খুঁজুন
, ,

বর্তমান সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা বললেন ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
বর্তমান সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা বললেন ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

বর্তমান সরকারের সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ।
ছাব্বিশের জুলাইয়ের প্রায় অর্ধেকটাই দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা, বিরোধিতা, হানাহানি, মারামারি, রক্তপাত চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। এরই মধ্যে আবার কানাঘুষা হচ্ছে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কে আসবে—তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। বিষয়গুলো অনেকেই সাদামাটাভাবে নিচ্ছেন যে, জুলাই মাস চলে এসেছে বলেই এনসিপি পদযাত্রায় নেমেছে, তাদের অস্তিত্ব ও উপস্থিতিকে জানান দেওয়ার জন্যে। জামায়াতের অবস্থা— “ধরি মাছ না ছুঁই পানি”; বরং বক্তব্য, বিবৃতি, হুঙ্কারে তারা সরকারেরই বিরোধিতা করেছে, যদিও তা ছিল অত্যন্ত সংযতভাবে। বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করলে, বিশ্লেষণ করলে বর্তমান সরকারের জন্য সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে; শিক্ষিত সচেতন দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকের কাছেই— তা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

প্রথম যে বিষয়টি—দেশে জামায়াত এনসিপি ১১ দলীয় জোটের ব্যাপক আস্ফালন, মিছিল-মিটিং আর কথায় কথায় সরকারকে মসনদ থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুঙ্কার, স্থূল দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের কাছে নিছক রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি মনে হলেও আমার কাছে কেন যেন মনে হয় এসব কিছুর পিছনে আটলান্টিকের ওপারের মোড়ল রাষ্ট্রটির ডিপ স্টেট এর রোল প্লে হচ্ছে।

মনে করুন, এই মুহূর্তে বর্তমান সরকারকে যদি পরিবর্তন করা হয়, স্বাভাবিক প্রশ্ন আসে— রাষ্ট্র পরিচালনায় কারা আসবে? জামায়াত এনসিপির পক্ষে রাষ্ট্রক্ষমতা নেওয়া ও পলিটিকাল স্টেবিলিটি ফিরিয়ে আনা মোটেও সম্ভব নয়। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সেনা শাসন আসার পথ সুগম হবে। সেটা তথাকথিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ, বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ ও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃত্তির জন্য কত বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে —তা কি একবারও আমরা চিন্তা করেছি? তার সহজ জবাব— অনেকে অনেক কিছু চিন্তা করার পরেও ব্যক্তি স্বার্থ, রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে আদর্শকে বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত হয়ে যায়; যেটা নৃতাত্ত্বিকভাবে খুব বেশি বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবেই প্রমাণিত।

এখন একটু ভিন্ন আলাপে যাচ্ছি‌। এনসিপি কি জেনে-বুঝেই সরকার বিরোধী কঠোর অবস্থানে গিয়েছে? কোনো পক্ষ থেকে কি তাদেরকে প্রলোভন দেওয়া হয়েছে? এ সরকার যদি Fall করে, এ সরকার যদি ব্যর্থ সরকার হিসেবে প্রমাণিত হয়, এনসিপিকে কি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে? যদি এ ধরনের প্রলোভন থেকে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই তাদেরকে মনে রাখতে হবে, সেটি তাদের জন্য ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়, তারা ধোঁকায় নিপতিত হবে—তাতে কোন সন্দেহ নেই।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ডিসেম্বর মাসে। দেশব্যাপী যে বিষয়টি চাউর হয়েছে, এটিকেও সাদামাটাভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। এখানেও আটলান্টিকের ওপারের সেই মোড়ল রাষ্ট্রটির ডিপ স্টেটই নোংরা খেলা খেলছে। তার কারণ বর্তমান বিএনপি সরকারকে সেই কথিত পরাশক্তি নামক দেশটি আর ভরসা করতে পারছে না। কারণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর এবং মায়ানমার ও চায়নার করিডোরে বাংলাদেশের সংযোগ—এসব কিছুই দক্ষিণ পূর্ব চীন সাগর এলাকায় সে দেশটির আধিপত্যকে খর্ব করবে। সেজন্য বর্তমান সরকারের প্রতিও তাদের কোন আস্থা নেই। তারা বিকল্প হিসেবে চিন্তা করতে পারে যে, আওয়ামী লীগকে আবার পুনর্বাসন করা যায় কিনা। রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা আওয়ামী লীগ সেই শক্তিধর রাষ্ট্রটির দেশ বিরোধী প্রস্তাবনাকে মেনে নিবে কিনা—সেটাও সময় বলে দিবে। তার কারণ হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে সচেতন সকলেরই জানা যে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে চায়নার প্রভাবকে খর্ব করার জন্য আমেরিকা মূলত ভারতকে গোমস্তা হিসেবে ব্যবহার করে। সেজন্য ভারতের অনেক অনুরোধ ও আবদার তাদের রক্ষা করতে হয়। ভারত সরকার ভালো করেই জানে যে, বাংলাদেশে তাদের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক দল একটাই, সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাদেরকে যদি পুনর্বাসিত করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কোন সুযোগ আর থাকে না। আমার তো মনে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কূটনৈতিক সার্জিওর বাংলাদেশের তিন দিনের সফরে আওয়ামী লীগকে অ্যাক্সেস দেওয়ার জন্যে এবং শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আসার ক্ষেত্রে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে সরকারকে যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। যদিওবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল বিষয়টিকে জাতির কাছে স্পষ্ট করেননি।

