খুঁজুন
, ,

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মিলছে না থার্মোমিটারও! চরম ভোগান্তিতে রোগীরা, বাইরে থেকে কিনে আনতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনরা

​আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মিলছে না থার্মোমিটারও! চরম ভোগান্তিতে রোগীরা, বাইরে থেকে কিনে আনতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনরা

​শরীরের তাপমাত্রা কত—এটুকু জানার মতো সামান্য ব্যবস্থাটুকুও নেই জেলার সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্রে! শুনতে অবাক লাগলেও, পুরো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের বর্তমান চিত্র এটাই।
​জীবন বাঁচাতে কিংবা একটু সুস্থতার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে এই সরকারি হাসপাতালে ছুটে এসেছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, গোটা হাসপাতালেই ভর্তি থাকা অসুস্থ রোগীদের জ্বর মাপার মতো একটি কার্যকর থার্মোমিটারও নেই!
​বাইরের ফার্মেসিতে ছুটছেন স্বজনরা
​অসুস্থ রোগীর শরীরে হঠাৎ জ্বর এলে বা তাপমাত্রা পরিমাপ করার প্রয়োজন হলে নার্স কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে মিলছে না পর্যাপ্ত সেবা। হাসপাতালে থার্মোমিটার না থাকায় চরম বিপাকে পড়ছেন স্বজনরা। বাধ্য হয়ে কড়া রোদে কিংবা গভীর রাতেও তাদের ছুটতে হচ্ছে বাইরের ফার্মেসিতে—শুধু একটা থার্মোমিটার কিনে আনার জন্য।

​রোগীর এক স্বজন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
​”হাসপাতালে এসেছি চিকিৎসার আশায়। কিন্তু এখানে একটা জ্বর মাপার থার্মোমিটার পর্যন্ত নেই! মধ্যরাতে রোগীর শরীর পুড়ে যাচ্ছে, অথচ বলা হচ্ছে বাইরে থেকে থার্মোমিটার কিনে আনতে। সরকারি হাসপাতালে এসে যদি থার্মোমিটারও বাইরে থেকে কিনতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?”

​ওষুধের সংকট ও প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্যসেবা
​শুধু থার্মোমিটার সংকটই নয়, রোগীদের অভিযোগের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের দাবি—প্রাথমিক দু-একটি সাধারণ ওষুধ ছাড়া প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

​প্রতিবছর সরকারি পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও অনুদান পাওয়ার পরও কেন সাধারণ একটি থার্মোমিটার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের এই সর্বাত্মক সংকট—তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসাধীনদের মনে দানা বাঁধছে ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ।
​

​একটি জেলার প্রধান সরকারি হাসপাতালে সামান্য থার্মোমিটারের অভাব কেবল অব্যবস্থাপনাই নয়, অসহায় মানুষের সেবায় এক চরম অবহেলা। অতি দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এই সংকটের নিরসন চান ভুক্তভোগীরা।

​জরুরি ভিত্তিতে পুরো হাসপাতালে পর্যাপ্ত থার্মোমিটার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করছেন রোগী ও তাদের পরিবার।

গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ও কারখানায় হামলা-ভাঙচুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ও কারখানায় হামলা-ভাঙচুর

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বেশ কয়েকটি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে আশপাশের কয়েকটি চালু কারখানায়ও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল আনসার রোড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কে চলাচলরত বেশ কয়েকটি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে আশপাশের উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকা কয়েকটি কারখানায়ও হামলার ঘটনা ঘটে।

হঠাৎ এ হামলার ঘটনায় কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করে।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা সেখান থেকে সরে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

টেকনাফে এসআরবি-১৫-এর বড় অভিযান: ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও ৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
টেকনাফে এসআরবি-১৫-এর বড় অভিযান: ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও ৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও পাঁচটি দেশীয় তৈরি অস্ত্রসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার গ্রামের আঠারো ঘরপাড়া এলাকায় সীমান্তসংলগ্ন একটি ধানক্ষেতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসআরবি-১৫-এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি চক্র সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার এলাকায় অবস্থান করছে। পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের নাইখংখালী এলাকার সলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আবছার উদ্দীন (১৯) এবং মৌলভীবাজার এলাকার ছলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আদিল (২৬)।

এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের মাধ্যমে বড় বড় ইয়াবার চালান দেশে প্রবেশ করছে। এসব মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এসআরবি-১৫-এর ৫৫টি অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা, ৪৮ কেজি গাঁজা, একটি একনলা বন্দুক, দুটি ওয়ান শুটারগান, ১৭ রাউন্ড গুলি ও ২৭ রাউন্ড গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতজন অপহৃত ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং মোট ৮৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অধিনায়ক বলেন, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নির্মূলে এসআরবি-১৫-এর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে পর্যায়েরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে বাহিনী বদ্ধপরিকর।

গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

শৈলকূপাতে দুই নারী ছিনতাইকারী আটক

এইচ এম রাহুল ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
শৈলকূপাতে দুই নারী ছিনতাইকারী আটক

 

ঝিনাইদহের শৈলকূপা বাজারে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে চক্রের দুই নারী সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ছিনতাইকারী দুইজন জামালপুর জেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তাকতাপাড়া গ্রামের ফরিদা বেগম (২১) এবং একই গ্রামের নিপা আক্তার (২৬) । তারা উভয়েই বেদে সম্প্রদায়ের ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসহাক হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শৈলকূপা বাজারের পূবালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে আসেন। ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা উত্তোলন শেষে বের হয়ে পুরাতন সোনালী ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্য তাকে ঘিরে ধরে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বৃদ্ধ ইসহাকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে চক্রের দুই সদস্য পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা দুই নারী সদস্যকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, জনতার হাতে আটক দুই নারীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।