খুঁজুন
, ,

দরিদ্র হাজং পরিবারকে নতুন ঘর দিলেন : ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
দরিদ্র হাজং পরিবারকে নতুন ঘর দিলেন : ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

সামান্য বৃষ্টি হলেই চিন্তার শেষ নাই। রাত জেগে সারারাত বসে থাকতে হতো ভাঙ্গা ঘরে। পুরাতন টিন ও প্লাস্টিক দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া জরাজীর্ণ ঘর। ঘরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার ঘরে রাত কাটাতে হতো। এমন মানবেতর জীবন থেকে এবার নতুন ঘরে উঠেছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ৮৩ বছর বয়সী কিরণ হাজং ও তার স্ত্রী পিকলা হাজং (৭৮)।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে অসহায় এই দম্পতির হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। তাদের জন্য নতুন বসত ঘরটি উপহার দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

উপজেলার ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা কিরণ হাজং বার্ধক্যের কারণে প্রায় চোখে দেখতে পান না। চলাফেরার জন্য অন্যের সহায়তা নিতে হতো। স্ত্রী পিকলা হাজংও বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তাদের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে চলে তাদের জীবন। একসময় মানুষের জমিতে ধান কাটার পাশাপাশি শুঁটকি মাছ ধরা ও দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন কিরণ হাজং। বয়সের ভারে এখন আর কোনো কাজ করতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক ভাতার জন্য চেষ্টা করেও তা পাননি বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

কিরণ হাজং বলেন, “আগে মানুষের জমিতে কাজ করতাম। এখন শরীরে আর শক্তি নেই, চোখেও ঠিকমতো দেখি না। বয়স্ক ভাতা পেলে অন্তত দুবেলা ভালোভাবে খেতে পারতাম। আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা ছিল একটি নিরাপদ ঘর। নতুন ঘর পেয়ে আমরা খুব খুশি।” ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে আমি চির ঋনী হয়ে থাকবো। ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের জন্য আমরা দোয়া করি, সে যেনো দীর্ঘজীবী হয়।

এর আগে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিউজ হয়েছিলো। এখবর দৃষ্টিগোচর হয় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। পরবির্ততে ওনার নিজস্ব টিম দিয়ে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে খোঁজ নেন এবং নতুন ঘরে উপহার দেয়ার ব্যাবস্থা করেন। বৃদ্ধ দম্পতির জন্য নির্মিত নতুন ঘরটি তৈরির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন লেংগুড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিলন মিয়া।

হাজং দম্পতিকে নতুন ঘর বুঝিয়ে দেওয়ার সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, কিরণ হাজং ও তার স্ত্রী পিকলা হাজং। অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, কুল্লাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, সংরক্ষিত নারী সদস্য রিতা নকরেক, স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

কিরণ হাজং ও পিকলা হাজং দম্পত্তি নিজেরাই ফিতা কেটে নতুন ঘরের উদ্বোধন করেন। পরে তারা উপস্থিত সকলকে নিয়ে নতুন ঘরে প্রবেশ করেন। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ঘর ছেড়ে নতুন ঘরে প্রবেশের সময় তাদের মধ্যে আনন্দ ও আবেগের অনুভূতি বিরাজ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা জিতেন্দ্র হাজং বলেন, “কিরণ হাজং ও পিকলা হাজং দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামে বসবাস করছেন। আগে তারা কাজ করতে পারতেন। এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। চোখেও কম দেখেন। ফলে কোনো কাজ করতে পারেন না। সন্তানরা থাকলেও তারাও আর্থিকভাবে অসচ্ছল। বৃষ্টি হলেই সারারাত বসে থাকতো। সংসারের সকল কিছু ভিজে যেতো। এই দুর্দশার থেকে মুক্তি করে দিলে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক বলেন, “কিরণ হাজং বয়স্ক ভাতার জন্য চার বছর আগে আবেদন করেও ভাতা পাননি। সাংবাদিকরা তাদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার পর বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা হয়েছে। এখন নতুন ঘর পাওয়ায় তারা অন্তত নিরাপদে থাকতে পারবেন। তবে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ ও চিকিৎসাসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

দুর্গাপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রিতা নকরেক বলেন, “আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখেছি, তারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে বসবাস করছিলেন। ঘরটি জরাজীর্ণ ছিল এবং বিদ্যুৎ সংযোগও ছিল না। নতুন ঘর পাওয়ায় তারা এখন কিছুটা স্বস্তি পাবেন।”

এলাকাবাসী জানান, আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টা কায়সার কামাল কে অসহায় এই বৃদ্ধ দম্পতির দীর্ঘদিনের দুর্দশার অবসানে নতুন ঘর দেয়ার জন্য। এই ঘটনা মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে তাদের জীবনযাপন স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।