খুঁজুন
, ,

সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে পিটিয়ে থানায় নিলেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও অনুসারীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে পিটিয়ে থানায় নিলেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও অনুসারীরা

আটক মাদকসহ মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ায় সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সংবাদ করার জেরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে এক সাংবাদিককে পিটিয়ে থানায় নিয়ে গেছেন স্থানীয় বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শাহিন শিকদার ও তার অনুসারীরা। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের সহায়তায় ওই সাংবাদিককে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শহরে এ ঘটনা ঘটে। ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাংবাদিকের ওপর হামলা করে উল্টো তাকেই থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে বিএনপি নামধারী অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে বহিষ্কৃত ওই নেতার অপকর্মের দায় নিতে নারাজ স্থানীয় বিএনপি। তারা এ ঘটনায় আইনি সুরাহা দাবি করেছেন।

হামলার শিকার সাংবাদিকের নাম মাইদুল ইসলাম। তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল “উলিপুর ডটকম”, ‘তালাস বিডি’র ও জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার এবং জাতীয় দৈনিক গণকন্ঠ এর ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রতিনিধি।

মাইদুল ইসলাম জানান, দুই দিন আগে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শাহিন সিকদারের বাড়ির সামনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মাদকসহ এক ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা করে। ওই ব্যক্তি মাদকসহ মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। মাদকগুলো স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের জিম্মায় এবং মোটরসাইকেলটি শাহিন শিকদারের ভাইয়ের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে শাহিন শিকদারের হস্তক্ষেপে সেই মাদক ও মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে শুক্রবার সাংবাদিক মাইদুল সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে চরম ক্ষুব্ধ হন শাহিন শিকদার ও তার অনুসারীরা। এরপর শাহিন শিকদারের নেতৃত্বে তার নেতাকর্মীরা শুক্রবার সন্ধ্যায় অতর্কিত সাংবাদিক মাইদুলের উপজেলা শহরের দোকানে হামলা করে তাকে পেটাতে থাকেন।

এ সময় শাহিন শিকদার ও তার ছেলে মাইদুলকে দোকানের মেঝেতে ফেলে তার গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেন। এরপর পেটাতে পেটাতে তাকে থানাতে নিয়ে যান। তাকে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করানোর হুমকি দিয়ে থানায় আটকে রাখে। কিন্তু পুলিশ তাদের প্ররোচণা ও চাপে সাড়া না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মামলা দিতে পারেনি। স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশি সহযোগিতায় প্রায় আড়াই ঘন্টা পর মাইদুলকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিক মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার এশার আজানের কিছু সময় পর হুট করে শাহিন সিকদার ও তার নেতাকর্মীরা আমার দোকানে হামলা করে আমাকে পেটাতে থাকে। আমার ঘাড়ে ও গলায় আঘাত করে। আমাকে পেটাতে পেটাতে থানাতে নিয়ে যায়। তারা আমার নামে চাঁদাবাজির মামলা দিতে চায়। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের সহযোগিতায় আমি ছাড়া পাই। এখনও আমি প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি। আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে ঘটনা নিয়ে সংবাদ করেছি তা এলাকার সবাই জানেন। শাহিন শিকদারের হস্তক্ষেপে মোটরসাইকেল ও মাদক ছেড়ে দেওয়ার যে অভিযোগ, তাও সবার জানা। আমি শুধু সংবাদ করেছি। এজন্য আমার উপর হামলা করা হয়েছে। আমি বিচারও চাই না। কার কাছে বিচার চাইবো!’

মাইদুলের সংবাদ প্রতিবেদনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভূরুঙ্গামারী পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শাহিন শিকদারের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ শাহিন শিকদার এলাকার প্রভাশালী। তার বাড়ির সামনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মাদকসহ মোটরসাইকেল আটক করেছিল। শাহিন শিকদারের হস্তক্ষেপে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এটা সবাই জানে। কিন্তু শাহিন শিকদার সেটা স্বীকার করছেন না।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা শাহিন সিকদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা। সাংবাদিক আমার অনেক ক্ষতি করেছে। তাকে আমি পেটাইনি। তবে তাকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। পরে সবার অনুরোধে আমি মামলা করিনি। তাকে ছেড়ে দিতে বলেছি।’

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রিগান। তিনি বলেন, ‘সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে কারও অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে প্রতিবাদ কিংবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এভাবে একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আবার তুলে নিয়ে থানায় দেওয়া ঘটনার ভয়াবহতার স্পষ্ট বার্তা দেয়। অভিযুক্তরা যে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টায় আছে, এ ঘটনা তার একটি নমুনা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।’

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মণ্ডল এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতো। কিন্তু ছেলেটাকে পিটিয়ে করুণ অবস্থা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা। তার দায় দল নেবে না।’

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি থেকে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। ওই সাংবাদিককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করেছি। কোনও পক্ষ থেকে মামলা হয়নি।’

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।