গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: বিএনপির সাবেক নেতা গ্রেপ্তার
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক স্কুলছাত্রী (১৩) ও এক তরুণকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ওই স্কুলছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রোববার ভোরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় গ্রামে অভিযান চালিয়ে নয়ন গোলদার (৪৫) নামে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। তিনি কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় গ্রামের নীরোদ গোলদারের ছেলে এবং হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান সইতে না পেরে ওই শিক্ষার্থী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি বাড়িতে ফিরেছেন।
ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, আটক নয়ন গোলদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন স্কুল চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি ওই স্কুলছাত্রী ও তরুণকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনা ভিডিও ধারণ করে, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমি ঘটনার দিন স্কুলে ছিলাম না। পরে বিষয়টি শুনেছি। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি বাড়িতে ফিরছেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার সময় প্রধান শিক্ষকের রুটিন দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “সেদিন ওই শিক্ষার্থী স্কুলে আসেনি। স্কুলের পোশাক পরে রাহুথর থেকে হাতিয়াড়া গ্রামে যায়। সেখান থেকে এক তরুণসহ তাকে কয়েকজন ধরে এনে স্কুলের গেটের পাশে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। তখন শিক্ষকরা ক্লাস নিতে ব্যস্ত ছিলেন। গেটের পাশের জায়গাটি স্কুল অফিস থেকে অনেক দূরে হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মচারীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে টের পাননি। পরে নয়ন গোলদার তাদের স্কুল অফিসে নিয়ে আসেন এবং অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেন।”
তিনি আরও বলেন, “স্কুলছাত্রীকে ধরে আনার আগে কী ঘটেছিল, তা আমার জানা নেই। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করা হয়।”

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]