খুঁজুন
, ,

প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েটের উপাচার্যকে উদ্ধার করল প্রশাসন

চুয়েট প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েটের উপাচার্যকে উদ্ধার করল প্রশাসন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে নিয়ে গেছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল তাঁকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যায়।

উপাচার্যকে নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব মাইকে বলেন, ‘আর কখনো চুয়েটের মাটিতে পা রাখবেন না, এমন শর্তেই আমাদের নবনিযুক্ত ভিসিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ এ সময় জেলা প্রশাসকের পাশে উপাচার্যকে নীরব অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এর আগে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের করে নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হন উপাচার্য। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে তালাবদ্ধ ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, সোমবার সকাল ১১টা থেকে তাঁরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টায় ভবনে তালা লাগানোর কথা উপাচার্যকে জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, উপাচার্য স্বেচ্ছায় ভবনের ভেতরে ছিলেন, তাঁকে জোর করে অবরুদ্ধ করা হয়নি। মানবিকতার কারণে তাঁর পানির সরবরাহ চালু রাখা হয়েছিল।

আরেক শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্য পদত্যাগ করলে তাঁকে সম্মানের সঙ্গে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে শর্ত দিয়েছিলেন তাঁরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ভবনের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ওই কক্ষ ও পাশের ঘরে তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। প্রথমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে না চাইলেও পরে কক্ষের দরজার সামনে এসে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে অত্যন্ত অমানবিক অবস্থায় আছি। পরিস্থিতির কারণে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে, সেটি তাদের বিষয়।’

উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে দুই চিকিৎসকের ভিন্ন বক্তব্য

অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের বক্তব্যে অমিল দেখা দেয়। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিন তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। চিকিৎসক জানান, উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক ছিল। তিনি বুকে ব্যথার কথা জানাননি এবং হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেননি।

তবে দুপুর ২টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. টিবলু কান্তি দে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জানান, উপাচার্য সকাল ১০টা থেকে বুকে মৃদু ব্যথা অনুভব করছিলেন। চিকিৎসক প্রথমে তাঁর রক্তচাপ ১৪০/১০০ এবং পরে ১৫০/১০০ মিমি পারদ বলে উল্লেখ করেন।

দুই চিকিৎসকের বক্তব্যে অমিল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনুরোধে পুনরায় যৌথভাবে উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তবে ওই পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সাভারে মদ তৈরির কারখানায় চীনা নাগরিকসহ ২ জন গ্রেফতার

মোঃ রবিউল ইসলাম সিয়াম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সাভারে মদ তৈরির কারখানায় চীনা নাগরিকসহ ২ জন গ্রেফতার

সাভারে মদ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে চীনা নাগরিকসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ১৫ লিটার বাংলা মদ ও মদ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে সাভার মডেল থানার ট্যানারি ফাঁড়ির ইনচার্জ মহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, সোমবার দিবাগত রাতে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি এলাকার গ্রিন টাওয়ারের ১০ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চীনা নাগরিক লি ডাম্পে (৫৩) ও বাংলাদেশের চম্পা বেগম (৩৫)। ট্যানারি ফাঁড়ির ইনচার্জ মহিদ জানান, মদ তৈরির সরঞ্জাম ও ১৫ লিটার বাংলা মদসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আজ সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শেরপুরের কুসুমহাটিতে পূবালী ব্যাংকের ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং বুথ উদ্বোধন

‎জান্নাতুল বাকী স্টাফ রিপোর্টার, শেরপুর
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
শেরপুরের কুসুমহাটিতে পূবালী ব্যাংকের ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং বুথ উদ্বোধন

শেরপুরের কুসুমহাটি বাজারে গ্রাহকদের আধুনিক ও সহজ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে পূবালী ব্যাংক পিএলসির ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং ও সিআরএম (ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন) বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুসুমহাটি বাজারে   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব বুথের কার্যক্রম চালু করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বুথ দুটির উদ্বোধন করেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক ও টাঙ্গাইল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অঞ্চলপ্রধান মো. বেল্লাল হোসেন।
‎
‎পূবালী ব্যাংক পিএলসির শেরপুর টাউন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা ব্যবস্থাপক বাবুল চন্দ্র দাস। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অপু রাকিবুল ইসলাম। এ সময় ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের ক্যাশলেস ও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে লক্ষ্য, তা বাস্তবায়নে পূবালী ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। গ্রাহকরা যেন সহজেই ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং ও সিআরএম বুথ চালু করা হয়েছে।”
‎
‎তিনি আরও বলেন, এসব বুথের মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে আরও বেশি সুবিধা পাবেন। সহজে ও দ্রুত অর্থ লেনদেনের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রসার ঘটবে। গ্রাহকরা এ সেবার শতভাগ সুফল ভোগ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‎
‎ব্যাংকিং সেবাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া, সময় সাশ্রয় এবং প্রচলিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর চাপ কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ানো এবং আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে এ উদ্যোগ সহায়ক হবে।
‎
‎এদিকে, কুসুমহাটি এলাকায় ১৩ অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ‘সহজ ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন’ পরিচালনা করা হবে। এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের ক্যাশলেস ব্যাংকিং ও ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে সচেতন করা এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দাউদকান্দিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
দাউদকান্দিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় দাউদকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি দুর্যোগসহনশীল সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়। দুর্যোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করাই এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.জাকির হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ, উপজেলা দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা (পিআইও) কর্মকর্তা মোহাম্মদ বায়েজিদ আহমেদ,উপজেলা বিআরডিবি অফিসার টিপু সুলতান, দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস অফিসের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর এরশাদ হোসাইন
,দাউদকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব জসীমউদ্দিন আহম্মেদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক মিহিন উল্লাহ, সহকারী প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন,সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সাহাদৎ হোসেন,
দাউদকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেজবা উদ্দিন সরকার,
অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু সাইদ জান, সহকারী শিক্ষক মামুন সরকার
প্রমুখ।

এছাড়াও র‍্যালী ও ফায়ারসার্ভিসের পক্ষ থেকে দুর্যোগকালাীন সময়ে কী করনীয় সে বিষয়ে বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়েছে।