মাদকমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে এ্যাবাক পাবলিক স্কুলে মাদকবিরোধী কর্মশালা
তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা এবং একটি সুস্থ, সচেতন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ্যাবাক পাবলিক স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী “মাদকবিরোধী কর্মশালা”। কর্মশালাটির আয়োজন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে বিওয়াইএফসি (BYFC)।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ্যাবাক পাবলিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মোঃ হাচনাইন জিসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ রিফাত হোসেন, সহকারী পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় ঢাকা। বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন ডক্টর পিটার তাপস হালদার, জাতীয় পরিচালক, বিওয়াইএফসি (BYFC), যিনি কর্মশালার মেন্টর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের সামনে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব, এর সামাজিক ও পারিবারিক বিপর্যয়, শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ চিহ্নিতকরণ এবং মাদক প্রতিরোধে শিক্ষকদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করা হয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে মাদক শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
প্রধান অতিথি মুহাম্মদ রিফাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রণী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
ডক্টর পিটার তাপস হালদার বলেন, “শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশই পারে মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।” তিনি তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ হাচনাইন জিসান বলেন, এ্যাবাক পাবলিক স্কুল শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
“মাদককে না বলি, সুস্থ-সুন্দর আগামী প্রজন্ম গড়ি”— এই বার্তায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো কর্মশালা।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]