খুঁজুন
, ,

সাভারে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প দেখিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা উত্তোলন, তদন্ত কমিটি গঠন

মোঃ রবিউল ইসলাম সিয়াম সাভার, ঢাকা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
সাভারে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প দেখিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা উত্তোলন, তদন্ত কমিটি গঠন

 

 

সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামসিং জয়পাড়া এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পে কোনো ধরনের অর্থ প্রদানের নিয়ম না থাকলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেন নির্মাণের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পরও দীর্ঘদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তবে এক সচেতন নাগরিকের লিখিত আবেদনের পর অবশেষে সাভার পৌর প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সাভার পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, পৌর প্রশাসকের নির্দেশে বুধবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কে এম শহিদুজ্জামান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহানারা আক্তার, পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ছামসুদ্দিন এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা আল মামুন।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাভার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ আলম মিয়া জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় জামসিং জয়পাড়া এলাকায় দুটি উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটার ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণ।
৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪০ টাকা ব্যয়ে ৩৫০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রকল্পকে পুঁজি করে একটি চক্র মসজিদের মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালায় যে, পৌরসভার প্রকৌশলীদের মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে ড্রেন নির্মাণ হবে না। এভাবেই সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা সংগ্রহ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বাইতুল মামুর কেরামাতিয়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি খন্দকার ফরহাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ হাজী মো. শামসুদ্দিন, তার ছেলে হাসান মাহমুদ প্রিন্স, স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও মাসুমসহ কয়েকজন মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলে।

তারা বাড়ি প্রতি ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। কেউ কেউ ধার-দেনা করেও টাকা দিয়েছেন। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, এভাবে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ প্রিন্স দাবি করেছেন, তারা মোট ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা তুলেছেন এবং প্রকল্প অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে সেই টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সাভার পৌরসভার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেনকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সাভারজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে অভিযুক্তরা উল্টো ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে।

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী ইমদাদুল হক মঙ্গলবার সাভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এর একদিন পরই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মুন্নি আক্তার, আকলিমা আক্তার ও জাহাঙ্গীর আলমসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, আমরা মনে করেছিলাম আমাদের দেওয়া টাকায় ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে। এখন জানতে পারছি পুরো প্রকল্পই বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাহলে আমাদের কাছ থেকে কেন টাকা নেওয়া হলো? আমরা আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চাই এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে পৌরসভার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা না রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারে। এতে তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। ফলে এখন সবার নজর তদন্ত কমিটির কার্যক্রম ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।