খুঁজুন
, ,

গাজীপুরের গাছায় ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত

শেখ মোরশেদ আলম জিসান
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
গাজীপুরের গাছায় ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত

যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। এর অংশ হিসেবে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানার উদ্যোগে কলমেশ্বর এলাকায় কাবাডি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
একই দিনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন অন্যান্য থানাতেও কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করে পরবর্তী সময়ে থানা পর্যায়ের দল গঠন এবং মহানগর পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে বলে আয়োজকরা জানান।
গাছা থানায় অনুষ্ঠিত খেলায় মুখোমুখি হয় জাহাঙ্গীর হাজারী একাদশ ও কলমেশ্বর একাদশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় জাহাঙ্গীর হাজারী একাদশ জয়লাভ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার, অপরাধ দক্ষিণ বিভাগ মো. শফিক, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এরশাদুর রহমান এবং গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী।
এ ছাড়া জিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাছা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান বাবুল সিপাহী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাজারী, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মোমিনুর রহমান মমিন, গাছা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নাঈম মাস্টার, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. হাশেমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে তাদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। তাই স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি এবং মাঠগুলোকে সচল রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূল শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
গাছা থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী বলেন, একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গঠনে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “খেলা ফিরিয়ে আনতে হবে। যুব সমাজকে মাদক থেকে ফিরিয়ে এনে মাঠমুখী করতে হবে। তাহলেই গড়ে তোলা যাবে নতুন স্বাধীন বাংলাদেশ।”
তিনি আরও বলেন, তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কিশোর ও যুবকদের অপরাধপ্রবণতা কমাতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় অনুষ্ঠিত ম্যাচ থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করে পরবর্তী ধাপে মহানগর পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
দিকনির্দেশনায়: উপ-পুলিশ কমিশনার, অপরাধ দক্ষিণ বিভাগ, মো. শফিক।
তত্ত্বাবধানে: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।
আয়োজনে: গাছা মেট্রোপলিটন থানা পুলিশ।

ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা: দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার, অপেক্ষায় পরিবার

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা: দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার, অপেক্ষায় পরিবার

একজন মানুষকে চোর সন্দেহ করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। তাকে খাবারও খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু সেই রাতেই আবার শুরু হয় নির্যাতন। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের একটি কক্ষে প্রাণ হারান তোফাজ্জল হোসেন।

সেই ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি বিচার। ২৮ আসামির বিরুদ্ধে পিবিআই অভিযোগপত্র দিলেও তাদের মধ্যে ১৭ জন এখনো পলাতক বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য ও মামলার সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে জানা গেছে। পলাতকদের গ্রেপ্তার করা গেছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

তোফাজ্জলের পরিবারের কাছে এই দীর্ঘ অপেক্ষা শুধু একটি মামলার তারিখ নয়, একজন স্বজনকে হারানোর পর ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষা।

মামাতো বোন আসমা আক্তার তানিয়া বলেন, “দুই বছর হয়ে গেছে, এখনো বিচার শুরু হয়নি। আমাদের তো একটা ক্ষোভ থাকতেই পারে। আমরা বিচার চাই।”

যে রাতে থেমে যায় তোফাজ্জলের জীবন

২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন তোফাজ্জল হোসেন। অভিযোগ করা হয়, তিনি মোবাইল ফোন চুরি করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ধরে হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ানো হয়।

কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি ঘটনা।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের আরেকটি অতিথি কক্ষে নেওয়া হয়। জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে তাকে আবার মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ভিডিওতে তোফাজ্জলকে নির্যাতনের আগে খাবার খাওয়ানোর দৃশ্যও দেখা যায়। সেই দৃশ্যটি পরে মামলার ঘটনাপ্রবাহের অন্যতম আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে।

ফোন করেছিলেন তানিয়া, চেয়েছিলেন শুধু ছেড়ে দিতে

তোফাজ্জলকে মারধরের খবর পেয়ে তার মামাতো বোন তানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর নম্বরে ফোন করেছিলেন বলে মামলার বর্ণনায় এসেছে।

তিনি জানিয়েছিলেন, তোফাজ্জল মানসিকভাবে অসুস্থ। তাকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়।

