দুই পাশে নামী স্কুল, মাঝে ‘মৃত্যুকূপ’: ভাঙা কালভার্টেই নিত্যদিন দুর্ঘটনা
শরীয়তপুর: দুই পাশে দুটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর মাঝখানে যেন ওত পেতে আছে এক ‘মৃত্যুকূপ’।
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে আছে।
সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ এই কালভার্টটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম দুর্ভোগ আর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন এখানে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, আহত হচ্ছে স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা।
দুর্ভোগের কেন্দ্রে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ভাঙা কালভার্টটির একপাশে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী ডাঃ হুমায়ূন কবির উচ্চ বিদ্যালয় এবং অন্যপাশে ৪৫নং কাচিকাটা/চরভাগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন এই দুই প্রতিষ্ঠানের শত শত শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থী এই নড়বড়ে কালভার্ট পার হয়েই ক্লাসে যাতায়াত করে।
ঝুঁকিপূর্ণ এই কালভার্ট দিয়ে পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুসহ স্থানীয় পথচারীরা। ভাঙা অংশে পা ফসকে পড়ে গিয়ে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটি এই মরণফাঁদ অবস্থায় পড়ে থাকলেও এটি মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগ আর আতঙ্ক এখন চরমে পৌঁছেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ বুদ্ধিজীবী ডাঃ হুমায়ূন কবির উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়:
“আমরা প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসি। কখন যে কার পা ভেঙে যায়, সেই ভয়ে থাকতে হয়। আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত এই কালভার্টটি সংস্কার বা নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।”
জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ
দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা শরীয়তপুর-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, চরভাগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘মৃত্যুকূপ’ কালভার্টটি সংস্কার করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মহল।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]