রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ‘৫০ লাখ টাকা খরচ’ করার ফোনালাপ ভাইরাল
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ওই কলরেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে তিনি ৫০ লাখ টাকা খরচ করেছেন।
একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে না পারাকে কেন্দ্র করে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় পলাশ এসব মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
ভাইরাল কলরেকর্ডে গিয়াস উদ্দিন পলাশকে অনুষ্ঠানের ব্যানারে তার নাম প্রধান অতিথি হিসেবে না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে তিনি নিজের দলীয় পদ ও নির্বাচনে অর্থ খরচের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তিনি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ওই পদে নির্বাচিত হতে ৫০ লাখ টাকা খরচ করেছেন।
কলরেকর্ডে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, তিনি পানিওয়ালা এলাকায় যাবেন না এবং পৌরসভায় অন্যদেরও না আসার কথা বলেন। এ সময় সাংগঠনিক রাজনীতিতে তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়ার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফোনালাপের একপর্যায়ে অপরপ্রান্তে থাকা তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া পলাশের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে একাধিকবার ‘আমি কিছু বলিনি’ বলতে শোনা যায়। পরে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। কলরেকর্ডের কিছু অংশে অপ্রকাশযোগ্য কথাও রয়েছে।
এ বিষয়ে তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি পুরোনো। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দলের সিনিয়র নেতারা বসে এর সমাধান করে দিয়েছেন। পলাশ তার কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছেন।
তবে গিয়াস উদ্দিন পলাশের বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পলাশের ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, ঘটনার সময় পলাশ উত্তেজিত ছিলেন। পরে তাদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে শেখ কামরুল ইসলাম সভাপতি এবং গিয়াস উদ্দিন পলাশ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]