পাকুন্দিয়ায় খাল খননকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন
পাকুন্দিয়া উপজেলা-এর এগারসিন্দুর ইউনিয়নে খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণ খামা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলডুবা-খামা সংযোগ খাল খননের অংশ হিসেবে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন-এর উদ্যোগে সকাল ৮টার দিকে স্বেচ্ছাশ্রমে খননকাজের উদ্বোধন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, খননকাজ চলাকালে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন-এর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে কাজে বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সম্পাদক আজিজুল হাকিম মীর দাবি করেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে তারা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোক্তা খন্দকার আল আশরাফ মামুন বলেন, “খাল খনন একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়নের সময় বিএনপির নামধারী কিছু ব্যক্তি হামলা চালায়, এতে আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের নেতা খুরশিদ উদ্দিন ও রবিউল আলম বলেন, তারা হামলা করেননি। তাদের দাবি, খালটি সরকারিভাবে খননের জন্য আবেদন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে যেভাবে কাজ হচ্ছে তা সঠিক নয়। তারা অভিযোগ করেন, ব্যক্তিস্বার্থে নামমাত্র কাজ করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস এবং পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস জানান, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং আপাতত খাল খনন কার্যক্রম চলমান থাকতে পারে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “এ ঘটনায় আমার কোনো লোকজন জড়িত নয়। এটি খাল খনন নয়, বরং পরিষ্কার করা হতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনও জানে না, আমিও অবগত নই।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]