্থতার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার পথে বাধা হতে পারে।

তবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনগত ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই সমাধানের পথ হতে হবে বন সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—যেমন নিরাপদ পানির মৌসুমি ব্যবস্থা, বর্জ্য সংগ্রহ, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি যোগাযোগের উপযোগী পরিবেশবান্ধব সেবা।

রাজস্ব আদায় বনাম দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা

দুবলার চরে শুঁটকি উৎপাদন থেকে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি জেলে ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অংশ। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কী পরিমাণ ব্যবস্থা রয়েছে, কোথায় ঘাটতি এবং তা পূরণে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য ও জবাবদিহি প্রয়োজন।

বন বিভাগের অনুমতি ও লাইসেন্সের আওতায় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও শুধু রাজস্ব আদায় দিয়ে ব্যবস্থাপনার সাফল্য পরিমাপ করা যায় না। উৎপাদনকেন্দ্রের বর্জ্য কোথায় যাচ্ছে, মাছ শুকানোর কাজে কী ধরনের জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে, অস্থায়ী বসতিতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ কতটা বজায় থাকছে—এসব বিষয়ও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা দরকার।

শুঁটকি উৎপাদনের বর্জ্য, প্লাস্টিক, জ্বালানি ব্যবহারের অবশিষ্টাংশ এবং অপরিকল্পিত মানববসতি আশপাশের পরিবেশে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রে এসব ঝুঁকি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি।

রাসমেলা ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা

দুবলার চরের আরেকটি বড় আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা ও পুণ্যস্নান। কার্তিকী পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসবে প্রতিবছর পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বঙ্গোপসাগরের উপকূল এবং শুঁটকি উৎপাদনের কর্মযজ্ঞও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই পর্যটন কার্যক্রম স্থানীয় অর্থনীতিতে বাড়তি অবদান রাখতে পারে। নৌযান চলাচল, পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ ও অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়; পর্যটনের চাপ যেন বন, বন্য প্রাণী ও উপকূলীয় পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

এর জন্য পর্যটক চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব নৌযান ও জ্বালানির ব্যবহার এবং বন বিভাগের তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাসমেলা ও পুণ্যস্নানের সময় নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা এবং যোগাযোগের জন্য কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনা থাকা জরুরি।

টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

দুবলার চরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও পরিবেশগত সংবেদনশীলতা—দুটিই বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট জেলে ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ ক্ষেত্রে স্থায়ী অগ্রগতি কঠিন।

প্রথমত, জেলে ও শ্রমিকদের জন্য পরিবেশবান্ধব উপায়ে নিরাপদ পানীয় জল, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, শুঁটকি উৎপাদনের বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, উৎপাদনকেন্দ্র ও পর্যটন এলাকায় নিয়মিত পরিবেশগত তদারকি এবং বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজস্ব আয়, উৎপাদনের পরিমাণ ও পরিবেশগত প্রভাবসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হলে ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা বাড়বে।

দুবলার চর কেবল শুঁটকি উৎপাদনের কেন্দ্র নয়; এটি হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই জনপদের উন্নয়নকে শুধু রাজস্বের হিসাব দিয়ে বিচার করলে চলবে না। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মানুষের মৌলিক চাহিদা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই দুবলার চরের সম্ভাবনাকে টেকসই সম্পদে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে কোটি টাকা নিয়ে তৃতীয় বিবাহ করে লাপাত্তা স্বামী, টাকা উদ্ধারে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন দাউদকান্দির মেয়ে প্রথম স্ত্রী

দাউদকান্দি কুমিল্লা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে কোটি টাকা নিয়ে তৃতীয় বিবাহ করে লাপাত্তা স্বামী, টাকা উদ্ধারে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন দাউদকান্দির মেয়ে প্রথম স্ত্রী

চট্টগ্রাম ইপিজেডের ইয়াংওয়ান কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তা ও কুমিল্লার দাউদকান্দির মেয়ে নার্গিস আক্তারের অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভনে এক কোটি টাকা নিয়ে তৃতীয় বিয়ে করে আত্মগোপনে রয়েছেন স্বামী শাহাদাত হোসেন টিটু।
টাকা উদ্ধারে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক কন্যাসন্তানের জননী নার্গিস।
এদিকে ভয়ভীতি, হুমকি-ধমকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। এ ঘটনায় দেশবাসীর কাছে বিচার চেয়েছেন এই নারী।

