কুমিল্লা-১ আসনে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি–মেঘনা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের উদ্যোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণাকালে নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও হেনস্তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় দাউদকান্দি উপজেলার ষোলপাড়া নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা জেলা কর্মপরিষদ ও শূরা সদস্য বিলকিস আক্তার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-১ আসনে নারী সমাজের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের দাবি, বিএনপির কতিপয় সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে নারী ভোটার ও কর্মীদের লক্ষ্য করে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, গত কয়েক দিনে দাউদকান্দির বিভিন্ন এলাকায় নারী কর্মী ও সমর্থকদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪ ফেব্রুয়ারি বিটেশ্বর ইউনিয়নের নৈয়ার গ্রামে হান্নান মেম্বারের নেতৃত্বে হামলা, ৩১ জানুয়ারি গৌরীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে মনির ও জয়নালের নেতৃত্বে নারীদের ওপর আক্রমণ, পদুয়া ইউনিয়নে জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তারের দোকানে মারধর, সুন্দলপুর ইউনিয়নের বড়গোয়ালী গ্রাম, পাঁছগাছিয়া ইউনিয়নের হরিনা বাজারখোলা ও জিংলাতুলী গ্রামে হামলার অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া মেঘনা উপজেলার বড়কান্দা ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে মাইকিং করে বাহারপুর এলাকায় নারীদের ওপর হামলা ও হিজাব ধরে টানাটানির ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিলকিস আক্তার বলেন, বিভিন্ন গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণাকালে নারী কর্মীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা, অপমান, কটূক্তি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে করে দাউদকান্দি-মেঘনার নারী সমাজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ফাতেমা জাহান, পৌরসভা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি শিরিন হক, সহ-সেক্রেটারি খোরশেদা আক্তার এবং সাবেক সেক্রেটারি হাসিনা মমতাজ লাকি প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]