কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মিলছে না থার্মোমিটারও! চরম ভোগান্তিতে রোগীরা, বাইরে থেকে কিনে আনতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনরা
শরীরের তাপমাত্রা কত—এটুকু জানার মতো সামান্য ব্যবস্থাটুকুও নেই জেলার সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্রে! শুনতে অবাক লাগলেও, পুরো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের বর্তমান চিত্র এটাই।
জীবন বাঁচাতে কিংবা একটু সুস্থতার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে এই সরকারি হাসপাতালে ছুটে এসেছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, গোটা হাসপাতালেই ভর্তি থাকা অসুস্থ রোগীদের জ্বর মাপার মতো একটি কার্যকর থার্মোমিটারও নেই!
বাইরের ফার্মেসিতে ছুটছেন স্বজনরা
অসুস্থ রোগীর শরীরে হঠাৎ জ্বর এলে বা তাপমাত্রা পরিমাপ করার প্রয়োজন হলে নার্স কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে মিলছে না পর্যাপ্ত সেবা। হাসপাতালে থার্মোমিটার না থাকায় চরম বিপাকে পড়ছেন স্বজনরা। বাধ্য হয়ে কড়া রোদে কিংবা গভীর রাতেও তাদের ছুটতে হচ্ছে বাইরের ফার্মেসিতে—শুধু একটা থার্মোমিটার কিনে আনার জন্য।
রোগীর এক স্বজন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
”হাসপাতালে এসেছি চিকিৎসার আশায়। কিন্তু এখানে একটা জ্বর মাপার থার্মোমিটার পর্যন্ত নেই! মধ্যরাতে রোগীর শরীর পুড়ে যাচ্ছে, অথচ বলা হচ্ছে বাইরে থেকে থার্মোমিটার কিনে আনতে। সরকারি হাসপাতালে এসে যদি থার্মোমিটারও বাইরে থেকে কিনতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?”
ওষুধের সংকট ও প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্যসেবা
শুধু থার্মোমিটার সংকটই নয়, রোগীদের অভিযোগের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের দাবি—প্রাথমিক দু-একটি সাধারণ ওষুধ ছাড়া প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
প্রতিবছর সরকারি পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও অনুদান পাওয়ার পরও কেন সাধারণ একটি থার্মোমিটার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের এই সর্বাত্মক সংকট—তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসাধীনদের মনে দানা বাঁধছে ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ।
একটি জেলার প্রধান সরকারি হাসপাতালে সামান্য থার্মোমিটারের অভাব কেবল অব্যবস্থাপনাই নয়, অসহায় মানুষের সেবায় এক চরম অবহেলা। অতি দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এই সংকটের নিরসন চান ভুক্তভোগীরা।
জরুরি ভিত্তিতে পুরো হাসপাতালে পর্যাপ্ত থার্মোমিটার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করছেন রোগী ও তাদের পরিবার।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]