তানিয়ার অভিযোগ, তার অনুরোধের পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

একজন স্বজনের শেষ চেষ্টা ছিল একটি ফোনকল। কিন্তু সেই ফোনকল তোফাজ্জলকে আর ফিরিয়ে আনতে পারেনি।

দুই বছরেও বিচার শুরু হয়নি

তোফাজ্জল হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের শেষ দিকে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নারাজির পর আদালত পিবিআইকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

পুনঃতদন্ত শেষে পিবিআই ২৮ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২৬ সালের ১০ মার্চ আদালত সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দুই আসামি কারাগারে এবং নয়জন জামিনে রয়েছেন। বাকি ১৭ জন এখনো পলাতক। পলাতকদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

তদন্ত শেষ, এখন অপেক্ষা আদালতের

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শেষে ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এখন পলাতকদের গ্রেপ্তারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট থানার।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হলে তা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদন এখনো আসেনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

তোফাজ্জল শুধু একটি মামলার নাম নয়

তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে। বরিশাল বিএম কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছিলেন তিনি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা-মা দুজনকেই হারানোর পর তার মানসিক স্বাস্থ্যে সমস্যা দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা তার চিকিৎসা ও দেখাশোনা করতেন।

২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের রাত সেই পরিবারের জন্য সবকিছু বদলে দেয়।

আজ দুই বছর পরও আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রশ্ন—তোফাজ্জলের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচার কবে শুরু হবে?

পরিবারটির অপেক্ষা এখন একটি তারিখের জন্য নয়, ন্যায়বিচারের জন্য।

আর ২৮ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত তারিখে পলাতক আসামিদের বিষয়ে আদালতে কী প্রতিবেদন আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পরিবার ও মামলার সংশ্লিষ্টরা।

ডাকসুর বরাদ্দের এক পয়সাও নিইনি: সাদিক কায়েম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
ডাকসুর বরাদ্দের এক পয়সাও নিইনি: সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, ভিপি, জিএস ও এজিএসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া অর্থের কোনো অংশই তারা গ্রহণ করেননি। ডাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডাকসু নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ডাকসু ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, ‘অডিট রিপোর্ট গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সেই অডিট রিপোর্ট আপনাদের কাছে পেশ করা হবে। আমরা ডাকসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর ফাইন্যান্সিয়াল ট্রান্সপারেন্সি শতভাগ নিশ্চিত করেছি। ডাকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস, আমরা কেউই ডাকসু থেকে একটি পয়সাও গ্রহণ করিনি। আমাদের অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি জিরো।’

সাদিক কায়েম আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাকসু নেতাদের জন্য যে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তারা গ্রহণ করেননি। কার্যনির্বাহী সদস্যরাও ডাকসুর আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করেছেন। অডিটের মাধ্যমে এসব হিসাবের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিকভাবে আমাদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা সে সময় ক্ষমতায় থাকতে চাই না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের রূপরেখা ও তফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচন হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই ক্যাম্পাসে নেতৃত্ব দেবেন। আমরা এখানে কেউ ক্ষমতার চেয়ার আঁকড়ে বসে থাকতে চাই না।’

এ বিষয়ে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের জন্য যে বরাদ্দ ছিল, তা আমরা গ্রহণ করিনি। আমাদের জন্য দেওয়া বরাদ্দ আমরা নাকচ করেছি। চাইলে আমরা নিতে পারতাম, নিইনি।’

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সাদিক-ফরহাদ নেতৃত্বাধীন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায়। নির্বাচনের এক বছর পূর্তি হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। তবে নির্বাচিত নেতারা শপথ নেন ১৪ সেপ্টেম্বর।

কুমিল্লায় বোন-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা, মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার-৩

এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় বোন-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা, মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার-৩

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন- আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম এবং তার পালিত মেয়ে ইতি।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরনে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিহত খালেদা আক্তারের সঙ্গে তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার জায়গা-জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই সূত্র ধরে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালান আবু মিয়া। হামলার একপর্যায়ে তিনি ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে দুজনকে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার পরপরই অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে প্রথমে আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত মেয়ে ইতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় চলন্ত একটি ট্রেন থেকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।