খুঁজুন
, ,

অসাদুপায়ে কর্মচারীর ৭ বছর বয়স কমালেন কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, স্থগিত বেতন দেন ভারপ্রাপ্ত সুপার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার

মোঃ মাইদুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
অসাদুপায়ে কর্মচারীর ৭ বছর বয়স কমালেন কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, স্থগিত বেতন দেন ভারপ্রাপ্ত সুপার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মজিবর রহমানের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই না করে অনৈতিক লেনদেনে ৭ বছর বয়স কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত সুপার ও আরও কয়েকজন ব্যক্তি এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চাকরি সংক্রান্ত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও উক্ত কর্মচারীর বেতন প্রদান করেন ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম।

এদিকে সুপার সাঈদুর রহমানের সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার হলেও ভারপ্রাপ্ত সুপার দায়িত্ব ছাড়ছেন না, অনিয়মের অভিযোগ ছয় মাস থেকে সকল শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ থাকার বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মজিবর রহমান ২০০০ সালে অষ্টম শ্রেণি পাসের প্রশংসাপত্র দেখিয়ে কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হন। তার প্রশংসাপত্রে জন্মতারিখ ৩ নভেম্বর ১৯৬২ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৯৬২৪৯১০৬১৯৪০৭৭৯৭-এও একই জন্মতারিখ লিপিবদ্ধ। সে হিসেবে ২ নভেম্বর ২০২২ সালে তার চাকরির বয়সসীমা শেষ হওয়ার কথা।

কিন্তু এমপিওভুক্তির সময় ভুলভাবে তার জন্মতারিখ ১ মার্চ ১৯৬৯ লিপিবদ্ধ হয়। বয়সের এই গরমিল সংশোধনের জন্য তৎকালীন সুপার সাঈদুর রহমান ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মজিবর রহমানকে একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। প্রশংসাপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী এমপিও শিটের বয়স সংশোধন না করায় ২০২৩ সালে তার বেতন বন্ধ করে এমপিও শিট থেকে নাম কর্তনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়।

বেতন স্থগিতের পর মজিবর রহমান অবসরে না গিয়ে উল্টো প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। একই সময়ে মজিবরসহ ঐ প্রতিষ্ঠানের ৫ জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে উক্ত মাদ্রাসার সহ-মৌলভী মোস্তাফিজুর রহমান মামলা করেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সুপার সাঈদুর রহমানকে চক্রান্তমূলকভাবে গ্রেপ্তার ও সাময়িক বরখাস্ত করা হলে ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব পান সহ-মৌলভী আমিনুল ইসলাম। আমিনুল সহ-সুপার পদে নিয়োগ নিয়ে কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে সহ-মৌলভী হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি একক ক্ষমতাবলে মজিবর রহমানের বয়স সংশোধনের প্রত্যয়ন দেন। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন হওয়ার পর আদালতের কোনো আদেশ ছাড়াই প্রায় তিন বছরের স্থগিত বেতন উত্তোলনের ব্যবস্থা করেন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি বার্ষিক/২৫ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করেই বই বিতরণ করেছেন। এসব কাজে তার সহযোগী হিসেবে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সফিয়ার, মজিবর রহমান, ইমরুল রাসেল এবং তিলাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন ও সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জড়িত রয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুন মাসে কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন কোনো তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই মজিবর রহমানের জন্মতারিখ ৩ নভেম্বর ১৯৬২ থেকে পরিবর্তন করে ১ মার্চ ১৯৬৯ করেন। এর ফলে চাকরির বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও প্রায় তিন বছরের স্থগিত বেতন উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। অথচ মজিবর রহমানের চাকরি ও বয়স সংক্রান্ত একাধিক মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।

অনুসন্ধানে মজিবর রহমানের দুটি পৃথক অষ্টম শ্রেণির প্রশংসাপত্র পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রশংসাপত্র প্রদানকারী সাবেক সুপার আব্দুল জলিল জানান, জন্মসাল ১৯৬২ উল্লেখ করা প্রশংসাপত্রটি তার নিজের হাতের লেখা। তবে ১৯৬৯ সালের জন্মসাল উল্লেখ করা কম্পিউটার সিলযুক্ত প্রশংসাপত্রটি তার লেখা নয় এবং সে সময় কোনো কম্পিউটার সিল ব্যবহারের প্রচলন ছিল না জানান।

আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, যদি মজিবর রহমানের জন্ম ১৯৬৯ সাল হয়, তিনি ১৯৮১ সালে অষ্টম শ্রেণি পাস করায় তার বয়স দাঁড়ায় মাত্র ১২ বছর, যা শিক্ষা বিধি ও বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে তার ভাইবোনদের বয়সের সঙ্গেও বড় ধরনের অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মজিবর রহমান আদৌ অষ্টম শ্রেণি পাস করেননি এবং ভুয়া সনদের মাধ্যমে চাকরি গ্রহণ করেছেন। তার শিক্ষাজীবনের সহপাঠীদের নাম জানতে চাইলে তিনি বন্ধু দিয়ে কি হবে, প্রশংসাপত্র প্রদানকারী সুপার জীবিত আছেন।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল দাবি করেন, মজিবরের দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচাই করেই বয়স সংশোধনের প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই বেতন প্রদান করা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের সফিয়ার, মজিবর রহমান, ইমরুল রাসেল এবং তিলাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন ও সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানায় ইতিপূর্বে সুপার সাঈদুর রহমানের অনিয়মের বিষয়ে অনেক নিউজ হয়েছে।

এডহক কমিটির সভাপতি মাহফুজার রহমান বলেন, পরিচালনা কমিটিকে অবহিত না করে এবং কোনো রেজুলেশন ছাড়াই মজিবর রহমানের বয়স সংশোধন ও বেতন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টতই বিধিবহির্ভূত। এছাড়া বরখাস্ত প্রত্যাহার করা হলেও ভারপ্রাপ্ত সুপার দায়িত্ব ছাড়ছে না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বয়স ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তিনি বেতন বিলের প্রতিসাক্ষরের মাধ্যমে স্থগিত বেতন প্রদানে পরোক্ষ সহায়তা করেছেন এবং ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন, তবে পরবর্তীতে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তিনটি বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন, যদিও সেসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

জেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, মজিবর রহমানের এমপিও কপি, প্রশংসাপত্র, জন্ম নিবন্ধন ও ভারপ্রাপ্ত সুপারের প্রত্যয়ন পাওয়ার পর জন্মতারিখ সংশোধন করা হয়েছে। তার বেতন বন্ধ বা আদালতে মামলা চলমান রয়েছে—এ তথ্য তিনি জানতেন না। তিনি আরও বলেন, আদালতের রায়ে চাকরি শেষ হলে জাতীয় পরিচয়পত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। তবে অনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই বলেও দাবি করেন।

জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদন ও তথ্য দেখেছি। নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে তারা দেখবেন আর প্রতিষ্ঠান বিষয়ে তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি না দেখে কিছু বলা সম্ভব নয়। তথ্যসহ সচিব বা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে লিখিত বা হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগ দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

অনেক নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের বানান, তথ্যসহ একাধিক ভূল রয়েছে। সংশোধন করতে গিয়ে অনেক হয়রানির শিকারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, অতীতে সুপার সাঈদুর রহমান দোষ করে থাকলেও বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে একজন কর্মচারীর বয়স ৭ বছর কমিয়ে অবৈধভাবে বেতন উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা মজিবর রহমানের নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স সংশোধন ও বেতন প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।