১০ অক্টোবর শনিবার কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মলয় ডেক্রিখোলা এলাকার নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন নার্গিস আক্তার।

তিনি জানান, ২০০৯ সালের দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হাজারীপাড়া গ্রামের বড়বাড়ির বাসিন্দা আবুল বাশারের ছেলে শাহাদাত হোসেন টিটুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১০ সালে শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে শাহাদাত হোসেনের মায়ের আপত্তির কারণে স্ত্রী নার্গিস আক্তারকে নিজের ঘরে তুলে নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রথম স্ত্রীর রেজিস্টার ভুক্ত দেনমোহর না থাকায় অনুমতি ছাড়াই ২০১২ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন শাহাদাত হোসেন।

নার্গিসের দাবি, শাহাদাত হোসেনের পূর্ববর্তী কর্মস্থলে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা করেন গ্রাহকেরা। এসব মামলার কারণে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে যান। পরে প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তার কয়েক লাখ টাকা খরচ করে তাঁকে মামলা থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করেন। ২০১৫ সালে ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তার স্বামী শাহাদাত হোসেনের সাথে বিবাহ রেজিস্ট্রি করেন

এরপর বিভিন্ন সময়ে নানা কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক ধাপে নার্গিস আক্তারের কাছ থেকে চেক ও লিখিত স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এক কোটি টাকা নেন শাহাদাত হোসেন। টাকা নেওয়ার পর থেকেই প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তারের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। গত আট মাস আগে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই তৃতীয় বিয়ে করেন শাহাদাত হোসেন। এরপর থেকে তিনি লাপাত্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ নার্গিসের।

তিনি জানান, টাকা লেনদেনের বিপরীতে পাওয়া চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। এরপর পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য এক কন্যাসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন তিনি।

নার্গিস আক্তারের অভিযোগ, সর্বশেষ গত ১৬ আগস্ট শাহাদাত হোসেন তাঁর গ্রামের বাড়ি দাউদকান্দির ডেক্রিখোলায় আসেন। সেখানে এসে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক একাধিক ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধস্তাধস্তি হলে শাহাদাত হোসেন নার্গিস আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দিয়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ১৬ আগস্ট দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানান নার্গিস আক্তার। এরপর থেকে শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে তাঁর সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

নার্গিসের আরও অভিযোগ, বর্তমানে তাঁর কাছ থেকে নেওয়া টাকা দিয়ে শাহাদাত হোসেন ট্রাভেলসের ব্যবসা করছেন। স্ত্রী সন্তানের কোন খোঁজ খবর রাখছেন না তিনি।

এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রথমে দুই ঘন্টা পর তাহার বক্তব্য জানানোর কথা বলেন। ২ ঘন্টা পর ফোনে চেষ্টা করলে পাওয়া যায়নি তাকে। অপেক্ষা করে দ্বিতীয় দিন আবারো মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে পাওয়া যায়নি তাকে।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ সাজেদুল ইসলাম এর সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বিস্তারিত আমার জানা নেই।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নৌবাহিনীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাচা-চাচিকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ, নারীর ৩ আঙুল ভেঙেছে

​নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
কুমিল্লার দেবিদ্বারে নৌবাহিনীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাচা-চাচিকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ, নারীর ৩ আঙুল ভেঙেছে

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জয়পুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাচা ও চাচিকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত নারীর বাঁ হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ওই দুই পক্ষের মধ্যে বিগত ১০ বছর যাবত বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়শই বাকবিতণ্ডা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তাদের মধ্যে আবারো কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা বশির তার চাচা ও চাচির ওপর চড়াও হন এবং তাদের বেধড়ক মারধর ও পিটাতে থাকেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
​ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয় উল্লেখ করে জড়িত ব্যক্তির উপযুক্ত বিচার দাবি করা হয়েছে।
​অন্যদিকে, অভিযুক্ত নৌবাহিনী কর্মকর্তা বশিরের দাবি—এটি আত্মরক্ষার্থে ঘটেছে। তিনি বলেন, “এটা আমাদের পারিবারিক ঝামেলা—বিগত ১০ বছর ধরেই চলে আসছে। তারা আমাকেও আঘাত করেছে, তাই আমি নিজেকে বাঁচাতে আত্মরক্ষা করেছি।”
​এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে।” তদন্ত শেষে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।