স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে বিএনপি নেতা ডালিমের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ
ভালোবাসার সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক অসহায় নারীকে প্রতারণা, কাবিননামা না করা এবং পরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিএম ডালিমের বিরুদ্ধে। স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার দাবিতে এখন বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী ফারজানা আকতার কানন।
ফারজানা আকতার কানন মানিকগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতায় থাকা কাননের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ মে ডালিমের ব্যক্তিগত গাড়িচালকের মাধ্যমে পরিচয় হয় বলে অভিযোগে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, পরিচয়ের পর বিএম ডালিম তার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তাকে বিয়ে করে নতুন সংসার করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
কাননের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১০ মে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। পরে কাজি ডেকে কাবিননামা রেজিস্ট্রি করার কথা থাকলেও তা আর করা হয়নি। এরপর তারা আফতাবনগর ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ফ্ল্যাটে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে কিছুদিন পর সামাজিকভাবে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি ও কাবিননামা সম্পন্ন করার জন্য চাপ দিলে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ করেন কানন। তার দাবি, এরপর থেকেই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। এ ঘটনায় ডালিমের আরেক স্ত্রী রোমানা বেগমের বিরুদ্ধেও নির্যাতনে সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, তাকে ঢাকার একটি বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং তার ভরণপোষণ ও খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিচার চাইতে গেলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
কাননের দাবি, অভিযুক্তের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি ন্যায়বিচার পেতে বাধার মুখে পড়ছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তার।
ভুক্তভোগী ফারজানা আকতার কানন বলেন, “আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ডালিম আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখন আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কোনো আর্থিক সহায়তা বা ভরণপোষণ দেওয়া হচ্ছে না। আমি আমার প্রাপ্য স্ত্রীর স্বীকৃতি এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা চাই।”
এদিকে, বিএম ডালিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
দলীয় নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা ও আইনগত অবস্থান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সামাজিকভাবে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তবে বিএম ডালিমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]