খুঁজুন
, ,

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন উদ্ধার হওয়া এক লাখ ইয়াবা গায়েব, বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয় ওসির নির্দেশে

আবির হোসেন সান (এমটিভি বাংলা)
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন উদ্ধার হওয়া এক লাখ ইয়াবা গায়েব, বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয় ওসির নির্দেশে

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরে আসার পথে পুলিশের এক সদস্যের কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে নগরের বাকলিয়া থানা-পুলিশ। তবে এ ঘটনায় মামলা না করে হাতিয়ে নেওয়া হয় উদ্ধার করা ইয়াবা বড়ি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয় বহনকারীকে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন ওসি।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের করা এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ প্রতিবেদন গত ২৯ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

এ ঘটনার প্রায় ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মামলার সুপারিশ করা হয়। আত্মসাৎ হওয়া ইয়াবা বড়িও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি গ্রেপ্তার হননি ইয়াবা পাচারে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য।
ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। যাঁর কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার হয়, তাঁর সঙ্গে আরেক ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে প্রধান করে পুলিশের ওই তদন্ত কমিটি করা হয়।

ঘটনার সময় বাকলিয়া থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন আফতাব উদ্দিন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আট পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হলেও ওসি আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল-আমিন সরকার, এসআই মো. আমির হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, এএসআই জিয়াউর রহমান, এএসআই সাদ্দাম হোসেন, এএসআই এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল হাসান ও কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না।

ইয়াবার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি আত্মসাৎ করিনি। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম।
আফতাব উদ্দিন, তৎকালীন ওসি, বাকলিয়া থানা
যে পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করার অভিযোগ উঠেছে, তাঁর নাম ইমতিয়াজ হোসেন। কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান ছিলেন তিনি। ঘটনার পর তাঁকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ এ ঘটনায় ৯ জুন বাকলিয়া থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা তানভীর আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রায় ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মামলার সুপারিশ করা হয়। আত্মসাৎ হওয়া ইয়াবা বড়িও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি গ্রেপ্তার হননি ইয়াবা পাচারে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে ওসিকে অভিযুক্ত করে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৬ ধারার বিধান অনুযায়ী মাদকদ্রব্য–সংক্রান্ত অপরাধগুলো আমলযোগ্য অপরাধ। তা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে মাদকসহ আটকের পর ওসি মামলা না করে পিআরবির (বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান) ২৪৪ বিধি লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশ আইনের ২৯ ধারার অপরাধ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকলিয়া থানার তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিন ইয়াবা গায়েবের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংরক্ষণ করেননি। অভিযানে থাকলেও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ ওসির নির্দেশে ইয়াবা বহনকারীকে ছেড়ে দেন। পরিদর্শক তানভীরের সঙ্গে অভিযানে ছিলেন বাকলিয়া থানার আরও আট পুলিশ সদস্য। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ফৌজদারি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মামলার সুপারিশ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, মাদক উদ্ধারের অপরাধটি আমলযোগ্য হলেও সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়ে অপরাধ করেছেন। ফৌজদারি মামলা করে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা, আলামত উদ্ধার হওয়া সত্ত্বেও কেন এফআইআর (এজাহার) ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত হয়নি, তা তদন্ত করা উচিত। মাদক গোপনে হস্তান্তর করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে কোনো বেআইনি সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, এসব বিষয়ও জানতে হবে।

যেভাবে আত্মসাৎ করা হয় ইয়াবা

ছয় পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনস্টেবল ইমতিয়াজ কক্সবাজারের মো. মোশাররফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবাভর্তি একটি লাগেজ ঢাকাগামী একটি বাসে করে নিয়ে আসেন। এর বিনিময়ে তাঁকে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। দেশ ট্রাভেলসের (ঢাকা মেট্রো ব ১৫-১৬৪২) বাসটি কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু পার হওয়ার পর বাকলিয়া থানার এএসআই সাদ্দাম হোসেন ও সাদাপোশাকে থাকা পুলিশের এক সোর্স বাসটিতে ওঠেন। তখন তাঁরা বাসে ঘুমন্ত যাত্রী ইমতিয়াজকে জাগিয়ে তোলেন। ওই সময় তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেন এবং তাঁর পরিচয়পত্র দেখান। এরপর ইমতিয়াজকে বাস থেকে নামিয়ে পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর দুই পুলিশ সদস্য এসে বাস থেকে ইমতিয়াজের লাগেজটি পুলিশ বক্সে নিয়ে যান। ওই সময় বাসের সুপারভাইজার মো. মিজান পুলিশ বক্সে গেলেও এসআই আমির হোসেন তাঁকে বাস নিয়ে চলে যেতে বলেন। তখন চালক মো. সুলতান গাড়ি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে চলে যান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ বলেন, পুলিশ বক্সে সাদাপোশাকে বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই আল–আমিন সরকার দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন। পুলিশ বক্সের ভেতর ইমতিয়াজের লাগেজটি খোলেন সাদাপোশাকে থাকা পুলিশের সোর্স। লাগেজ সামান্য খুলে ভেতরে ইয়াবা দেখতে পেয়ে আবার লাগেজের মুখ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ইমতিয়াজ তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন। পরে ইমতিয়াজের সামনে লাগেজের ভেতর থেকে ইয়াবার প্যাকেটগুলো খোলা হয়। প্রতি প্যাকেটে ১০ হাজার করে ১ লাখ ইয়াবা ছিল।

পরে পুলিশ সদস্যরা সব ইয়াবা নিজেদের দখলে নিয়ে কাপড়চোপড়সহ লাগেজটি ইমতিয়াজকে দিয়ে দেন। তিনি পুলিশ বক্স থেকে বেরিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে নগরের অলংকার মোড় বাসস্ট্যান্ডে যান। সেখান থেকে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিনের নির্দেশেই ইয়াবা বড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। জানতে চাইলে আফতাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইয়াবার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি আত্মসাৎ করিনি। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম।’

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই আল–আমিন সরকার, আমির হোসেন, এএসআই সাদ্দাম হোসেন, কনস্টেবল ইমতিয়াজের কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়া এবং আত্মসাৎ করে অপরাধ করেছেন। এ ছাড়া এএসআই সাইফুল আলম, জিয়াউর রহমান, এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল, উম্মে হাবিবা স্বপ্না পুলিশ সদস্যদের অবৈধ কার্যকলাপে সহযোগিতা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি মিথ্যাচার করে অপরাধ করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের এবং তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ইয়াবা উদ্ধার, ইয়াবা সরবরাহকারী মোশাররফকে গ্রেপ্তার, তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের সঙ্গে থাকা সাধারণ চেকারদের নাম-ঠিকানা উদ্‌ঘাটন করতে সুপারিশ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আটজনকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছিল। পরে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ফৌজদারি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মামলার সুপারিশও করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। এ ছাড়া বাকলিয়া থানার তৎকালীন ওসি ও পরিদর্শক তদন্তকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয় পুলিশ সদর দপ্তরে। এরপর ৯ জুন বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত তানভীর আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানার আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এটির তদন্ত করছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আটজনের বিরুদ্ধে এখনো তদন্ত চলছে।’

উল্লেখ্য, কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কমিশনার কিংবা পুলিশ সুপার বরখাস্ত করতে পারেন। পরিদর্শককে বরখাস্ত করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।

আত্মসাৎ করা এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার না হওয়া এবং নিয়মিত মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য যোগ দেওয়া নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইয়াবা গায়েবে এত দিন কেন নিয়মিত মামলা হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।