খুঁজুন
, ,

ফটিকছড়িতে পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান: বড় সাজ্জাদ বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, খুনি-চাঁদাবাজ কালা মোবারকসহ ৪ জন গ্রেফতার; বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার!

মোহাম্মদ আবির
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
ফটিকছড়িতে পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান: বড় সাজ্জাদ বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, খুনি-চাঁদাবাজ কালা মোবারকসহ ৪ জন গ্রেফতার; বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার!

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম মহোদয়ের দিক-নির্দেশনায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

গত ১৩ জুন ২০২৬ খ্রি. পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

ইতোমধ্যে পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত আসামি আফসার, ধামা ইলিয়াস ও দিদারকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ বাহিনীটির সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীদের গুলি, আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলি

এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. ভোররাতে পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম-এর নির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ও সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স ফটিকছড়ি থানাধীন লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারী মোবারক ও তার সহযোগীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে এবং সরকারি অস্ত্র ও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা গুলি চালান। ফলে পুলিশ ও সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কালা মোবারকসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভিতে শনাক্ত কালা মোবারক

গ্রেফতারকৃত মুহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক (৩৭) পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাসুদ হত্যা মামলার সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তকৃত আসামি। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তলটি (ব্রাজিলের তৈরি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুটকৃত সরকারি অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। অস্ত্রটির উৎস এবং কীভাবে এটি অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃত মোবারক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। অস্ত্র পরিচালনায় সে ব্যাপক পারদর্শী। সে একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, খুনি ও চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত প্রায় সকল খুন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় এই মোবারক নিজেই উপস্থিত থেকে গুলি করত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি বড় সাজ্জাদের নির্দেশের বাইরেও ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকায় সে নিজস্ব ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ

১। ১টি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল (ব্রাজিলের তৈরি)
২। ১টি ৭.৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল (ইতালির তৈরি)
৩। ১টি বিদেশি রিভলবার (পাকিস্তানের তৈরি)
৪। ১টি দেশীয় পিস্তল
৫। ১৮ রাউন্ড ৯ এমএম পিস্তলের গুলি
৬। ৫ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের গুলি
৭। ৩টি পিস্তলের ম্যাগাজিন
৮। ৩টি পিস্তলের গুলির খোসা
৯। ৪টি শটগানের গুলির খোসা

গ্রেফতারকৃত আসামিরা

১। মুহাম্মদ মোবারক ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক (৩৭)
পিতা- মোঃ লোকমান
ঠিকানা- হাছি চৌধুরীর বাড়ি, সাং- মানিকপুর, ৪ নং ওয়ার্ড, কাঞ্চনগর ইউনিয়ন, থানা- ফটিকছড়ি, জেলা- চট্টগ্রাম।

২। মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০) (শিবির বাবুলের ফুফাতো ভাই)
পিতা- বদিউল আলম
ঠিকানা- ওয়াজ পল্লানের বাড়ি, দিঘির পাড়, শাহনগর, লেলাং ইউনিয়ন, থানা- ফটিকছড়ি, জেলা- চট্টগ্রাম।

৩। মোঃ ফরিদ (৫০)
পিতা- মৃত আমির হোসেন
ঠিকানা- ওয়াজ পল্লানের বাড়ি, শাহনগর পল্লানপাড়া, লেলাং ইউনিয়ন, থানা- ফটিকছড়ি, জেলা- চট্টগ্রাম।

৪। মোঃ নাছির (৫২)
পিতা- মৃত শমসু সওদাগর
ঠিকানা- ওয়াজ পল্লানের বাড়ি, শাহনগর পল্লানপাড়া, লেলাং ইউনিয়ন, থানা- ফটিকছড়ি, জেলা- চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূল এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অপরাধী যতই শক্তিশালী বা দুর্ধর্ষ হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।