বর্তমান সরকারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে—পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা। জামায়াত, এনসিপিসহ জুলাই আন্দোলনের সমর্থক গোষ্ঠী সকলেরই চাওয়া পাওয়া ড. ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট করা হোক। কিন্তু সেটা হবে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কারণ ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পরে ১৮ মাসে মার্কিন আগ্রাসনকে বাংলাদেশে সুগম করার জন্যে প্রাথমিক সব কাজই তিনি করে গিয়েছেন; যা নির্বাচনের ০৩ দিন আগে আমেরিকার সাথে করা চুক্তি থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিওবা এই সরকার এমনকি বিরোধীদল বা এনসিপির পক্ষ থেকেও সেই চুক্তি বাতিলের দাবিতে জাতীয় সংসদে কোন ডিবেট হয়নি। কারণ আমরা বুঝতে পারি, এসব কিছুই পাতানো খেলা। অনাকাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার— এই ইস্যুতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস সংসদ ব্যস্ত ছিল। কিন্তু চুক্তি নিয়ে কোন বিতর্কই হয়নি। কোন বিতর্ক সরকারও করেনি, বিরোধী দলেরও এই বিষয়ে কোন সদিচ্ছা ছিল বলে— আমার মনে হয় না। ড. ইউনূসকে যদি কোনভাবে প্রেসিডেন্ট বানানো যায়, তাহলে আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি, বর্তমান সরকার তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে পারবে না— তা শতভাগ নিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ।

তাহলে প্রেসিডেন্ট কাকে দেওয়া উচিত?
অনেকেই বিএনপির ফখরুলের কথা বলে, কেউ আবার ড. মঈনের কথা বলে। বিএনপির চেয়ারপার্সন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট মনে রাখতে হবে, কোনো বাম কিংবা ডানের বাম কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা নাই, এমন কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বানানো বিএনপির সবচেয়ে বড় আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত হবে; যা নিছক নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছুই না।

আপাতত দৃষ্টিতে আমি মনে করি, বর্তমানে যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন; তাকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সকল মহলের পক্ষ থেকেই বিএনপি সমর্থন পাবে এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতাও জাতি মেনে নিবে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এই সকল সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য বর্তমান সরকারের যে ধরনের গোয়েন্দা তৎপরতা প্রয়োজন, think-tanks ও পলিসি মেকার দরকার—তা আছে বলে আমার মনে হয় না। মা-র্কি/ন ডিপ স্টেটকে মোকাবিলা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হলে, যারা C -IA এবং মো -সা/দের টুটি চেপে ধরতে পারে, পৃথিবীর দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্কের এমআইটির সহযোগিতা বর্তমান সরকার নিতে পারে এবং তাদের সাথে রাজনৈতিক চিন্তার বিনিময়ও করা যেতে পারে। আপাত দৃষ্টিতে আমার মনে হয়, এই চ্যালেঞ্জ গুলো মোকাবিলা করাই বিএনপির সবচেয়ে বড় কাজ। ___ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।